July 27, 2026, 2:44 am
শিরনাম :
রাজবাড়ীতে আর্থিক প্রতারণার প্রতিবাদে ও টাকা ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন পাথরঘাটায় জেলের ছদ্মবেশী সাংবাদিকের কাছ থেকে নৌ পুলিশের চাঁদা গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইউএইর সভাপতিতে সংবর্ধনা ঝালকাঠি জেলা পরিষদে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত তালা হাসপাতালের ডাক্তার ও কর্মচারী সাসপেন্ড খালিয়াজুড়ির মেন্দিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করার অভিযোগ জামালপুরে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন বান্দরবানে সদর ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসনিক ক্ষমতা পেলেন কৃষি কর্মকর্তা চাঁপাইনবাবগঞ্জে সবুজ বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগে বৃক্ষমেলা উদ্বোধন শ্যামনগরে জলাবদ্ধতায় ফসলের জমি পানিতে তলিয়ে আছে

ক্ষতিপূরণ নিয়েও বাধা! ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে ১৩২ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের নির্মাণকাজে বাধা: এসপির শরণাপন্ন পিজিসিবি, কাজ সম্পন্ন হলে কমবে লোডশেডিং, কমবে জনদুর্ভোগ

আব্দুল হাফিজ, ময়মনসিংহ ব্যুরো প্রধান

ময়মনসিংহে শহর কিংবা গ্রাম—সর্বত্রই বিদ্যুৎ আসা–যাওয়া এখন নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে গরমের সময় ঘনঘন লোডশেডিংয়ে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। বিদ্যুৎ বিভাগের ভাষ্য, উৎপাদন কম ও চাহিদা বৃদ্ধির কারণে লোডশেডিং বেড়েছে। তবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে Power Grid Bangladesh PLC বাস্তবায়ন করছে সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প—“বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন”।

এই প্রকল্পের আওতায় ময়মনসিংহ- নেত্রকোণা ১৩২ কেভি ডাবল সার্কিট (LILO) সঞ্চালন লাইনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু টিটি-২ টাওয়ারের জমির মালিক চান মিয়ার বিরুদ্ধে নির্মাণকাজে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ২৫ জানুয়ারি ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন “বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন” প্রকল্পের পরিচালক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) প্রবীর চন্দ্র দত্ত।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪.৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সঞ্চালন লাইনের কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। এটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে অনুমোদিত এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ ও মানসম্মত, নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিতের লক্ষ্যেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত ৩৬০ মেগাওয়াট আরপিসিএল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন এবং কেন্দ্রটিতে ব্যাক-ফিড সরবরাহ নিশ্চিত করতে লাইনের নির্মাণ চলতি বছরের (২০২৬) ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পন্নের নির্দেশনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দাবি, লাইনের সব টাওয়ারের পূর্তকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ২১টি টাওয়ারের মধ্যে ১৪টির ইরেকশন শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট টাওয়ারগুলোর ইরেকশন ও স্ট্রিংগিং জন্য প্রয়োজনীয় মালামাল সংরক্ষিত রয়েছে। বিদ্যুৎ আইন ২০১৮ ও বিদ্যুৎ বিধিমালা ২০২২ (সংশোধিত) অনুযায়ী টাওয়ার নির্মাণে ব্যবহৃত জমির মূল্য জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে।

ক্ষতিপূরণ গ্রহণের পরও বাধার অভিযোগ
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, টিটি-২ টাওয়ারের জমির মালিক চান মিয়া জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে ৬ লাখ ৭ হাজার ৭৬৯ টাকা ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু এরপরও তিনি টাওয়ার নির্মাণ ও লাইন স্ট্রিংগিং কাজে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প দপ্তরের পক্ষ থেকে একাধিকবার যোগাযোগ ও আলোচনার চেষ্টা করা হলেও ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসেন। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। টিটি-২ টাওয়ারের জমির মালিক চান মিয়া পিজিসিবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাওয়ার গ্রিডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ আমিনুল হক, হ্যানবেক কোঃ লিঃ এর জেনারেল ম্যানেজার সুবির সিনহা, প্রজেক্ট কোর্ডিনেটর মুন্সি নুরুন্নবী, প্রজেক্ট ম্যানেজার মাহিন হাদি, এবং সাইট ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম সহ সাংবাদিকবৃন্দ।

পাওয়ার গ্রিডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, এ ধরনের বাঁধা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অগ্রগতিকে ব্যাহত করছে এবং এটি বিদ্যুৎ আইন লঙ্ঘনের শামিল।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও সমাজকর্মী ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে এবং ভোগান্তি কমাতে এ প্রকল্প দ্রুত শেষ করা অত্যন্ত জরুরি। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে কেউ যাতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। কাজ সম্পন্ন হলে লোডশেডিং কমবে এবং জনদুর্ভোগও হ্রাস পাবে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. আশরাফুল করিম জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আজিম উদ্দিন বলেন, এ বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। ইউএনওকে দায়িত্ব দিয়েছি বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ