দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ আর আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন বিপ্লবী জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদী। জাতির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে জীবন উৎসর্গ করা এই তরুণের হত্যাকাণ্ড গোটা দেশকে নাড়া দিয়েছে। তার রক্ত যেন নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—এই দেশ কি শহীদদের স্বপ্ন রক্ষা করতে পারছে?
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং শহীদ হাদীর রূহের মাগফিরাত কামনায় সাতক্ষীরায় গায়েবানা জানাজা, বিক্ষোভ মিছিল ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) জুমার নামাজ শেষে সাতক্ষীরা শহরের আসিফ চত্বরে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা শহর শাখার উদ্যোগে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিউমার্কেট মোড়ে গিয়ে দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে শেষ হয়।
গায়েবানা জানাজা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মাওলানা জিয়াউল ইসলাম। জানাজা ও দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণকারীরা শহীদ হাদীর আত্মত্যাগ স্মরণ করে গভীর শ্রদ্ধা জানান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, শহীদ শরিফ ওসমান হাদী কোনো ব্যক্তি নন—তিনি একটি আদর্শ, একটি প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। তার হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশপ্রেমিক শক্তিকে দমন করার অপচেষ্টা চলছে। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ভারতের মাটি থেকে ফিরিয়ে এনে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, শহীদদের রক্ত কখনো বৃথা যায় না। যতদিন না বিচার নিশ্চিত হবে, ততদিন রাজপথেই এর জবাব দেওয়া হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন আরাফাত হোসেন, ইমরান, রাহাত, নাজমুল হাসান রনিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ। পুরো আয়োজনজুড়ে শোক, ক্ষোভ ও প্রতিবাদের আবহ বিরাজ করে।
শহীদ শরিফ ওসমান হাদীর আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিতরা।