July 26, 2026, 3:57 am
শিরনাম :
এহসান মোর্শেদ পিয়াল কে আহবায়ক করে মূলঘর ইউনিয়ন “মুক্তিযোদ্ধো প্রজন্ম সংসদ” এর আহবায়ক কমিটি গঠিত। পবিপ্রবিতে উদয় ভবনের নিলাম অনুষ্ঠিত আগের সরকারের দুর্নীতির তদন্ত করে পরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু যশোরের বাঘারপাড়ায় এনসিপির পথসভায় হাসনাত আব্দুল্লাহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ তালায় টিআরএম বিলের বকেয়া আদায় ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন প্রান্তিক ভূমিহীন ও মৎস্যজীবীদের কেন্দ্রীয় ভূমি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত পবিপ্রবিতে চাকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় জুলাই অভূত্থান স্মরণে ছাত্রশিবিরের আয়োজনে স্বর্ণপদক প্রদান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহী ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন ভূমিমন্ত্রী

সুদানের শান্তিরক্ষা মিশনে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত সৈনিক শামীম রেজা

মো. নাহিদুল ইসলাম ফাহিম, রাজবাড়ী প্রতিনিধি

সুদানে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক শামীম রেজার বাড়িতে চলছে যেনো হৃদয়বিদারক শোকের ছায়া। প্রিয়জন হারানোর বেদনায় কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বাবা-মা, স্ত্রী ও আত্মীয়-স্বজনেরা। গ্রামটি জুড়েই যেনো নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

নিহত সৈনিক শামীম রেজার রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার স্থানীয় আলমগীর ফকিরের ছেলে। ৩ ভাই ও পাশাপাশি একমাত্র বোনের মধ্যে শামীম রেজা ছিলেন সবার বড়। পরিবারের কাছে তিনি ছিলেন শান্ত স্বভাবের, দায়িত্বশীল এবং পরিশ্রমী একজন তরুণ।

নিহতের পরিবার সূত্র জানায়, ঘটনায় নিহত শামীম রেজা ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দেন। কর্মজীবনের শুরু থেকেই তিনি নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। চলতি বছরের ৭ নভেম্বর তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে সুদানের উদ্দেশ্যে যান। সেখানে দায়িত্বপালনকালে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন শামীম রেজা।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে নিহত সৈনিকের বাড়িতে সরেজমিনে দেখা যায়, উঠানজুড়ে শোকাহত স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভীড়। অধিকাংশরাই চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না। সদ্য নির্মিত একতলা বাড়ির ভেতরে শোকাহত মা ও স্ত্রী কান্না-আহাজারিতে বারবার জ্ঞান হাড়াচ্ছেন। শোকের ভারে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পরিবারটি।

নিহত সৈনিকের ছোট ভাই সোহান ফকির বলেন, “গতকাল টেলিভিশনে সুদানের ঘটনার খবর দেখার পর থেকেই আমরা ভীষণ দুশ্চিন্তায় ছিলাম। ভাইয়ের মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। রাত ১২টার পর আমরা নিশ্চিত হই, ভাই আর নেই। গত শুক্রবারই সে বাড়িতে ভিডিও কলে কথা বলেছিল। তখনও কিছু বুঝতে পারিনি।”

নিহত শামীম রেজার বাবা আলমগীর ফকির বলেন, “আমার সব শেষ হয়ে গেছে। ছেলেটার দেড় বছর আগে বিয়ে হয়েছে। এখনো তার কোনো সন্তান হয়নি। কত স্বপ্ন ছিল ছেলেকে নিয়ে। অন্তত শেষবারের মতো আমার ছেলের লাশটা দেখতে চাই।”

শামীম রেজার মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের আবহ নেমে আসে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা নিহত সেনাসদস্যের বাড়িতে গিয়ে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তাঁরা শামীম রেজার আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তারা।

শান্তিরক্ষায় নিয়োজিত অবস্থায় এক তরুণ সেনাসদস্যের এভাবে প্রাণ হারানোতে এলাকাবাসী ক্ষোভ ও বেদনা প্রকাশ করে বলেন, দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে গিয়ে জীবন দেওয়া এই সেনাসন্তান জাতির গর্ব। তাঁর আত্মত্যাগ যেন জাতি কখনো ভুলে না যায়, এমনটাই প্রত্যাশা সবার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ