July 26, 2026, 4:48 am
শিরনাম :
এহসান মোর্শেদ পিয়াল কে আহবায়ক করে মূলঘর ইউনিয়ন “মুক্তিযোদ্ধো প্রজন্ম সংসদ” এর আহবায়ক কমিটি গঠিত। পবিপ্রবিতে উদয় ভবনের নিলাম অনুষ্ঠিত আগের সরকারের দুর্নীতির তদন্ত করে পরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু যশোরের বাঘারপাড়ায় এনসিপির পথসভায় হাসনাত আব্দুল্লাহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ তালায় টিআরএম বিলের বকেয়া আদায় ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন প্রান্তিক ভূমিহীন ও মৎস্যজীবীদের কেন্দ্রীয় ভূমি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত পবিপ্রবিতে চাকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় জুলাই অভূত্থান স্মরণে ছাত্রশিবিরের আয়োজনে স্বর্ণপদক প্রদান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহী ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন ভূমিমন্ত্রী

‘খাল কেটে যেমন মানুষ বাঁচিয়েছিলেন জিয়া, তেমনি কার্ড দিয়ে জীবন বাঁচাবেন তারেক জিয়া’ খুলনা-৬ এ উঠান বৈঠকে ন্যায্যতা ও টেকসই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি মনিরুল হাসান বাপ্পির

শাহজাহান সিরাজ, স্টাফ রির্পোটার

মসজিদের মাগরিবের আজানের পর নামাজ শেষ হতেই গ্রামের কাঁচা রাস্তার ধুলো মাড়িয়ে মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন মহারাজ ইউনিয়নের মহারাজপুর গ্রামের ছেদুর ব্রীজ সংলগ্ন একটি উঠানে।কেউ কৃষক, কেউ জেলে, কেউ শ্রমিক, কেউ গৃহিণী সহ সর্বস্তরের জানগণ। কেউ লুঙ্গি গুটিয়ে বসেছেন চেয়ারে কেউবা দাড়িয়ে আছেন রাস্তার উপরে। চায়ের কাপে ধোঁয়া উঠছে। সেই উঠানেই আজ বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী করলেন উঠান বৈঠক-শ্রোতা গ্রামটির সর্বস্তরেরে বাসিন্দারা। খুলনা-৬ আসনের বিএনপির ধানের শীষের এসএম প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পী বসেন সবার সামনে। মাটির কাছাকাছি বসেই কথা শুরু করেন তিনি।

বক্তব্যের শুরুতেই তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ টানেন। বলেন, “জিয়াউর রহমান এই দেশের উপকূলে খাল খনন করে মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছিলেন। পানি নামার পথ পেয়েছিল, ফসল বেঁচেছিল, মানুষ বেঁচেছিল।”

তিনি বলেন, সেই দর্শন থেকেই তারেক রহমান আজকের রাজনীতির কথা বলছেন। “তারেক জিয়া শুধু খাল নয়, মানুষের জীবনে ন্যায্যতার পথ খুলতে চান। ফ্যামিলি কার্ড আর কৃষক কার্ড দিয়ে মানুষের মুখে হাসি

ফুটাবেন।”
তাই নারী-পুরুষ, তরুণ-প্রবীণ-সবার স্বপ্ন, অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার সংগ্রামে আপনাদের পাশে থেকে কাজ করতে চাই। একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও উন্নত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকে আপনার অমূল্য ভোট দিয়ে আমাকে আপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করার জন্য হৃদয়ের গভীর থেকে আবেদন জানাচ্ছি। ভাঙ্গন কবলি এই অঞ্চলের জনসাধারণের পাশে থেকেছি, জনগণের প্রতিটি দাবির পক্ষে পাশে দাঁড়ানো আমার নৈতিক দায়িত্ব মনে করেছি। তাই দলের নীতিনির্ধারণী আলোচনায় আমাকে এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের প্রতিনিধি হিসেবে আপনাদের কাছে পাঠিয়েছেন।
মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মুনছুর সরদারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মনিরুল হাসান বাপ্পি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কোনো রাজনৈতিক পুরস্কার হবে না। “কার্ড পাবে সেই পরিবার, যাদের সত্যিই প্রয়োজন। কাজ হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে, পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।”উঠান বৈঠকে উপস্থিত কৃষকেরা কৃষি খরচ ও ন্যায্যমূল্যের কথা তোলেন। এর জবাবে তিনি বলেন, “কৃষক কার্ড মানে শুধু সার-বীজ না। কৃষক কার্ড মানে কৃষকের সম্মান। উৎপাদনের খরচ উঠে আসবে, ন্যায্য দাম নিশ্চিত হবে-এটাই আমাদের লক্ষ্য।”

উপকূলীয় এলাকার মানুষদের দুর্ভোগের কথাও উঠে আসে বৈঠকে। প্রার্থী বলেন, “এই উপকূল শুধু ঝুঁকির জায়গা নয়, সম্ভাবনার জায়গা। আমরা টেকসই বাঁধ নিশ্চিত করব, যাতে এক জোয়ারে মানুষের সবকিছু ভেসে না যায়।”

তিনি বলেন, উন্নয়ন মানে শুধু বড় প্রকল্প নয়, দৈনন্দিন জীবনের নিরাপত্তা। “স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, রাস্তা-ঘাট-এই মৌলিক সুবিধাগুলো নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন অর্থহীন।” স্বাস্থ্যসেবার প্রসঙ্গ টেনে তিনি ঘোষণা দেন, “এই এলাকায় একটি ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে, যাতে মানুষকে চিকিৎসার জন্য দূরে ছুটতে না হয়। গরিব মানুষ যেন বিনা চিকিৎসায় মারা না যায়-এটাই আমাদের লক্ষ্য।”

ধর্মীয় সেবায় নিয়োজিতদের কথাও তুলে ধরেন তিনি। “মসজিদের ইমাম ও মন্দিরের পুরোহিতরা সমাজের নৈতিক ভিত্তি শক্ত করে রাখেন। তাঁদের জন্য সম্মানজনক বেতনের ব্যবস্থা করা হবে।”বৈঠকের শেষদিকে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “ভোট মানে শুধু একটি সিল নয়। ভোেট মানে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি। তাই ভয় না পেয়ে, বিবেকের পক্ষে দাঁড়ান।”

কয়রা উপজেলা বিএনপি সাবেক সদস্য সচিব ও কয়রা উপজেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক মোঃ নুরুল আমিন বাবুল বলেন, বড় বড় আলেম ওলামারা বলেছেন নীলনদের পানি যেমন নীল না তেমনি জামাতে ইসলাম ইসলামি দল না। সেহেতু জামায়াতে ইসলামী একটি রাজনৈতিক দল এবং বিএনপিও একটি রাজনৈতিক দল-এই বাস্তবতা সামনে রেখে ভোটের রাজনীতিতে ভণ্ডামির সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “যেহেতু উভয় দলই রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়, তাই নিজেদের ইসলামি দল হিসেবে তুলে ধরে ভোটের নামে ভণ্ডামি করার সুযোগ নেই।রাজনীতিতে জনগণের কাছে স্বচ্ছ অবস্থান তুলে ধরা জরুরি। ধর্মের নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা জনগণ এখন আর সহজে গ্রহণ করে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির রাজনীতি জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত। ভোটের মাঠে আদর্শ ও কর্মসূচির ভিত্তিতেই জনগণের সমর্থন চাওয়া উচিত, ধর্মীয় পরিচয়কে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা সমীচীন নয়।

উঠান বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সদস্য মনিরুজ্জামান বেল্টু, সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব নুরুল ইসলাম খোকা, উপজেলা কৃষকদলের আহবায়ক এস এম গোলাম রসুল। অনুষ্ঠানে অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপি নেতা মোহতাসিম বিল্লাহ, জামাল ফারুক জাফরিন, মোস্তাফিজুর রহমান, নূরুল ইসলাম খোকন, রবিউল ইসলাম, আসাদুর রহমান লিটন, আনারুল ইসলাম ডাবলু, মহরম হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, প্রভাষক মঞ্জুর মোর্শেদ, কামরুল ইসলাম ঢালী, সেরাজুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম, মাছুম বিল্লাহ, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক আরিফ বিল্লাহ সবুজ, কপোতক্ষ কলেজের আহবায়ক মামুন হোসেন, আজিজুল ইসলাম প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ