April 16, 2026, 3:54 am
শিরনাম :
রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের সৌজন্য সাক্ষাৎ ইরান যুদ্ধে যোগদানের চাপের কাছে যুক্তরাজ্য নতি স্বীকার করবে না ছাত্রশিবির ত্রর “সাথী শিক্ষাশিবির—২০২৬” অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা নিয়ে ইরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান শেরপুর সদর উপজেলার হাজী পাম্পে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা বর্নিল সাজ,গন্ধ ও গীতিতে নতুন বাংলা সনকে বরণ করে নিলো প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি বৃত্তি পরীক্ষা চালু হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অত্যন্ত আনন্দিত: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সরকারের ভাবমূর্তি যেন ক্ষুন্ন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন – হজ টিমের সদস্যদের প্রতি ধর্মমন্ত্রী বাঘাইছড়িতে ‘রিপোর্টার্স ইউনিটি’র আত্মপ্রকাশ: সভাপতি মোঃ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন সোমবাজার ঈদগা মাঠে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে ৫ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা উদ্বোধন

এত চাহিদা তবুও বিলুপ্তির পথে খেজুর গাছ রসের স্বাদ এখন স্মৃতিতে

শাহজাহান সিরাজ, কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি

এত চাহিদা তবুও বিলুপ্তির পথে খেজুর গাছ, মানুষ ভুলছে রসের স্বাদ

‘ঠোংগা আনে দে বউ, দড়াআনে দে, ঠিলে ধুয়ে দে বউ, গাছ কাটতি যাব…।’ কণ্ঠশিল্পী অনিল হাজারিকার গাওয়া জনপ্রিয় এই আঞ্চলিক গানের গাছির মতোই এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কয়রার গাছিরা। শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রামের পথঘাটে, মাঠের ধারে, কিংবা বসতবাড়ির আঙিনায় দেখা মিলছে খেজুর গাছের রস আহরণের প্রস্তুতি। যেন দম ফেলার ফুরসত নেই তাদের।

পল্লীবাংলার পল্লী কবি জসীম উদ্দীনের কালজয়ী ‘মামার বাড়ি’ কবিতার পংক্তি ‘পাকা জামের মধুর রসে রঙিন করি মুখ। মধুমাস জৈষ্ঠ্যের মতো অগ্রহায়ন মাসেও রসনা তৃপ্তির জন্য মধু পাওয়া যায়। তা হচ্ছে মধুবৃক্ষের রস, অর্থাৎ খেজুরের রস।

একটি গ্রাম্য প্রবাদবাক্য আছে ‘মাটির হাড়ি কাঠের গাই, গলা কেটে দুধ খাই’। গাছসহ খেজুরের রস বিলুপ্ত হওয়ার সাথে সাথে কালান্তরে চলে যাবে এসব প্রবাদ বাক্যও।
কয়রা উপজেলায় খেজুর গাছের সংখ্যা দিন দিন কমে যাওয়ায় কমে যাচ্ছে রসের পরিমাণ। শীত মৌসুম এলে দিন দিন চাহিদা বাড়ে খেজুরের গুড়ের! অথচ গুড় তৈরির প্রধান কাঁচামাল ‘খেজুরের রসে’র সংকট। আর এ সুযোগেই মিশে যাচ্ছে ‘ভেজাল’। ফলে দিন দিন ‘আসল’ খেজুরের গুড় হারিয়ে যাচ্ছে।যেমন কমছে খেজুর গাছ, তেমনি হারিয়ে যাচ্ছে রস সংগ্রহকারী ‘গাছি’। বর্তমান প্রজন্ম ভুলতে বসেছে খেজুরের গুড়ের সেই আসল স্বাদ, গুড় পাটালি বা রসে ভিজানো পিঠাণ্ডপায়েস খাওয়ার আনন্দ। এক সময় খেজুর গাছ কেটে রস সংগ্রহ করতেন গাছিরা। গড়ে ৮ থেকে ১০ জন পেশাদার গাছি পাওয়া যেত। এ পেশায় কেউ না আসায় কমে গেছে গাছি।

মাজায় মোটা দড়ি পেঁচিয়ে, হাতে বড় দা আর পায়ের নিচে বস্তা দিয়ে তৈরি পাখোঁজ শক্ত করে বেঁধে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। গাছের আগায় উঠে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে গাছের মরা পাতা কেটে পরিষ্কার করে তৈরি করছেন ‘চোখ’-যেখান দিয়ে ঝরবে সোনালি খেজুর রস। সেই ছিদ্রে বাঁশের নল বসিয়ে ঝোলানো হচ্ছে ঠিলে, যাতে রাতের শিশিরভেজা রসে ভরে ওঠে গ্রামের সকাল।
কথায় আছে “কয়রার যশ” খেজুরের রস”তাই শীতের মৌসুম শুরু হতে না হতেই গাছ থেকে রস আহরণের পূর্ব প্রস্তুতি শুরু হয়েছে কয়রা অঞ্চল ঘুরে দেখা যায়। গাছিরা খেজুর গাছ প্রস্তুত করতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। রস সংগ্রহের জন্য পূর্ব প্রস্তুতি হিসাবে খেজুর গাছের আগায় বিশেষ পদ্ধতিতে কাটাকুটি বা ‘তোলা দেওয়ার কাজ চলছে। ধারালো দা (গাছি দা) দিয়ে খেজুর গাছের মাথার সোনালি অংশ বের করা হয়। যাকে কয়রার ভাষায় বলে, গাছ তোলা হয়।

গাছ তোলার ৮ থেকে ১০ দিন পর দোমাঠা সেখান থেকে এক সপ্তাহ পর চা‌চ দিয়ে বাশের নল স্থাপনের মাধ্যমে শুরু হবে সুস্বাদু খেজুর রস আহরণের মূল কাজ। তার কিছুদিন পরই গাছে লাগানো হবে মাটির ভাড়। সংগ্রহ করা হবে মিষ্টি স্বাদের খেজুরের রস। তা দিয়ে তৈরি হবে লোভনীয় গুড় ও পাটালি। শীত যত বাড়বে, খেজুর রসের মিষ্টিও তত বাড়বে। শীতের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ দিনের শুরুতে খেজুরের রস, সন্ধ্যা রস ও সুস্বাদু গুড়-পাটালি। শীত মৌসুমে কয়রা উপজেলার বিভিন্ন বাড়িতে বাড়িতে খেজুরের রস জ্বালিয়ে পিঠা-পায়েসসহ নাম না জানা হরেক রকমের মুখ-রোচক খাবার তৈরির ধুম পড়ে।

গ্রামের মানুষের অনুরোধ ও বাবার ঐতিহ্য ধরে রাখতে আবার বাবার পেশায় ফিরে এলেন মহারাজপুর গ্রামের কয়রা উপজেলার গাছি নামক শিল্প কারিগর নবাব আলী হাওলাদারের পুত্র নজরুল ইসলাম হাওলাদার। তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে থেকে আমার আব্বা খেজুর গাছ কাটতেন আমি বুঝতে শিখতেই আব্বার কাছে গাছ কাটা শিখি । তখন সেকালে আমরা গাছ কাটতাম একটা গাছে এক পালি ধান (একপালি সমান ৩ কেজি) তখন ধান চাল তরিতরকারির দাম কম ছিল। আবার কিছু গাছ কাটতাম ভাগে, অর্ধেক গাছ মালিক আর অর্ধেক আমরা গাছিরা। ২০-৩০ বছর গাছ কাটার পর আব্বা মারা যান। আব্বা মারা যাওয়ার পর গাছ কাটা কাজ ছাড়ান দিয়ে বরিশালের কাউখালীতে চলে যায়। এখানে দিনমজুরের কাজ করি। ৫ থেকে ৬ বছর পর গ্রামে ফিরে আসলে সবাই আবার অনুরোধ করেন গাছ কাটা শুরু করতে। এলাকাবাসীর অনুরোধ আর বাবার স্মৃতি ধরে রাখতে ২০০০ টাকা দিয়ে সাতক্ষীরা জেলা থেকে তিনটি দা তৈরি করে এনে আবারও এ বছর গাছ কাটা শুরু করি। তবে এখন আর গাছেরা ভাগায় গাছ কাটে না। গাছ কাটে টাকায়। তবে টাকায় গাছ কাটলে গাছিদের আর লোকসান হবে না। তিনি বলেন একটা গাছ ঝুড়তে ১৫০ টাকা তারপর চাচ দিতে ১০০ টাকা সেখান থেকে প্রতি গাতায়( ৭ দিনে একটি গাতা) এরকম এরকম কমপক্ষে ১৮ গাতা কাঁদতে হবে। প্রতি গাতা গাছ প্রতি ২০ টাকা করে দিতে হবে।

গাছ কাটা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন এখন আমাদের দিকে জাতগাছি নেই। কোন গাছির ছেলে এখন আর গাছ কাটে না এজন্য জাতগাছি তৈরি হয় না। আমি দেখেছি আমার আব্বার কাছে ১০ থেকে ১২ জন গাছি তারা গাছ কাটা শিখতে আসতো পরক্ষণে গাছ কাটা শিখে তারা একজন দক্ষ গাছি তৈরি হয়। কিন্তু তারা মারা যাওয়ার পর তাদের কোন ছেলে এ পেশা ধরে রাখেনি। এখন যারা নতুন গাছি এরা গাছ কাটতে ভালো দক্ষ না। এজন্য রস ভালো বের হয় না এমনকি গাছ মারা যায়। তবে পুরাতন গাছি নজরুল ইসলামকে পেয়ে খেজুর গাছ মালিকেরা সবাই খুশি।

মঠবাড়ী গ্রামের গাছি আবু বক্কর জানান, আমার ওস্তাদ ছিলেন নওয়াব আলী হাওলাদার। তিনি ছিলেন কয়রা উপজেলার শ্রেষ্ঠ গাছি। গাছিদের ওস্তাদ। অন্যরা যে গাছে রস বের করতে পারতেন না ওস্তাদ নওয়াব আলী হাওলাদার সে গাছ কেটে রস বের করতেন। মহারাজপুরের শামোত আলী, মাঠবাড়ী গ্রামের মান্দারগাছি ও কালাম , ওহিদ, কয়রা গ্রামের ইসমাইল, আক্কাস, আবুল কালাম, আমি সহ আমরা ১০-১২ জন গাছ কাটা শিখি ওস্তাদ নওয়াব আলী হাওলাদের কাছ থেকে এর মধ্যে আমি এবং কয়রা কালাম বেঁচে আছি বাকিরা সবাই মারা গেছে। তিনি বলেন আমি এবার ৪০০ গাছ নিয়েছি কাটার জন্য।

শ্রেষ্ঠ গাছি নওয়াব আলী হাওলাদারের শিষ্য কয়রা গ্রামের গাছি আবুল কালাম বলেন, ভালো রস-গুড় পাওয়া দক্ষ গাছির ওপর নির্ভর করে আগেই বলেছি- খেজুর গাছের মাথায় এক পাশের ‘বেগো’ (ডাগা) ফেলে দিয়ে রস বের আনার জন্য জায়গা তৈরি করা এবং সেখান থেকে সুস্বাদু রস বের করে আনতে প্রতিটা ধাপে প্রয়োজন গাছির দক্ষতা। বেশি কাটা পড়লে বা ঠিক জায়গা মতো কাটা না পড়লে গাছের মাথা শুকিয়ে গাছই বিপন্ন হয়ে পড়তে পারে। তাছাড়া কখন কিভাবে কোন প্রক্রিয়ায় যেতে হবে- এসব যেমন গাছির জানা থাকতে হবে, তেমনি রস জ্বালিয়ে গুড় করেন যে জ্বালোনদার তারও রয়েছে বড় ভূমিকা। আর এই পুরো কার্যক্রমে গাছি-চাষি বা রস জ্বালানো প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিও হতে হবে মানসম্মত। এরকম কয়েকটা উপকরণের নাম বলি; যেমন-গাছিদা,বাইলধারা, ঠুঙ্গি, দড়া, পাখোজ, নলি, গুজি, উড়োদড়ি ভাড় কানাচ ইত্যাদি। এর ভেতর কোন একটা এদিক সেদিক হলে ভালো রস-গুড়ের আশা শেষ। যেমন ধরুন যে দা (গাছিদা) ব্যবহার করা হবে- তা এ কাজের জন্য মানসম্মত হতে হবে এবং এর জন্য অভিজ্ঞ কামার লাগবে দা গড়াতে। রস ধরা যে মাটির ভাড় সেটা তৈরিতেও প্রয়োজন উপযুক্ত কুমারের। খেজুরগাছ থেকে রস বের করে এনে তার থেকে গুড়-পাটালি, সব মিলিয়ে এ একটা বহুমুখী কর্মযজ্ঞ।

গাছিরা আরো জানান, গ্রামে খেজুর গাছ বেশি থাকলে গুড়ে কোনো ভেজালই থাকত না। তখন পর্যাপ্ত রস পাওয়া যেত। আর তাতেই গুড় তৈরি হতো। মানুষের চাহিদাও মেটানো যেত। এখন গাছ কম। রস আরো কম। কিন্তু খেজুরের গুড়ের চাহিদা কমেনি। তাই ভেজালে ছেয়ে যাচ্ছে চারপাশ। এখন আসল গুড় কেউ বিক্রি করতে চাইলেও ক্রেতাদের মনে সন্দেহ জাগে যে আসল গুড় কিনা।

স্থানীয়রা জানান, খেজুরের রসে নিপা ভাইরাস থাকতে পারে এমন আশঙ্কায় কাঁচা রসের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে অনেকেই। তাছাড়া এক হাঁড়ি রস বর্তমানে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা করে বিক্রি হয়। তাও আগেভাগে অর্ডার দিয়ে রাখতে হয়।

খান সাহেব কোমর উদ্দিন ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক মোঃ শাহবাজ আলী বলেন, কিভাবে বিলুপ্তির পথে উঠল খেজুরের রস-গুড় তার কিছু কথা একটু বলতে হয়। ইটভাটায় খেজুরগাছ উজাড় হয়ে গেল কেউ দেখল না। ইটভাটা গোপনে করা যায় না। ডালপালা বর্জিত একহারা খেজুর গাছ ভাটাওয়ালাদের খুব মনে ধরলো। কৃষক দেখল খেজুরগাছ বিক্রি করে দিলে একসাথে ভালো টাকা পাওয়া যায়। ব্যাস, কপাল পুড়লো রস-গুড়ের। এর সাথে যুক্ত হলো চিনিকল। এমন জায়গায় সব চিনিকল বসলো যেখানে খেজুরের রস-গুড় হয় বিস্তর পরিমাণে। যেমন দর্শনা চিনিকল (চুয়াডাঙ্গা), মোবারকগঞ্জ চিনিকল (ঝিনাইদহ), জগতি (কুষ্টিয়া), মধুখালী (ফরিদপুর) এমন আরো কত জায়গা। দেখা গেল চিনির মিল কর্তৃপক্ষ কৃষককে আখ চাষের জন্য অগ্রিম টাকা দিতে লাগল। উন্নতমানের বীজ বিনামূল্যে অথবা নামমাত্র মূল্যে কৃষকের হাতে তুলে দিল। ফলে দেখা গেল মাঠকে মাঠ কেবল আখ আর আখ। যেখানে সেখানে বসে গেল আখমাপা যন্ত্রসহ অফিসাদি। একেবারে হুলুস্থুল কাণ্ড বাধিয়ে দিল চারদিকে। মিল থেকে ঝরঝরা সাদা চিনি বেরিয়ে আসতে থাকল ট্রাককে ট্রাক। কে আর তখন খেজুর গাছের দিকে তাকায়। কে আর গুড়-পাটালি খায়। বরং খেজুর বাগান ধ্বংস করে সেখানে আখ চাষ শুরু করলো কৃষকরা। এখন দেখা যায় সেটাও ধ্বংসের পথে। চলছে চিনি আমদানির মহোৎসব।

গ্রামবাংলার ঐতিহ্য এই খেজুরগাছ আজ অস্তিত্ব সঙ্কটে। যে হারে খেজুরগাছ নিধন হচ্ছে সে তুলনায় রোপণ হয় না। শীত মৌসুমে সকালে খেজুরের তাজা রস যে কতটা তৃপ্তিকর তা বলে শেষ করা যাবে না। কৃষি বিভাগ ও কখনো খেজুরের গাছ আবাদ নিয়ে কথা বলতে বা, কৃষি মেলায় খেজুরের গাছ রোপণে উদ্বুদ্ধ করার পরামর্শ দিতে দেখা যায় না।

চাষি-গাছি-গৃহস্থের দিকে তাকিয়ে থাকলে একে বাঁচানো যাবে না। সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। এর জন্য প্রথম প্রয়োজন সদিচ্ছা। তারপর যেটা করতে হবে, দেশের যে এলাকায় রস-গুড় ভালো হয় সেখানকার কয়েকটা উপজেলা চিহ্নিত করতে হবে। তারপর ঘোষণা দিতে হবে- এক জায়গায় এক একর বা কমপক্ষে দুই বিঘা পরিমাণ জমিতে খেজুর বাগান গড়ে তুলতে সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদি লোন দেয়া হবে। গ্রামে একটু বেশি জমির মালিক যারা তারা এগিয়ে আসবে এ কথা বলাই যায়, যদি সে ব্যাংক থেকে সেভাবে লোন পায়, যদি কৃষি ডিপার্টমেন্টের সহযোগিতা পায়। কৃষক জানে খেজুরগাছ বড় না হওয়া পর্যন্ত এমনকি বড় হলেও ওই জমিতে রবিশষ্য সবজি এমনকি ধান-পাটও চাষ করে নেয়া যায়। খেজুর বাগান সহজে কিভাবে গড়ে তোলা যায় তাও তারা জানে। রাস্তার পাশ দিয়ে ক্ষেতের আইল দিয়েও সযত্নে লালিত হতে পারে এ অনন্য সম্পদ। মাটি ছেড়ে উপরে উঠতে না উঠতে খেজুর গাছ যে রস দিতে পারে তাও কোন চাষির অজানা নয়। দুঃখ হয় কত বিষয়ে কত গবেষণা প্রতিষ্ঠান হলো কত প্রশিক্ষণ হলো কিন্তু আজ পর্যন্ত দেশের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী এ সম্পদটিকে টিকিয়ে রাখতে কিছু কি করা হয়েছে-এমন কথা শুনেছি বলে মনে হয় না।

খেজুর গাছ বিলুপ্তির কারণ তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে খেজুর গাছ কর্তন, মরে যাওয়া, তদারকির অভাব এবং নতুন চারা রোপণ না করা। ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার। জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ। গাছিদের অভাব ও পেশার অনিশ্চয়তা।

এখনই যদি এই গাছের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া না হয় তবে অচিরেই হারিয়ে যাবে সুস্বাদু এই প্রাকৃতিক মধুর রসের গাছ। এখন শুধু ক্যালেন্ডার ও ছবিতেই দেখা যায় রস আহরণে গাছিরা কোমরে দড়ির সাথে ঝুড়ি বেঁধে ধারালো দা দিয়ে নিপুণ হাতে গাছ চাঁচাছোলা ও নলি বসানোর কাজ করছে। এখনই পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শুধু স্মৃতিতেই এই ঐতিহ্যকে খুঁজে পাবে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তরুণ রায় বলেন, “আমরা খেজুর গাছ রোপণে উদ্বুদ্ধ করি, ব্যাপকভাবে প্রচার বা বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেই অমাদের বিভাগের পক্ষ থেকে”।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ