September 22, 2026, 11:15 am
শিরনাম :
পরিকল্পিত সন্ত্রাসের প্রতিবাদে বাগেরহাটে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজে তারুণ্যের মেলা নওহাটা পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডে বিএনপি নেতার গণসংযোগ কলকাতার বাজে প্রতাপ ঘাট সহ অন্যান্য ঘাটেও চলছে বিশ্বকর্মা বিসর্জন ফরিদপুরে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন চন্দ্রিমা থানায় কিশোর গ্যাং প্রতিরোধের দাবিতে এলাকাবাসীর স্মারকলিপি কাঁঠালিয়ায় মাদকসহ দুজন গ্রেপ্তার ময়মনসিংহে মাদক সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতনায় আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত কাঁঠালিয়ায় আদালতে মামলা চলার মধ্যেই সীমানা বেড়া ভাঙচুরের অভিযোগ অনিয়মের অভিযোগে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরে দুদকের অভিযান

ইবি শিক্ষিকা হত্যা: মাভাবিপ্রবি শিক্ষকের তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ

ইসরাত জাহান আশা, মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ অফিসে নৃশংসভাবে জবাই করে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হলেও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকসমাজের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

গত বুধবার (৪ মার্চ ২০২৬) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান আসমা সাদিয়া রুনাকে অফিসে একা পেয়ে ফজলুর রহমান নামে এক কর্মচারী দরজা লাগিয়ে গলায় উপর্যুপরি ছুরি চালিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।

এ বিষয়ে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. জিয়াউর রহমান বলেন-
‘ইফতারের পর মর্মান্তিক খবরটি দেখে রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়েছি। দিনে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিকা ও বিভাগীয় প্রধানকে নিজ অফিসে নির্মমভাবে জবাই করে হত্যা করল। ঐ কর্মচারী ধারালো চাকু কোথায় পেলেন? বিভাগের প্রধান অফিসে অথচ সহকর্মী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ছাত্র-ছাত্রী কিংবা আশেপাাশের কেউই কিছু টের পেলেন না!

হাতির ঝিল, নরসিংদী, পাবনা, সীতাকুন্ডে শিশু ধর্ষন- হত্যার পর নতুন আর এক কলংকজনক ঘটনার স্বাক্ষী হল এবার কুষ্টিয়া।

গত বুধবার ন্যাক্কারজনকভাবে শিক্ষিকাকে জবাই করে হত্যা করা হল ও সম্প্রতি এতগুলো শিশু-ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটল, কিন্তু সারাদেশের শিক্ষকরা নির্লিপ্ত, সুশীল দর্শকের ভূমিকা পালন করে চলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ফোরামগুলোর পক্ষ থেকে জোরালো কোন প্রতিবাদ/ বিবৃতি এখনো পর্যন্ত আমার চোখে পড়েনি। রাজনৈতিক বিষয়ে তাদের প্রতিবাদ, বিবৃতি, গণস্বাক্ষরের অভাব হয় না, কিন্তু এই হত্যা-ধর্ষণের ধারাবাহিক ঘটনাগুলোতে তাঁদের নিরবতা রহস্যজনক বলে মনে হয়।

শিক্ষিকা হত্যার ও পরবর্তী প্রতিবাদের খবর আমাদের দেশের সংবাদ ও গণমাধ্যমেগুলোতেও গুরুত্বের সাথে প্রচার করা হয়নি। শিক্ষার্থী- প্রতিনিধি কিংবা কারনে-অকারনে সরব ছাত্র-সংসদগুলোর পক্ষ থেকেও কোন কোন বিবৃতি দেখতে পাইনি।’

তিনি আরও বলেন-
‘প্রচলিত আছে, শিক্ষকরা জাতির বিবেক। জানি- সে বিবেকে পচন ধরেছে অনেক আগেই। স্বার্থ যেখানে নাই আমাদের ঘুনে ধরা বিবেক সেখানে অন্ধ; বধির। আত্নকেন্দ্রিক শিক্ষকসমাজ যখন জাতির বিবেকের ভূমিকায়, তখন জাতিকে হয়তো আরো বড় গ্লানির জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

আজ যে ছুরি সহকর্মীর গলায় পরেছে, বিচার না হলে, কাল সে ছুরি পরবে অন্যের গলায়। নিহত আসমা সাদিয়া রুনা ম্যাডামের অবুঝ চার শিশু ও হতবাক স্বামীর কান্না দেখে নিজেকে শিক্ষক পরিচয় দিতে সঙ্কোচ বোধ করছি। তদের ব্যর্থ আহাজারি কাল আপনার আমার সন্তানের কান্না ডেকে আনবে।

আমার এ ক্ষুদ্র কণ্ঠে জঘন্য এই হত্যাকান্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সুষ্ঠু বিচার এবং অপরাধের সাথে জড়িত/জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।’

উল্লেখ্য নিহত আসমা সাদিয়া রুনার মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার চার সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশবাসী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ