খুলনার বটিয়াঘাটায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৩০ নম্বর পোল্ডারের সরকারি জমি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে জেএমআই গ্যাস কোম্পানির বিরুদ্ধে।
একাধিকবার আইনি নোটিশ জারি এবং উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও রহস্যজনক কারণে বারবার থমকে যাচ্ছে অভিযান। সর্বশেষ উচ্ছেদ অভিযানেও ঘটনাস্থলে গিয়ে ফিরে এসেছে প্রশাসন, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, খুলনার দাকোপ–বটিয়াঘাটা সড়কের পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ জমি দীর্ঘদিন ধরে দখল করে সেখানে স্থায়ী সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ করেছে জেএমআই গ্যাস কোম্পানি। পানি উন্নয়ন বোর্ড বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একাধিকবার আইনি নোটিশ জারি করলেও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ তা উপেক্ষা করে দখলকৃত জায়গায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, দখলকৃত স্থাপনা উচ্ছেদে খুলনা জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠকও হয়েছে। তবে বাস্তবে উচ্ছেদ অভিযান বারবার ঘোষণা হলেও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যক্তিকে প্রভাবিত করে প্রতিবারই উচ্ছেদ অভিযানের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে কোম্পানিটি। তাদের দাবি, শুধু পাউবোর জমিই নয়, আশপাশের ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিও ধীরে ধীরে দখলে নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ ২০২৬) খুলনা জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উচ্ছেদ অভিযানে যান। তবে দীর্ঘ প্রস্তুতির পরও শেষ পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা না করেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তারা।
এ সময় উচ্ছেদ অভিযানের তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে কোম্পানির সিকিউরিটি গার্ডসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং ঘটনাস্থলে প্রবেশে বাধা দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ঘটনাটি নিয়ে আরও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, কাগজপত্র সংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বটিয়াঘাটা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শোয়েব শাত-ঈল-ইভান, খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসডি রিফাদ আহমেদ, এসও সাইদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।