July 26, 2026, 4:13 pm
শিরনাম :
এহসান মোর্শেদ পিয়াল কে আহবায়ক করে মূলঘর ইউনিয়ন “মুক্তিযোদ্ধো প্রজন্ম সংসদ” এর আহবায়ক কমিটি গঠিত। পবিপ্রবিতে উদয় ভবনের নিলাম অনুষ্ঠিত আগের সরকারের দুর্নীতির তদন্ত করে পরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু যশোরের বাঘারপাড়ায় এনসিপির পথসভায় হাসনাত আব্দুল্লাহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ তালায় টিআরএম বিলের বকেয়া আদায় ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন প্রান্তিক ভূমিহীন ও মৎস্যজীবীদের কেন্দ্রীয় ভূমি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত পবিপ্রবিতে চাকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় জুলাই অভূত্থান স্মরণে ছাত্রশিবিরের আয়োজনে স্বর্ণপদক প্রদান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহী ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন ভূমিমন্ত্রী

“বেকার ভাতা নয়, যুবকদের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেওয়া হবে” -ডা. শফিকুর রহমান

তরফদার রবিউল ইসলাম

জাতিকে বিভক্ত করে কাউকে পিছনে নিতে দেয়া হবে না উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেউ টাকা নিয়ে যারা ভোট চাইতে আসলে তাদের পুলিশে দেবেন।
তিনি বলেন, আজকের এই এই জনজোয়ার, এই জনস্রোত, এই জনপ্লাবন শুধু চট্টলায় নয় টেকনাফ থেকে শুরু করে তেতুলিয়া, জাফলং থেকে সুন্দরবন ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের সারা বাংলাদেশ জেগে উঠেছে। বাংলাদেশ বলে দিয়েছে আমরা আর ধান্দাবাজদের সাথে নেই। যারা আধিপত্যবাদের গোলাম তাদের সাথেও নেই। আমরা আজাদীর বাংলাদেশের পক্ষে। ইনশাআল্লাহ জেগে উঠেছে এই বাংলাদেশ আজাদী নিশ্চিত হবে, ইনশাআল্লাহ। আমরা সবক্ষেত্রে ন্যায়বিচার চাই। আমার পাওনা আমি চাই, তোমার পাওনা তুমি নাও কিন্তু আমার পাওনা তুমি নিয়ে যাবে- এটা আর মানবো না।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সীতাকুন্ড উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদরাসা মাঠে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমীর আলাউদ্দিন শিকদারের সভাপতিত্বে ১১ দলীয় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
এছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়েতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান, উত্তর জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান,অধ্যাপক নুরুল আমিন চৌধুরী, উত্তর জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ইউসুফ বিন আবু বকর, চট্টগ্রাম-১ আসনের প্রার্থী এডভোকেট ছাইফুর রহমান, চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম -৪ আসনের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী, চট্টগ্রাম -৫ আসনের প্রার্থী নাসির উদ্দিন মনির, চট্টগ্রাম -৬ আসনের প্রার্থী শাহজাহান মঞ্জু , চট্টগ্রাম -৭ আসনের প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম, সনাতন প্রতিনিধি দোলন দেব, কেন্দ্রীয় তত্ত্বাবধায়ক ইব্রাহিম, ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ, চবি শিবির সভাপতি ও চাকসু ভিপি ইব্রাহিম রনি প্রমুখ।

default

আমীরে জামায়াত বলেন, স্বাধীনতার পরে এক এক করে চুয়ান্ন বছর অতিবাহিত হয়েছে। এই চুয়ান্ন বছরে সরকার এসেছে সরকার গেছে। সরকারের লোকদের কপালের পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু জনগণের পরিবর্তন হয়নি। হ্যাঁ, যদি বলি কিছুই হয়নি এই কথাটা সত্য হবে না তবে যা হওয়ার দরকার ছিল তা হয়নি। কেন হয়নি?
তিনি বলেন, যারা নির্বাচনের আগে বাজার থেকে নতুন নতুন দামী টুপি কেনে, তসবিহ আনে মক্কা শরীফ থেকে আর বের হয় ইলেকশনের ক্যাম্পেইনে। কারো বাড়িতে গেছে গিয়ে বলে আপনার সাথে পরে বসবো আগে চাচার কবরটা জিয়ারত করে আসি। কয় কোন চাচার? কয় আপনার আব্বাজানের। কয় আস্তাগফিরুল্লাহ আমার আব্বা তো এখনো জীবিত আছে। বুঝছেন? মানুষকে খুশি করার জন্য জ্যান্ত বাপেরও কবর জিয়ারত করে। কিন্তু যখন নির্বাচন চলে যায় ও আরও বলে সুন্দর করে বলে যার চেহারায় চোখ পড়ে বলে ভাই আপনারে আমার ভাইয়ের মতো লাগে দেখতে। নির্বাচন যখন চলে যায় তখন পাশ থেকে দাঁড়াইয়া সালাম নিলে জবাব দেওয়ার সময় নাই। আগে ছিল ভাই এখন হয়ে গেছে অন্য কিছু আমি আর এটা মুখে নিলাম না। বুঝতে পারছেন? এরা ধান্দাবাজ। এরা নির্বাচনের সময় টাকার বস্তা নিয়ে নামে। মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত। যারা মানুষের ভোট গরিব হোক ধনী হোক এই ভোট যারা অর্থের বিনিময়ে প্রভাবিত করতে চায়- তারা মানুষ নামের কলঙ্ক। এরা আসলে আপনাকে টাকা দিতে আসেনি এরা আপনার ইজ্জত এবং আপনার বিবেক কিনতে এসেছে। আমি চট্টলার বীর জনগণের কাছে জানতে চাই ওরকম যদি অবৈধ টাকা নিয়ে নির্বাচনের সময় আপনাদের কাছে কেউ ভোট চাইতে আসে আপনারা কি তাদের ছেড়ে দেবেন? না সবগুলা ধরে রেখে পুলিশে দেবেন। যে আমাকে কিনতে এসেছে নেন ওরে সামলান দিয়ে দিলাম আপনাদের হাতে। তবে নিজেরা আইন হাতে তুলে নেবেন না। পাহারাধারী করবেন।
আমীরে জামায়াত বলেন, আগে একটা স্লোগান ছিল এই ধান্দাবাজদের আমার ভোট আমি দিব তোমারটাও আমি দেব। এখন এদিন শেষ। ৩৬ জুলাইয়ে কবর রচনা করে দিয়েছে। ছত্রিশ জুলাইয়ে এটা পায়ের নিচে আমরা ফেলে দিয়েছি। এখনকার জবাব স্পষ্ট, সাফ আমারটা আমি দিব তোমারটা তুমি দাও। আমার ভোটে হাত দিলে হাত ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হবে। এ আমার অধিকার নয় এ আমার অধিকারের সাথে আমার দায়িত্ব বটে। আমার দেশ আমি গড়বো। আমার দল আমি পছন্দ করবো তুমি কে? পারবেন? শিউর পারবেন? নাকি কোন চোখ রাঙানিকে ভয় করবেন? অবশ্যই না।
যুবক ও তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জুলাইয়ে যুবকরা যুবসমাজ, যুব-যুবতী, তরুণ-তরুণী রাস্তায় নেমে তোমরা কি স্লোগান দিয়েছিলে যে আমাদের হাতে বেকার ভাতা দাও? তোমরা স্লোগান দিয়েছিলে আমাদের হাতে মর্যাদার কাজ দাও। এটি আমার অধিকার। আমি কাজ করে দেশ গড়তে চাই। কারো কাছে বেকার ভাতা চাই না। আমরা কথা দিচ্ছি আমরা বেকার ভাতার কোন আশেপাশেও যাবো না। আমরা প্রত্যেকটা যুবক-যুবতী তরুণ-তরুণীর হাতকে দেশ গড়ার কারিগরের মজবুত হাতে পরিণত করবো ইনশাআল্লাহ। তারপরে কাজ হাতে তুলে দিয়ে বলবো আগাও তুমিই বাংলাদেশ। হে যুবক, হে যুবতী, হে তরুণ, হে তরুণী তোমরাই আমাদের বাংলাদেশ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আর পিছনের দিকে যাওয়ার সুযোগ নেই, সময় নেই। অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে এই জাতির। আর এই জাতিকে বিভক্ত করে কাউকে পিছনে নিতে দেওয়া হবে না। এখানে আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান-চারটা ধর্মের মানুষ বসবাস করি। আমরা চারটা ধর্ম দিয়েই বাংলাদেশকে ফুলের বাগানের মতো সাজাবো ইনশাআল্লাহ। আর ধর্মে বর্ণে কোনো বিভক্তি টানতে দেব না। এই দেশে সবাই মর্যাদার সাথে বসবাস করবে। কারো করুণার পাত্র হয়ে নয় নিজের যোগ্যতা বলে, ইনশাআল্লাহ। যুবকরা তৈরি হয়ে যাও। আমাদের এই ছোটাছুটি দৌড়াদৌড়ি তোমাদের জন্যে। এই বাংলাদেশ তোমাদের হাতে তুলে দেব।
তিনি বলেন, যুবকরা বাংলাদেশকে সঠিক পথে নিয়ে যাবা। যতো চাঁদাবাজ ধান্দাবাজ যারা মামলাবাজ যারা দুর্নীতিবাজ যারা কি কি জানি স্ট্যান্ডবাজ আমি এগুলা বুঝিও না কি কি স্ট্যান্ড বলেন আপনারা। এই বন্ধুদেরকে বলবো এগুলা ছেড়ে দেন। এগুলো খারাপ কাজ। এগুলো হারাম এগুলো সাফ হারাম। আসেন সুপথে চলে আসেন আপনাদেরকেও শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে আপনাদের হাতেও মর্যাদার কাজ তুলে দেব, ইনশাআল্লাহ। এইতো সবাই মিলেই তো বাংলাদেশ। এইজন্যেই আমাদের স্লোগান ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ। আপনারা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের সাথে আছেন? আলহামদুলিল্লাহ।
মায়েদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মায়েদেরকে আমাদের স্পষ্ট বার্তা মায়েরা বড় ঋণী করে রেখেছেন আমাদেরকে। আমাদেরকে আপনাদের গর্ভে ধারণ করেছেন বুকের দুধ দিয়েছেন বুকের বিছানায় লালন পালন করেছেন এই ঋণ জীবনেও পরিশোধ করতে পারবো না। আমরা চাই আপনাদেরকে আমাদের মাথার তাজ হিসেবে সম্মানের আসনে উঠাতে। যদি এইটুকু পারি তাহলে কিঞ্চিত ঋণ পরিশোধ হবে- সবটুকু নয়।
আমীরে জামায়াত বলেন, আমরা চাই আমাদের মায়েরা শিক্ষা এবং যোগ্যতায় তারা এগিয়ে যাক। একজন মা শিক্ষিত হলে একটা পরিবার শিক্ষিত হয়, পরিবারগুলো শিক্ষিত হলে একটা সমাজ এবং জাতি শিক্ষিত হয়। মা হচ্ছেন শিক্ষার বুনিয়াদ এবং সমাজেরও বুনিয়াদ, সভ্যতারও বুনিয়াদ। আমাদের মায়েদেরকে নিয়ে কেউ কিছু কিছু উল্টাপাল্টা করছে, আমরা জানি সুড়সুড়ি দিচ্ছে। আমি এর প্রতিবাদ করি, গত পরশুদিন থেকে আমার পেছনে লেগে গেছে। জানেন তো আপনারা? যারা লেগেছে, ইনশাল্লাহ এটা তাদের গলার ফাঁস হয়ে তাদের গলায় ঝুলবে ইনশাল্লাহ। মানুষ বোঝে, সবকিছু বোঝে। নিজেই চালাক বাকিরা বোকা—এই দিন শেষ। এখন সবাই সবারটা বোঝে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমার পিছে লাগছে কেন? আমি ওই যে বলেছি, চান্দা আর নিতে দেব না। এইজন্যই লাগছে আমার পেছনে। আমি ওই যে বলেছি, দুর্নীতি করব না এবং দুর্নীতি করতেও দেব না। আমি ওই যে বলেছি, দুর্নীতি করতে পারবেন না এবং বগলের তলে দুর্নীতিবাজকে আশ্রয় দিতে পারবেন না। ওই তো আমার বিরুদ্ধে লেগে গেছে, চান্দি গরম হয়ে গেছে।
আমীরে জামায়াত বলেন, ওরা আসলে তাদের হার মেনে নিয়েছে। কোথায়? জেনে বুঝে উত্তর দিছে, হ্যাঁ জানা আছে, একটু স্মরণ করাইলেই বলবেন এইটাই বলতে চেয়েছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে শুরু, জকসুতে এসে আপাতত থেমেছে। এরপরে এই গাড়ি চলতে থাকবে। যেভাবে চলেছে ওইভাবে ইনশাল্লাহ। এই পাঁচ পাঁচটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অতি বিচক্ষণ, সুশিক্ষিত, উচ্চশিক্ষিত, সেন্সিবল আমাদের ছেলেমেয়েরা রায় দিয়ে বলে দিয়েছে, আমরা আর ধান্দাবাজির পক্ষে নাই, এবার আমরা ইনসাফের পক্ষে দেশ গড়তে চাই। ওই পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়ে যা হয়েছে, বিইজনিল্লাহ ইনশাল্লাহ তায়ালা আজিজ। আগামী ১২ তারিখ ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ১৮ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে সেটাই হবে, ইনশাল্লাহ।
তিনি বলেন, আমাদের মা-বোনেরা এগিয়ে এসেছেন। মহিলা জগতে আলহামদুলিল্লাহ আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে। তারা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। কিসের নিরাপত্তা? নিরাপত্তাটা নিজের ইজ্জতের নিরাপত্তা। এখন প্রকাশ্যে মায়েরা মুখ খুলতে শুরু করেছেন। তারা বলেন, নিরাপত্তার জন্যই আমরা এবার দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেব। নিরাপত্তার জন্য এবার ১১ দলকে বেছে নেব। এই কথা শোনার পরে দিশেহারা লোকরা উল্টাপাল্টা করছে। লাভ নাই, এ মায়েরা ভয় পায় না। জুলাইয়ের ১৫ তারিখ মেয়েদের গায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হাত দেওয়া হয়েছিল, সেদিনই বাংলাদেশে আগুন জ্বলে উঠেছিল। এ জাতি সব সহ্য করবে, মায়ের অপমান বরদাশত করবে না।
আমীরে জামায়াত বলেন, রাস্তায় ১০ মাসের শিশু সন্তান নিয়ে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মা নেমে এসেছেন। সাংবাদিক বন্ধুদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, আমি গুলি হবে জেনেই এখানে এসেছি। মুহুর্মুহু গুলিতে লাশ পড়ছে ওটাও জেনে এসেছি। তো জিজ্ঞেস করছে—আসলেন কেন? ১০ মাসের এই কচি বাচ্চা নিয়ে? বলে যে বাচ্চা তো আজ আমার একটা নয়, বাংলাদেশের সবগুলা রাজপথে যতগুলা তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতী নেমেছে এই সবগুলা আমার সন্তান। আমি বার্তা দিতে এসেছি—হে বীর সন্তানেরা, অন্যায় এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়ে যাও। হয় জীবন দিয়ে শহীদ হবে, নয় জাতিকে তোমরা মুক্ত করবে। মাঝখানে কিছু নাই। এই বার্তা দিতে এসেছে। সেই মাদেরকে ভয় দেখাও?
মায়েদের সাহস দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মায়েদের অনুরোধ করব, কোনো দুর্বৃত্ত যদি আপনাদের দিকে চোখ তুলে তাকায়, চোখে চোখ রেখে বলে দিবে—সাবধান! যদি বলে যে ওই মার্কায় ভোট দিলে ভোটের সেন্টারে যাবেন না, চোখে চোখ রেখে বলে দিবে আমি যাব, তোমার শক্তি থাকলে তুমি ঠেকাইও। এটা আপনার অধিকার, এটা আপনার দায়িত্ব।
তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি ইনশাআল্লাহ সারাদেশের মতো বীর চট্টলাও সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। এখানে ছয়টি আসনের প্রার্থীরা উপস্থিত আছেন। আটটি? সাতটি? আচ্ছা এই সাতটি আসন আমরা ন্যায় এবং ইনসাফের পক্ষে ১১ দলকে উপহার দেওয়ার জন্য আপনাদের কাছে আমি আহ্বান জানাই। আমি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে আপনাদের এই লক্ষ্য জনতাকে সাক্ষী রেখে আমি বলছি—আমরা এবং আমি জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না। আমরা কোনো দলীয় সরকার কায়েম করতে চাই না। কোনো পরিবারের রাজত্ব কায়েম করতে চাই না। কোনো গোষ্ঠীর হাতে দেশ তুলে দিতে চাই না। আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। সেই বিজয় ইনশাআল্লাহ নিশ্চিত করতে চাই। ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হলে আমাদেরও বিজয়। ১৮ কোটি মানুষ হেরে গেলে আমাদেরও পরাজয়। এই জন্য বিজয়ের সূচনা হবে ইনশাল্লাহ গণভোটে ভোট দিয়ে।
আমীরে জামায়াত বলেন, আপনারা গণভোটে কী বলবেন? ১২ তারিখ প্রথম ভোটটি হবে হ্যাঁ। সবাইকে নিয়ে। এই বীর চট্টলায় যারা আছেন সবাইকে নিয়ে। আপনারা যদি এই সাতটা আসন আমাদেরকে উপহার দেন আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি, আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখলে, আল্লাহ সুস্থ রাখলে, আল্লাহ যদি আমাদের হাতে দেশ গড়ার সুযোগ দেন—ইনশাল্লাহ আপনাদের আস্থার প্রতিদান দেওয়ার জন্য আমরা লড়াই করে যাব। আপনাদের সাথে বেইমানি করব না। আপনাদের ন্যায্য যতগুলা পাওনা আছে- রাষ্ট্র আপনাদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য থাকবে, ইনশাল্লাহ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ