সাভারের অবস্থিত দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)। প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষার্থীর এই বিশাল ক্যাম্পাসে যাতায়াতের জন্য বিদ্যমান পরিবহন সেবা এখন প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। ফলে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
যাতায়াতের করুণ চিত্র
ক্যাম্পাসটি ঢাকা থেকে দূরে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের বই কেনা, কোচিং বা ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক প্রয়োজনে নিয়মিত ঢাকায় যাতায়াত করতে হয়। এছাড়া অনেক শিক্ষার্থী ঢাকা থেকে এসে ক্লাস করেন। কিন্তু ঢাকা-ক্যাম্পাস রুটে বাসের সংখ্যা খুবই কম।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাসে সিট না পেয়ে শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দরজায় ঝুলে যাতায়াত করছেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পর পরিবহন সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। এ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রোহান আহমেদ বলেন:
“আমাদের প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন প্রয়োজনে ঢাকা যেতে হয়। বিশেষ করে বই কেনা বা প্রয়োজনীয় কেনাকাটার জন্য ঢাকার ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের যে পরিমাণ বাস রয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় বাসে ওঠা সম্ভব হয় না।”
জাকসু পরিবহন ও যোগাযোগ সম্পাদক তানভীর রহমান বলেন, জাকসু সবসময় শিক্ষার্থীদের কল্যানে কাজ করে আসছে। পরিবহন সমস্যা সমাধানে জাকসু চেষ্টা করে যাচ্ছে। আশা করি খুব দ্রুত এই সমস্যা সমাধান করতে পারবো।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রাশিদুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে বলেন:
“শিক্ষার্থীদের যাতায়াত কষ্টের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান বাজেটের সীমাবদ্ধতা ও বিদ্যমান বাসের সংখ্যা দিয়ে এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীর চাপ সামলানো কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে আমরা পরিবহন কমিটির সাথে কথা বলছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাসের শিডিউল সমন্বয় করা এবং নতুন বাস সংযোজনের মাধ্যমে এই সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা যেন নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারে।”
শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাসের সংখ্যা বাড়িয়ে এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের স্থায়ী সমাধান করা হোক।