সারাবছর অযত্নে-অবহেলায় মাভাবিপ্রবির শহীদ মিনার, নেই কোন দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনাও, (পরিচালকের সাথে ফোনে যোগাযোগের পরেই এস্টেট অফিস থেকে পরিষ্কার করতে আসে)।
একুশ এলে যে প্রাঙ্গণে ভোরের আলো ফোটার আগেই জড়ো হন শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ, যে বেদিতে ফুলে ফুলে ভরে ওঠে ভাষা শহীদদের প্রতি অগাধ ভালোবাসা– বছরের বাকি সময়ে সেই শহীদ মিনারই যেন পড়ে থাকে নীরবতায়।

কয়েকবছর আগেও চিত্রটা ছিল একেবারে ভিন্ন। শহীদ মিনারের বেদীতে বসে শিক্ষার্থীরা আড্ডা দিত, মিটিং এবং গ্রুপ স্টাডিও করত। এখন অযত্নে অবহেলায় সারাবছর জায়গাটি বসবাসের অনুপযোগী অবস্থাতেই পড়ে থাকে।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) শহীদ মিনারকে ঘিরে এমনই আক্ষেপ শোনা যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ঠিক সামনে হাতির কবরের পাশে স্থান পেয়েছে এই শহীদ মিনারটি। তৎকালীন উপাচার্য ড. ইউসুফ শরীফ আহমেদ খান ২০০৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। পরের দিনই ছিল মহান একুশে ফেব্রুয়ারি।
ইতিহাসঘন সেই মুহূর্তের সাক্ষী শহীদ মিনারের পাশে থাকা সেই স্মারক ফলকটিও এখন রোদ-ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষয়ে গিয়ে ধুলাবালিতে অনেকটাই মলিন হয়ে গেছে, যার কারণে লেখাগুলো স্পষ্টভাবে পড়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় অংশে অবস্থিত শহীদ মিনারটি কেবল একটি স্থাপনা নয়- এটি ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, আত্মত্যাগ এবং বাঙালির আত্মপরিচয়ের প্রতীক। তাই এর নান্দনিকতা ও রক্ষণাবেক্ষণকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশাও স্বাভাবিকভাবেই বেশি।
এ বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের শিক্ষার্থী ছিয়াম আহমেদ রিজভী বলেন- ‘বিশেষ দিবসগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও আনুষ্ঠানিক আয়োজন থাকলেও সারা বছর শহীদ মিনার এলাকায় নিয়মিত রং-সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন বা আলোকসজ্জার দৃশ্যমান উদ্যোগ খুব একটা চোখে পড়ে না। ফলে জাতীয় চেতনার এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকটি তার প্রাপ্য মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ থেকে অনেকটাই বঞ্চিত হচ্ছে।’
ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় অংশে অবস্থিত শহীদ মিনারটি কেবল একটি স্থাপনা নয়–এটি ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, আত্মত্যাগ এবং বাঙালির আত্মপরিচয়ের প্রতীক। তাই এর নান্দনিকতা ও রক্ষণাবেক্ষণকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশাও স্বাভাবিকভাবেই বেশি।
এছাড়া লাইফ সায়েন্স অনুষদের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান মিম বলেন-‘ আমাদের জাতীয় চেতনার অন্যতম প্রতীক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। এটি শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের নীরব সাক্ষী। তবেশুধু বিশেষ দিবসেই কেন ফুল শহীদ মিনারে? কেন নেই এর সঠিক পরিচর্যা? সাধারণ দিনগুলিতে শহীদ মিনার পড়ে থাকে পরিত্যক্ত অবস্থায়, এছাড়াও নেই এর সংস্কার, আকার আকৃতি বৃদ্ধি বিষয়ক দীর্ঘমেয়াদি কোন উন্নয়ন পরিকল্পনা।’
শহীদ মিনারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাস্টেট পরিচালক অধ্যাপক ড. মো: আশরাফ আলী-এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ ব্যাপারে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। শহীদ মিনারটি যেভাবে আছে সেভাবেই আমাদের অফিস থেকে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়।”
উল্লেখ্য এস্টেট পরিচালকের সাথে ফোনে যোগাযোগের পর শহীদ মিনার এলাকাতে পরিষ্কারকর্মী পাঠিয়ে পরিষ্কার করতে দেখা গেছে।
একই সাথে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন বা সংরক্ষণ পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিচালকের বক্তব্য থেকে সুস্পষ্ট কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি।
এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা– শুধু একুশে ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে না বরং শহীদ মিনার এলাকাটি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পরিকল্পিত সংস্কার, ফলক সংরক্ষণসহ এর নান্দনিক পরিবেশ দ্রুত নিশ্চিত করা হোক।