ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে—এমন খবরে সারা দেশের মতো মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসেও বিরাজ করছে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পরিবেশ।
বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, মাভাবিপ্রবি শাখার নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা গেছে ব্যাপক উদ্দীপনা ও নতুন প্রত্যাশা। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারা।
গত ১২ই ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির এই নিরঙ্কুশ বিজয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সাগর আহমেদ বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমরা দীর্ঘদিন পর ভোটের অধিকার ফিরে পেয়েছি। অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পেরে জনগণ আনন্দিত। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রদলের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনটির জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। জনগণ আগামীর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর প্রতি আস্থা রেখে রায় দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা মাভাবিপ্রবি ছাত্রদল ক্যাম্পাসে সুস্থ ধারার ছাত্ররাজনীতি চর্চা করব। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সহিংসতামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করব। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসকে এগিয়ে নিতে চাই।”
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাজিদ ইসলাম দিপু বলেন, “ত্রয়োদশ নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক লড়াই পূর্ণতা পেয়েছে। ইতোমধ্যে মাভাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদল বিসিএস পরীক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি বাস সার্ভিস, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, হলে ফ্রি সাইকেল পাম্প বিতরণ ও রাস্তা সংস্কারসহ বিভিন্ন শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”
সাংগঠনিক সম্পাদক রিমন মিয়া বলেন, “সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি। এ নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত হয়েছে। আগামী দিনে আমরা ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করব।”
নতুন সরকারের প্রতি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান আবির বলেন, “এবারই প্রথম ভোট প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছি। জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। আমরা চাই নতুন সরকার আমাদের ক্যাম্পাসের উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিক।”
তিনি আরও বলেন, “মাভাবিপ্রবিতে এখনো টিএসসি নেই, পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধাও নেই। যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নে পরিবহন পুলে আরও বাস প্রয়োজন। সরকার যেন এসব সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেয়।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে যেমন উচ্ছ্বাস দেখা গেছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালনের অঙ্গীকারও সামনে এসেছে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে। এখন শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা—নতুন সরকারের সময়ে সেই অঙ্গীকারের বাস্তব প্রতিফলন।