জীবনের তাগিদে প্রতিদিনের মতোই সকালবেলা রাস্তায় বেরিয়েছিলেন রানা সরদার। কিন্তু সেই পরিচিত সড়কই তার জন্য হয়ে উঠল মৃত্যুর ফাঁদ। সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় বেপরোয়া যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়কের ওপরই প্রাণ হারান ৩৫ বছর বয়সী এই যুবক। এক নিমিষেই শেষ হয়ে গেল একটি পরিবারের শেষ ভরসা।
মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে তালা উপজেলার তালা তেল পাম্পের সামনে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রানা সরদার উপজেলার হাজরাকাটি গ্রামের রাজ্জাক সরদারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রানা সরদার জাতপুর দিক থেকে মোটরসাইকেলে করে তালার দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে ও বেপরোয়া ভাবে আসা যাত্রীবাহী বাস ‘লিটন ট্রাভেলস’ তার মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় তিনি ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
দুর্ঘটনার পর সড়কে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। স্থানীয়রা ছুটে এসে উদ্ধার চেষ্টা করলেও রানা সরদারের নিথর দেহ ছাড়া কিছুই করার ছিল না। খবর পেয়ে তালা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের বাড়িতে চলছে আহাজারি। স্বজনরা জানান, রানা সরদার ছিলেন পরিবারের অন্যতম উপার্জনক্ষম সদস্য। তার মৃত্যুতে পরিবারটি এখন দিশেহারা। প্রশ্ন উঠছে—এই মৃত্যুর দায় কে নেবে?
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিনুর রহমান জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি জব্দ করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে সাতক্ষীরা জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা যেন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঝরছে প্রাণ, বাড়ছে আহতের সংখ্যা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কে বেপরোয়া বাস চলাচল, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং দুর্বল নজরদারির কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
সচেতন মহল বলছে, শুধু তদন্ত আর জব্দের খবরে থামবে না সড়কের মৃত্যু। কার্যকর আইন প্রয়োগ, চালকদের জবাবদিহি এবং সড়ক নিরাপত্তায় দৃশ্যমান উদ্যোগ না নিলে এমন করুণ দৃশ্য বারবার ফিরে আসবে।