April 16, 2026, 3:42 am
শিরনাম :
রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের সৌজন্য সাক্ষাৎ ইরান যুদ্ধে যোগদানের চাপের কাছে যুক্তরাজ্য নতি স্বীকার করবে না ছাত্রশিবির ত্রর “সাথী শিক্ষাশিবির—২০২৬” অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা নিয়ে ইরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান শেরপুর সদর উপজেলার হাজী পাম্পে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা বর্নিল সাজ,গন্ধ ও গীতিতে নতুন বাংলা সনকে বরণ করে নিলো প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি বৃত্তি পরীক্ষা চালু হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অত্যন্ত আনন্দিত: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সরকারের ভাবমূর্তি যেন ক্ষুন্ন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন – হজ টিমের সদস্যদের প্রতি ধর্মমন্ত্রী বাঘাইছড়িতে ‘রিপোর্টার্স ইউনিটি’র আত্মপ্রকাশ: সভাপতি মোঃ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন সোমবাজার ঈদগা মাঠে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে ৫ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা উদ্বোধন

গরুর ঘূর্ণি থেকে মেশিনের শব্দ উপকূলে ধান মাড়াইয়ের নতুন নাম ভ্রাম্য মেশিন গ্রামে গ্রামে আকাশচুম্বী চাহিদা শ্রমিক সংকটে কৃষকের স্বস্তি

শাহজাহান সিরাজ, কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি

গরুর ঘূর্ণি থেকে মেশিনের শব্দ উপকূলে ধান মাড়াইয়ের নতুন নাম ভ্রাম্য মেশিন
গ্রামে গ্রামে আকাশচুম্বী চাহিদা শ্রমিক সংকটে কৃষকের স্বস্তি

একসময় আমন মৌসুম এলেই খুলনা জেলার সর্বদক্ষিণের উপকূলীয় গ্রামগুলোতে দেখা যেত ভিন্ন দৃশ্য। খোলা উঠোনে গোল করে ছড়িয়ে রাখা ধানের আটি, মাঝখানে বাঁশের খুঁটি, আর চোখ বেঁধে মুখে ঠুসি দিয়ে গরু ঘুরছে। সেই গরুর পায়ের তালে তালে ভাঙত ধানের শীষ। সময় বদলেছে। এখন সেই উঠোনেই শোনা যায় ভ্রাম্যমান ধান মাড়াই মেশিনের শব্দ। উপকূলে ধান মাড়াইয়ের নতুন নাম হয়ে উঠেছে এই মেশিন।

কয়রা উপজেলার সুন্দরবনঘেঁষা গ্রামগুলোতে এখন আর গরু দিয়ে ধান মাড়াই চোখে পড়ে না বললেই চলে। তার জায়গা নিয়েছে ভ্রাম্যমান মেশিন।

“আগে গরু ঘুরত, এখন মেশিন ঘোরে”

“আগে উঠোনে গরু ঘুরাইতাম। সারাদিনে অল্প ধান মাড়াই হইত। এখন মেশিন আনলে আধা দিনে সব শেষ।” তার ভাষায়, গরু দিয়ে মাড়াই করতে যেমন সময় লাগত, তেমনি খড় আর ধান সামলাতেও ঝামেলা হতো। উপকূলীয় কয়রা উপজেলার প্রবীণ কৃষক হাবিবুর রহমান ঢালী এভাবে নিজেদের ভাষায় বলছেন বাস্তবতার কথা।

কয়রার কৃষক লতিফ মোল্লা বলেন, “এহন আর গরু পালনের মানুষ নাই। গরু রাখনও ঝামেলা। মেশিনে দিলেই ধান ছাইড়া দেয়।”
আরেক কৃষাণী রহিমা বেগম বলেন, “গরু দিয়া মাড়াই করতেগে ঘাম ঝরত। মেশিনে কাম তাড়াতাড়ি অইয়া যায়।”

“লোক নেই, সময়ও নেই”
উপজেলার উপকূলীয় গ্রামের কৃষক মোখলেছুর রহমান বলেন, “এখানে ধান কাটার লোক পাওয়া খুব কষ্ট। কেউ আসতে চায় না। মেশিন না হলে ধান ঘরে তোলা মুশকিল।” তিনি জানান, কাটা ধান বেশিদিন পড়ে থাকলে লবণাক্ত বাতাস ও শিশিরে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

“ধান পড়ে থাকলে লোকসান”
কৃষক আবদুল কাদের বলেন, “ধান কেটে রেখে মাড়াই করতে না পারলে ক্ষতি হয়। মানুষ পাই না, তাই মেশিনই একমাত্র ভরসা।” তিনি জানান, আগে যেখানে এক বিঘা ধান মাড়াইয়ে লেগে যেত পুরো দিন, সেখানে এখন দুই-তিন ঘণ্টায় কাজ শেষ।
মেশিনেই সময় বাঁচছে:

ভ্রাম্যমান মেশিনচালকরা বলছেন, আমন মৌসুম এলেই কাজের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এক মেশিনেই দিনে একাধিক গ্রামে কাজ করতে হয়।

মেশিনচালক আবু সুফিয়ান বলেন, “এই সময় ফোন বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। এক জায়গা শেষ না হতেই আরেক জায়গা থেকে ডাক আসে।” তিনি আরও বলেন, প্রায় আড়াই লাখ টাকায় এ বছর মেশিনটি কিনেছেন। ধান মাড়াই মেশিনের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ২৫০-৩০০ মণ ধান মাড়াই করেন। এ মৌসুমে মেশিনের দাম উঠে যাবে বলে তিনি আশা করছেন।

যেখানে ৫০০-৬০০ টাকা দিনে মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া দায় হয়ে পড়েছে। ধান কাটা শ্রমিক সংকটের কারণে আধুনিক পদ্ধতিতে ভ্রাম্যমাণ ধান মাড়াই পাওয়ার থ্রেসাল মেশিনের ব্যাপক কদর বেড়েছে কৃষকের কাছে। কোনো রকম মাঠ থেকে ধান বাড়িতে বা রাস্তায় নিয়ে এসে এ মেশিন দিয়ে মাড়াই করা হচ্ছে। এ মেশিন দিয়ে মাড়াই করার জন্য মেশিন বাবদ ১০০ টিন ধানে ৪ টিন ধান দিতে হয়। এ মেশিনে ধান মাড়াইয়ে একজন লোক এ কাজ করে থাকেন। তবে পাশ থেকে ধান নিয়ে আসতে আরেকজন সহযোগির প্রয়োজন হয়। ব্যাপক চাহিদার কারণে মাড়াই মেশিনের মালিকদের কাছে ধান কাটার আগেই মোবাইল ফোনে বা স্বশরীরে গিয়ে সিরিয়াল দিতে হচ্ছে।

খরচ কম, ফলন সুরক্ষিত :
কৃষকদের দাবি, শ্রমিক দিয়ে মাড়াই করলে যেমন খরচ বেশি, তেমনি ধান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। মেশিনে সেই ঝুঁকি অনেকটাই কমেছে।
কৃষক নুরজাহান বেগম বলেন, “মেশিনে ধান পরিষ্কার থাকে। খড়ও ঠিকঠাক পাওয়া যায়। আমাদের কষ্ট কমেছে।”

উপকূলের নতুন চিত্র:
একসময় দল বেঁধে শ্রমিকের ধান মাড়াই ছিল উপকূলের পরিচিত দৃশ্য। এখন সেই জায়গা দখল করছে ভ্রাম্যমান মেশিন। আমন মৌসুমে খুলনার সর্বদক্ষিণের গ্রামগুলোতে এই দৃশ্যই বলে দিচ্ছে-কৃষি বদলাচ্ছে, বদলাতে বাধ্য হচ্ছে। উপকূলে আমন ধান মাড়াইয়ের নতুন নাম এখন-ভ্রাম্যমান মেশিন।

কৃষিতে বদলের ছোঁয়া:
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তিলক কুমার ঘোষ বলছেন, উপকূলীয় এলাকায় যান্ত্রিক ব্যবস্থার ব্যবহার কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে সহায়ক হচ্ছে। এবং “শ্রমিক সংকট ও প্রাকৃতিক ঝুঁকির কারণে উপকূলে যন্ত্র ব্যবহার এখন বাস্তব প্রয়োজন। ভ্রাম্যমান মেশিন ব্যবহারে কৃষিকাজে আধুনিকতা আসছে। তিনি আরও বলেন, সরকারিভাবে যন্ত্র ব্যবহারে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ