‘আমরা দেখেছি চার মিনিটে সংবিধান বদলে গেছে। গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হলে আর ৪ মিনিটে সংবিধান পরিবর্তন করা যাবে না। বিচার বিভাগের কাঁধের উপর অস্ত্র ঠেকিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পরিবর্তন করা যাবে না।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন আয়োজিত জেলা শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠে গণভোটের প্রচার অনুষ্ঠানে এ ঊক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রনালয় এবং তথ্য সম্প্রসারণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা থাকলে ক্ষমতাকে আর কুক্ষিগত করে রাখা সম্ভব নয়। এজন্য আমরা দেখেছি ২০১১ সালে বিচার বিভাগের সঙ্গে তত্ত্ববধায়ক সরকারের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এমন একটি মামলা এনে তত্ত্ববধায়ক সরকার বাতিল করা হলো। এজন্যই এ ব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনতে হ্যা ভোটকে জয়যুক্ত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এখন যাদের বয়স ৩৮ বছর তারা গত বিশ বছরে কোনো ভোট দিতে পারে নাই। কারণ, রাষ্ট্রপতি একজন বড় মাপের অপরাধীকে তার নিজস্ব ক্ষমতা ক্ষমা করে দেন। এরকম করলেতো দেশে আর আইনের শাষণ থাকবেনা। দপ্তরগুলোতে ক্ষমতাবান লোকগুলো তাদের ইচ্ছানুযায়ী লোক বসায়। তারা তখন ভুলে যায় যে তাদেরকে বসানো হয়েছে জনগণের সেবা করার জন্য। এটা যেন কোন সরকার তাদের ইচ্ছানুযায়ী করতে না পারে একারণে এই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। সংবিধান যে কেউ তার ইচ্ছানুযায়ী পরিবর্তন করতে না পারে এজন্য গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিতে আমরা আপনাদের আহবান করছি।

সৈয়দা রিজওয়ান হাসান বলেন, এবার যারা ভোট দেবেন তাদের অনেকেই জীবনে গণভোটে অংশ নেন নাই। গণভোট হচ্ছে এমন একটি ভোট যেখানে আপনারা সকলেই মতামত দেবেন দেশ যেভাবেই চলছে সেভাবেই চলবে কি না বা কোথায় কোথায় পরিবর্তন প্রয়োজন। এই যে আমাদের সন্তানেরা প্রাণ দিল। ৪শ মানুষ বিভিন্নভাবে দৃষিপ্রতিবন্ধি হয়ে গেলো। তারা এখন আর দেখতে পায়না। তারা কিন্তু সম্মুখ সারির যোদ্ধা হিসেবে মাঠে নেমেছিল। তারা কিন্তু ক্ষমতা চায় নি। চেয়েছিল এমন একটি নেতৃত্ব, যেখানে দেশকে বৈষম্যহীন ও সাধারণ মানুষের কথা বলার জায়গা করে দেওয়া হবে।
আমরা যদি এটা আইন করে বদলে দেই তাহলে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এটা রাখতেও পারে আবার নাও রাখতে পারে। এজন্য এই সরকার জনগণকে ক্ষমতায়িত করতে, প্রশাসনকে জনমূখী করতে, বিচার বিভাগকে স্বাধীন করতে সরকার ১১টি সংস্কার কমিশন করেছে। এরমধ্যে যে ৬টি কমিশনের রিপোর্ট, নির্বাচন, ক্ষমতায়ন, ক্ষমতার ভারসাম্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত সেই সকল কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে ঐক্যমত কমিশন হয়েছে। তারা সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলেছেন। ঐ এক্যমত কমিশনের সকল বিষয়ে অনেকেই এক হয় নি। এইগুলোকে আমরা চারটি মোটা দাগের প্রশ্ন করে আপনাদের কাছে গণভোট আকারে উত্থাপন করেছি। আমরা এর আগেই স্বৈরাচার পতন করেছি কিন্তু পদ্বতি পরিবর্তন হয়নি। পদ্বতির পরিবর্তন না হলে কোন কিছুই পরিবর্তন সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ফিসফিস করে একটা কথা বলা হচ্ছে ভোট কি হবে? এখন যার বয়স ৩৮ বছর তিনি গত বিশ বছরে ভোট দিতে পারেনি। তারা জীবনের প্রথম বারের মত ভোট দিতে মুখিয়ে আছে। পতিত স্বৈরাচার সরকার গত ষোল বছরে সমাজের সব জায়গায় তার লোক বসিয়ে গেছে। তারাই আজ এই কথা বলে বেরাচ্ছে। সরকার প্রস্তুত, নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত, ভোটাররা প্রস্তুত তাহলে কেন ভোট হবে না। আপনার তাদেরকে বলেন অবশ্যই ভোট হবে। এবং আমার ভোট আমি দেব যাকে খুশি তাকে দেব।
বক্তব্য শেষে সেখানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচারণামূরক ভোটের গাড়ির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
পরে জেলা প্রশাসনর উদ্যোগে সেখান থেকে গণভোট সংক্রান্ত একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের পান্না চত্ত্বর প্রদক্ষিণ করে প্রধান সড়ক পথে ইয়াছিন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে উদ্বুদ্ধকরণ ও মতবিনিমিয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা সুলতানা আক্তারের সভাপতিত্বে এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রনালয় এবং তথ্য সম্প্রসারণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা ও রাজবাড়ী পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ-বিপিএম। এসময় জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক অঙ্গণের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।