বানিয়াচংয়ে চাহিদা ও কদর বাড়ছে ভ্রাম্যমান ধান মাড়াই মেশিনের।। সময়,অর্থ কম লাগছে।
হাওর- বাওর খ্যাত বানিয়াচংয়ে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ধান মাড়াইয়ের মেশিন। কৃষকদের এখন আর গরু দিয়ে ধান মাড়াইয়ের অপেক্ষায় থাকতে হয় না। এক সময় বোরো ও আমন ধান কেটে মাঠ থেকে বাড়িতে নিয়ে আসার পর বড় পিড়িতে পিটিয়ে ধান বের করতে হতো। আবার গরু- মহিষ দিয়ে, তেলের ড্রাম বা গাছের গুলও ব্যবহার করা হতো ধান মাড়াই এর জন্য। যেগুলো ছিল সময় ও কষ্টকর।এছাড়া শ্রমিকও লাগতো বেশি। এরপর এলো পা দিয়ে ব্যবহৃত মেশিনে ধান মাড়াই। পরবর্তীতে শ্যালোমেশিনে ধান মাড়াই।
আর এখন আধুনিকতার পরিক্রমায় দিন যতই যাচ্ছে ততই আমরা যন্ত্র চালিত হয়ে পড়ছি। অল্প সময়ে কম পরিশ্রমে এখন বেশি বেশি সুফল পাবার আশা করছি।বর্তমানে আধুনিক যুগে দেশীয় পদ্ধতিতে ধান মাড়াইয়ে যন্ত্র উদ্ভাবন করা হয়েছে। যেটি দিয়ে কম সময়ে যেকোনো পরিবেশে ধান মাড়াই করা হচ্ছে।
আধুনিক পদ্ধতিতে ভ্রাম্যমাণ এ ধান মাড়াই যন্ত্র হচ্ছে পাওয়ার থ্রেসাল মেশিন। যা গ্রামগঞ্জে ভূতের মেশিন নামে বেশি পরিচিত। বর্তমানে বানিয়াচং উপজেলার কৃষকদের কাছে ধান মাড়াইয়ে এ যন্ত্রের ব্যাপক কদর রয়েছে। যেখানে ৬০০-৭০০ টাকা দিনপ্রতি মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া দায় হয়ে পড়তো। সেখানে এখন এই ভ্রাম্যমাণ ধান মাড়াই পাওয়ার থ্রেসাল মেশিনের ব্যাপক চাহিদা ও ব্যবহার দিন দিন বেড়ে চলেছে।এখন আর ধান কাটা শ্রমিকদের জন্য সময় নষ্ট হয়না। তাই আধুনিক পদ্ধতিতে ভ্রাম্যমাণ ধান মাড়াই পাওয়ার থ্রেসাল মেশিনের ব্যাপক কদর বেড়েছে কৃষকদের কাছে। কোনো রকম মাঠ থেকে ধান বাড়িতে বা রাস্তায় নিয়ে এসে এ মেশিন দিয়ে মাড়াই করা হচ্ছে।
এ মেশিন দিয়ে প্রতি বিঘা(খের) জমির ধান ৭শত টাকা থেকে ৮শত টাকা দরে মাড়াই করছেন কৃষকরা। এ মেশিনে ধান মাড়াইয়ে মোট দুইজন লোক এ কাজ করে থাকেন। একজন মাড়াই দেন,আরেকজন পাশ থেকে ধান জড়ো করে থাকেন। তাই দিন দিন কৃষকদের কাছে এই মাড়াই মেশিনের ব্যাপক চাহিদা বাড়ছে। যার জন্য কৃষকরা মাড়াই মেশিনের মালিকদের কাছে ধান কাটার আগেই মোবাইল ফোনে বা স্বশরীরে গিয়ে বুকিং দিয়ে আসেন।
মাঠ থেকে ধান তুলে নিয়ে এসে বেশির ভাগ রাস্তায় বা মাঠে পাওয়ার থ্রেসাল মেশিন দিয়ে মাড়াই করতে দেখা যায়। কৃষকরা খড়ের কথা চিন্তা না করে কোনো রকম এ মেশিন দিয়ে মাড়াই করে ধান বের করতে পারলেই চিন্তামুক্ত। শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি ও সংকটের কারণে কৃষকরা ধান ঘরে তুলার লক্ষে শ্রমিকদের দ্বিগুণ মজুরি দিয়ে ধান কাটা শুরু করলেও শ্রমিক সংকটের কারণে তা পুরোদমে ধানকাটা, মাড়াই করতে পারছিলেন না। দেখা যায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে উঠানে কিংবা মাঠে, রাস্তার ধারে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পাওয়ার থ্রেসাল মেশিন নিয়ে কৃষকের বাড়ি বাড়ি ঘুরে মাড়াই কাজ সম্পন্ন করছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলার বড়ইউড়ি গ্রামের কৃষক মো: মনু মিয়া বলেন, এক সঙ্গে ধান কাটা মাড়াই শুরু করে খুব কম সময়ের মধ্যে ঘরে ধান উঠানো যাচ্ছে। কৃষক মোতাহের মিয়া জানান, আমার আড়াই বিঘা(কের) জমির ধান একদিনেই কেটে অল্প সময়ে পাওয়ার থ্রেসাল মেশিন দিয়ে মাড়াই করে,পরের দিন উনা দিয়ে( আগুনের তাপ) দিয়ে, পরে রোধের তাপ (শুকাইয়া) ঘরে মজবুত করতে মোট চার দিন লেগেছে,আগে এই কাজই ৮/১০ সময় লাগতো। এই মাড়াই মেশিন এলাকায় না আসলে দুর্ভোগে পরতে হতো আমাদের। তাই এই মেশিনের চাহিদা ও কদর বেড়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
উপজেলার নন্দীপাড়া গ্রামের ধান মাড়াইয়ের পাওয়ার থ্রেসাল মেশিনের মালিক ওয়ারিশ উদ্দিন বলেন, প্রায় আড়াই লাখ টাকায় এ বছর মেশিনটি কিনেছেন। ধান মাড়াই মেশিনের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৩০০-৩৫০ মণ ধান মাড়াই করেন। এ মৌসুমে মেশিনের দাম উঠে যাবে বলে তিনি আশা করছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এনামুর রহমান বলেন, আবহাওয়া অনুকুল ও পরিচর্যার কারণে চলতি মৌসুমে এবার আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধান কাটা প্রায় শেষের পথে। বর্তমানে কৃষি কাজে শ্রম -সময় ও অর্থনৈতিক সাশ্রয় করতে স্থানীয় কৃষকরা আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার করছেন।