July 26, 2026, 1:53 pm
শিরনাম :
এহসান মোর্শেদ পিয়াল কে আহবায়ক করে মূলঘর ইউনিয়ন “মুক্তিযোদ্ধো প্রজন্ম সংসদ” এর আহবায়ক কমিটি গঠিত। পবিপ্রবিতে উদয় ভবনের নিলাম অনুষ্ঠিত আগের সরকারের দুর্নীতির তদন্ত করে পরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু যশোরের বাঘারপাড়ায় এনসিপির পথসভায় হাসনাত আব্দুল্লাহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ তালায় টিআরএম বিলের বকেয়া আদায় ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন প্রান্তিক ভূমিহীন ও মৎস্যজীবীদের কেন্দ্রীয় ভূমি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত পবিপ্রবিতে চাকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় জুলাই অভূত্থান স্মরণে ছাত্রশিবিরের আয়োজনে স্বর্ণপদক প্রদান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহী ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন ভূমিমন্ত্রী

রাজধানীতে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

তরফদার রবিউল ইসলাম

শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রকাশ্য নাটক সাজিয়ে সন্ধ্যার পর থেকে সূক্ষ্ম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে নির্মম তামাশা করা হয়েছে — মামুনুল হক
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মামুনুল হক বলেছেন, “শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রকাশ্য নাটক সাজিয়ে সন্ধ্যার পর থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে নির্মম তামাশা করা হয়েছে।” তিনি বলেন, আমরা আশা করেছিলাম বহু রক্ত-অশ্রু বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। মানুষ আশা করেছিল, ব্যালটের অধিকার ফিরে পাবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ১২ ফেব্রুয়ারি মানুষের ব্যালটের অধিকারের সঙ্গে নির্মম তামাশা করে একটি সাজানো ও পরিকল্পিত ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। সূক্ষ্ম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে টার্গেটকৃত ব্যক্তিদের জাতীয় সংসদে যাওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। ডিপ স্টেটের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে বাংলাদেশের জনগণের অর্থে লালিত প্রশাসন ব্যবহার করা হয়েছে।
তিনি সিইসির উদ্দেশ্যে বলেন, আপনার পূর্ববর্তী সিইসির পরিণাম থেকে আপনি শিক্ষা গ্রহণ করুন। আমরা যে আপত্তি জানিয়েছি, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে জনগণের ব্যালটের অধিকার যদি ফিরিয়ে না দেন, বাংলার মানুষ তাদের অধিকার কেড়ে নেবে, ইনশাআল্লাহ। আপনাদের এই প্রহসনের প্রতিবাদ করার পর গোটা বাংলাদেশজুড়ে আমাদের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতাকর্মী-সমর্থকদের ওপর যে পৈশাচিকতা চালানো হচ্ছে— আমাদের বোনদের ধর্ষণ করা হয়েছে, আমাদের মা-বোনদের শ্লীলতাহানি শুধু নয়, তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। আমাদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে বাংলাদেশে আবার নতুন করে ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনার পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে।
সারাদেশে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের উদ্যোগে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, মনে রাখবেন, রক্ত দিয়ে যে জুলাই বিপ্লব হয়েছে, সেই বাংলাদেশে আর কোনোদিন ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ। পুরোনো ফ্যাসিবাদীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যদি তাদের প্রবেশের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়, তবে যে পথ ফ্যাসিবাদকে ফিরে আসার জন্য তৈরি করবেন, সেই পথ দিয়ে আপনাদেরও দিল্লিতে বিতাড়িত করা হবে।
তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদী হত্যাসহ প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে। জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই স্পিরিট থেকে যদি এক চুল পরিমাণ বিচ্যুতি করার ষড়যন্ত্র করা হয়, জুলাই যোদ্ধারা আবার মাঠে নামবে। তিনি সবাইকে ঐক্য ও সংহতি মজবুত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের মানুষ ভাত ও ভোটের ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চলমান সংগ্রামকে মজবুত ও সংগত রাখতে হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল- সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মধ্যে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যথাক্রমে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, আমরা জাতির সামনে ভোটচোরদের উন্মোচিত করতে পেরেছি। ওরা শুধু ভোট চুরি করেনি, বরং জনগণের ভোট ডাকাতি করেছে। তিনি বলেন, যারা ইঞ্জিনিয়ারিং ইলেকশনের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণ করেছে, তারা যদি জনগণের ওপর জুলুম করে, তবে আমরা বসে থাকব না। শহীদ ওসমান হাদী হত্যার বিচার সম্পন্ন করতে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, যারা বলেছে আমরা নির্বাচন চাই না— আমরা তাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছি, আমরাই গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু করেছি। বরং তোমরাই ইঞ্জিনিয়ারিং ইলেকশনের মাধ্যমে জনগণের ভোট ডাকাতি করে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছ।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, পুরোনো সংস্কৃতির রাজনীতিতে ফিরে যাওয়ার জন্য জুলাই বিপ্লব হয়নি। তিনি বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পুরোনো সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে নতুন বাংলাদেশে নতুন ব্যবস্থার রাজনীতি চর্চা করতে।
খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আব্দুল জলিল বলেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে আমরা চেয়েছি একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার গঠিত হবে। কিন্তু সেটি হয়নি; হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং ইলেকশন।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রফেসর উমর ফারুক বলেন, আমাদের বড় ভুল হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখা। ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রশাসন টাকার বিনিময়ে নির্বাচনে কারচুপি করে একটি দলকে ক্ষমতা দিয়েছে।
আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, আমরা প্রত্যাশা করেছি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। কিন্তু আমরা বললে কেউ বিশ্বাস না করলেও টিআইবির প্রতিবেদন জনগণ বিশ্বাস করবে।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, ২০০৮ সালে হয়েছে সমঝোতার ভোট, ২০১৪ সালে হয়েছে একতরফা ভোট, ২০১৮ সালে হয়েছে রাতের ভোট, ২০২৪ সালে হয়েছে ডামি ভোট এবং ২০২৬ সালে হয়েছে ম্যানেজ ভোট।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ