July 25, 2026, 7:30 pm
শিরনাম :
পবিপ্রবিতে উদয় ভবনের নিলাম অনুষ্ঠিত আগের সরকারের দুর্নীতির তদন্ত করে পরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু যশোরের বাঘারপাড়ায় এনসিপির পথসভায় হাসনাত আব্দুল্লাহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ তালায় টিআরএম বিলের বকেয়া আদায় ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন প্রান্তিক ভূমিহীন ও মৎস্যজীবীদের কেন্দ্রীয় ভূমি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত পবিপ্রবিতে চাকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় জুলাই অভূত্থান স্মরণে ছাত্রশিবিরের আয়োজনে স্বর্ণপদক প্রদান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহী ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন ভূমিমন্ত্রী মেদনী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মাঠে রফিকুল ইসলাম খান

সাগর ও সুন্দরবনের নদীতে বনদস্যু আতঙ্কে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন জেলেরা

তরফদার রবিউল ইসলাম

বনদস্যু আতঙ্কে দুবলারচরের ১০ হাজারের বেশি শুঁটকিকরণ জেলে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখে চরে অবস্থান নিয়েছেন।

সোমবার রাতে অপহৃত ২০ জেলের গত দুই দিনেও সন্ধান মেলেনি। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বনবিভাগ রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কায় রয়েছে।

দুবলা ফিসারম্যান গ্রুপের সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সুন্দরবন ও সাগরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকায় বনদস্যুদের হাতে অপহরণের আতঙ্কে দুবলার ১০ হাজারের বেশি শুঁটকিকরণ জেলে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে সাগর ও সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন। জেলেরা এখন চরে অলস সময় কাটাচ্ছেন। মৌসুমের শেষ পর্যায়ে এসে তারা কী নিয়ে বাড়ি ফিরবেন, সে চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম বাহিনী নামে বনদস্যুদের চারটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে সুন্দরবন ও সাগরে তৎপরতা চালাচ্ছে। জেলেদের অপহরণ করে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় করছে। যারা টাকা দিতে পারছে না, তাদের বেদম মারধর করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে দস্যুদের মারধরে গুরুতর আহত চারজন জেলে রামপাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সুন্দরবনে দস্যুরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ করেন দুবলা ফিসারম্যান গ্রুপের সভাপতি।

আলোরকোলের রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী জানান, আগে প্রবাদ ছিল— ‘জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ’; এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, ‘সাগরে গেলে ডাকাত।’ দস্যুদের তাণ্ডবে মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়েছে। গত ১৫ দিনে বহু জেলেকে দস্যুরা অপহরণ করেছে। তাদের কব্জায় বর্তমানে কমপক্ষে শতাধিক জেলে আটক রয়েছেন। গত সোমবার রাতে ২০ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার সময় দস্যুরা যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে যায়। তবে গত দুই দিনেও ওই ২০ জেলের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের জেলেপল্লী দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় বলেন, ‘দস্যু আতঙ্কে জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ রাখায় রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।’

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘বনদস্যু আতঙ্কে তাদের স্টেশন অফিস থেকে কোনো জেলে সুন্দরবনে মাছ ধরার পাস নিচ্ছেন না। এতে মাসিক রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।’

সুন্দরবনসংলগ্ন শরণখোলা বাজারের জালাল মোল্লা, আনোয়ার সওদাগর ও রিপন হাওলাদারসহ কয়েকজন মুদি দোকানি বলেন, ‘জেলেরা সুন্দরবনে না যাওয়ায় তাদের বেচাকেনা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।’

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বনরক্ষীরা জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছেন।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ