মহিলা বিভাগের পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নিকট স্মারকলিপি প্রদান
০১ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) বিকাল ৩টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নিকট তাঁর আগারগাঁওয়ের কার্যালয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণকারী নারীদের উপর অব্যাহত সহিংসতা, বর্বরোচিত হামলা ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
স্মারকলিপি প্রদান অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বিশিষ্ট মজলুম সাংবাদিক ওলিউল্লাহ নোমান, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটাারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি সাঈদা রুম্মান ও মারজিয়া বেগম এবং মহিলা বিভাগের কর্মপরিষদ সদস্য ডা. হাবিবা চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নিকট তাঁর প্রদত্ত স্মারকলিপি দেশবাসীর উদ্দেশে এখানে তুলে ধরা হলো-
তারিখ: ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
বরাবর
প্রধান নির্বাচন কমিশনার
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন
আগারগাঁও, ঢাকা।
বিষয়: দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণকারী নারীদের উপর অব্যাহত সহিংসতা, বর্বরোচিত হামলা ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে স্মারকলিপি।
জনাব,
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আপনি অবগত আছেন যে, আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো জনসমর্থন আদায়ের জন্য প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রার্থীরা তাদের সাধ্যমত জনগণের কাছে গিয়ে তাদের সংশ্লিষ্ট দল ও মার্কার পক্ষে ভোট চাওয়ার চেষ্টা করছেন। সাম্প্রতিককালে এই কাজ করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘাত, সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে, গত ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী নিপীড়নের বেশ কিছু ঘটনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এসব ঘটনা অনলাইন সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মূলধারার গণমাধ্যমে নিয়মিতভাবে প্রকাশিত ও প্রচারিত হচ্ছে, যা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে।
মহোদয়,
গণতন্ত্রের প্রধান সৌন্দর্য হলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ভয়হীন চিত্তে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতির অঙ্গন নারীদের জন্য এক বিভীষিকাময় অঙ্গন। বিশেষ করে নির্বাচনের প্রাক্কালে মাঠপর্যায়ে জামায়াতে ইসলামী এবং ১১ দলীয় জোটের নারী কর্মীদের ওপর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যে পরিকল্পিত ও পৈশাচিক হামলার উৎসব চলছে, তা কেবল মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনই নয়, বরং আমাদের জাতীয় রাজনীতির জন্য কলঙ্কজনক অধ্যায়।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যমতে, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, মিছিল, পোস্টার লাগানো, প্রচারণা সভা ও ভোট চাওয়ার সময় নারীরা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, হুমকি, ইভটিজিং এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার মতো ঘটনার শিকার হচ্ছেন। নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত নারীদের উপর হামলার কিছু ঘটনা উল্লেখ করা হলো:
১) ভোলার লালমোহন উপজেলা (রায়চাঁদ বাজার এলাকা)
নির্বাচন প্রচারণার অংশ হিসেবে নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি ভোটার সংযোগ কার্যক্রম চালানোর সময় মৌখিক হয়রানি ও বাধার মুখে পড়েন। পরবর্তীতে স্থানীয় বাজার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সংঘর্ষ শুরু হয়। ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও শারীরিক হামলায় অন্তত ১৫ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করায় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
২) ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা (চর মানিকা ইউনিয়ন)
এক নারী প্রচারকর্মী প্রতিপক্ষ প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর শারীরিক হামলা চালানো ঠেকাতে এগিয়ে এলে তার ৯ মাসের অন্ত:সত্ত্বা কন্যাকেও পেটে লাথি মারা হয়। মা ও মেয়ে দুজনেই গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। ঘটনাটি নির্বাচনকালীন নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
৩) নাটোর-২ (সদর) আসন, চাটনি ইউনিয়ন
নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনেই নারী কর্মীদের পথরোধ করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। তাদের প্রচার কার্যক্রম জোরপূর্বক বন্ধ করতে বাধ্য করা হয়। পরে ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণের হুমকি দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
৪) মেহেরপুর সদর, গহরপুর গ্রাম
দুপুরের দিকে নারী প্রচারকর্মীরা বাড়ি বাড়ি ভোট চাইতে গেলে তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। এতে তারা কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হন। নারী কর্মীদের রক্ষায় এগিয়ে এলে কয়েকজন পুরুষ কর্মীর ওপর হামলা চালানো হয়। এলাকাবাসী জানান, একই এলাকায় আগেও এমন বাধার ঘটনা ঘটেছে।
৫) যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা (যশোর- ২ আসন)
কীর্তিপুর গ্রামে নারী প্রচারকর্মীদের একটি দলের ওপর দলবদ্ধ হামলা চালানো হয়। তাদের মারধর করা হয় এবং মোবাইল ফোন ভাঙচুর করা হয়। নগদ অর্থসহ ব্যক্তিগত ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় সেখানে নারী কর্মীদের প্রচারণা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
৬) যশোর সদর (যশোর- ৩ আসন)
একই দিনে যশোর সদরের বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পিতভাবে ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হয়। নারী কর্মীদের নির্দিষ্ট এলাকায় প্রবেশ না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। এতে প্রচারণা দৃশ্যত কমে যায়। প্রশাসন অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়নি।
৭) লালমনিরহাট জেলা- হাতীবান্ধা উপজেলা
নারী প্রচারকর্মীদের হিজাব খুলে ফেলার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে এবং অন্তত ২০ জন আহত হন। বাড়িঘর ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
৮) চুয়াডাঙ্গা জেলা- আলমডাঙ্গা উপজেলা (যুগীরহুদা ও খাদিমপুর)
তারিখ: ২৫-২৬ জানুয়ারি ২০২৬
ক. যুগীরহুদা গ্রামে নারী কর্মীদের হয়রানি থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। লাঠি ও পাথর নিক্ষেপে উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হন। পরদিন খাদিমপুরেও একই ধরনের বাধা ও মৌখিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাৎক্ষণিক কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
খ. কুমিল্লা ৮ আসনের ঝলম ইউনিয়নের ডেওয়াতলী গ্রামে জামায়াতের মহিলা কর্মীদের উপর অতর্কিত আক্রমণ করে যুবদলের সন্ত্রাসী জিয়াউল হক ও তার দলবল। দুজন মহিলা এ আক্রমণের ভিডিও রেকর্ড করায় তাদেরকে হেনস্তা করে ও মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলে।
৯) রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস
এক ছাত্রনেতা হিজাব পরিহিত নারী প্রচারকর্মীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
১০) ঢাকা মহানগর কদমতলী (ওয়ার্ড নং ৫২)
নারী নেত্রী কাজী মারিয়া ইসলাম বেবী নির্বাচনী প্রচারণার সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন। মাথায় গভীর জখম হলে তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনাটি রাজধানীর নারী প্রচারকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
১১) কুষ্টিয়া জেলা, কুষ্টিয়া- ৩ আসন, আইলচারা ইউনিয়ন
তারিখ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
নারী প্রচারকর্মী ও এক প্রার্থীর মাকে প্রকাশ্যে বাধা দেওয়া হয়। তাদের লিফলেট ও ব্যক্তিগত ব্যাগ জব্দ করা হয় এবং অপমানজনক ভাষায় হেয় করা হয়। ঘটনাটি দিনের আলোতে ঘটলেও কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিকার দেখা যায়নি। এতে বয়স্ক ও নারী কর্মীদের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়ে।
১২) টাঙ্গাইল-২ আসন, গোপালপুর উপজেলা
টাঙ্গাইল-২, গোপালপুর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় জামায়াতের নারী কর্মী ও সমর্থকদের পতাকা, ব্যানারসহ প্রচারণা কার্যক্রমে বাধা দেওয়া ও হয়রানি করা হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয় সুতি নয়াপাড়া এলাকায় ঘটে, যেখানে এই নারীদের কোনো সভা বা প্রচার কাজ করতে দেওয়া হয়নি। পরে এই ঘটনায় গোপালপুর থানা পুলিশ একটি মামলা করেছে এবং নারী কর্মীদের নিরাপত্তা ও অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
এছাড়াও সারাদেশে অহরহ নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, হুমকি ও হয়রানির ঘটনা ঘটছে।
আমরা মনে করি, নারীর নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্যতম পূর্বশর্ত। নির্বাচনকালীন এ ধরনের সহিংসতা ও নিপীড়ন শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘনই নয়, বরং নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা, অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ এবং নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে সরাসরি বাধাগ্রস্ত করে।
এমতাবস্থায়, আমরা বিনীতভাবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নিকট নিম্নোক্ত দাবি ও সুপারিশসমূহ উপস্থাপন করছি-
১. নির্বাচন প্রচারণাকালে নারী কর্মী, প্রার্থী ও ভোটারদের প্রতি যেকোনো ধরনের সহিংসতা, হয়রানি ও হুমকিকে আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান কার্যকর করতে হবে।
২. নির্বাচনকালীন নারী নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা দিতে হবে।
৩. প্রত্যেক এলাকায় নারী প্রার্থী ও প্রচারকর্মীদের জন্য বিশেষ পুলিশ টহল, মোবাইল টিম ও নিরাপত্তা প্রটোকল চালু করতে হবে।
৪. নির্বাচন কমিশনের অধীনে একটি পৃথক নারী-সংবেদনশীল হেল্পলাইন, অভিযোগ ডেস্ক ও অনলাইন অভিযোগ প্ল্যাটফর্ম চালু করে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে।
৫. কোনো প্রার্থীর সমর্থক বা কর্মীর দ্বারা নারী নিপীড়নের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে দায়ী করে সতর্কতা, জরিমানা বা প্রার্থিতা বাতিলের বিধান কার্যকর করতে হবে।
৬. নারী নির্যাতনের ঘটনায় পুলিশ বা প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
৭. হিজাব, পোশাক, লিঙ্গ বা ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, হুমকি ও অপমানকে নির্বাচন আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
৮. যেসব এলাকায় নারী কর্মীদের ওপর বারবার হামলার ঘটনা ঘটছে, সেসব এলাকা ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করে সেখানে অতিরিক্ত নজরদারি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৯. নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে একটি ‘নারী-সহিংসতামুক্ত নির্বাচন’ নীতিগত ঘোষণা দিয়ে সকল প্রার্থী ও দলের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকার গ্রহণ করতে হবে।
সর্বোপরি আমরা মনে করি, ভোট একটি সার্বজনীন ও মৌলিক রাজনৈতিক অধিকার। দেশের প্রতিটি নাগরিক শান্তিপূর্ণ ও স্বাধীনভাবে যেকোনো প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে এবং নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করতে পারেন। এই সাংবিধানিক অধিকারে বাধা প্রদান গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুতর হুমকি এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিপন্থী।
অতএব, জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে সারাদেশে অবাধ ও নিরাপদ প্রচারণার পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের সময়োপযোগী, কার্যকর ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। গণতন্ত্রের সূর্য যেন সহিংসতার মেঘে ঢাকা না পড়ে সেই প্রত্যাশায় আপনার বলিষ্ঠ পদক্ষেপ কামনা করছি। আমরা আশা করি, নির্বাচন কমিশন তার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে দেশে একটি ভীতিহীন ও মর্যাদাপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে।