মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৭ উদ্যাপন উপলক্ষে রাজশাহীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজশাহী গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল প্রাঙ্গণে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবে রাজশাহী অঞ্চলের ৫৩৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
সকাল ৯টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং বেলুন ও ফেস্টুন উড়ানোর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক (উপসচিব) ও অনুষ্ঠানের সভাপতি জনাব আবুল কালাম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মো. হুমায়ূন কবীর, রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. নাহারুল ইসলাম, জেলা শিক্ষা অফিসার মো. জায়েদুর রহমান এবং রাজশাহী গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ড. শাহনাজ বেগম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াডের সদস্য-সচিব ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক (প্রশাসন) ড. খিলফাত জাহান যুবাইরাহ্।
অতিথিবৃন্দের বক্তব্যের পর সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এক ঘণ্টাব্যাপী অলিম্পিয়াডের নির্ধারিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক-ক্যাটেগরিতে (৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি) ৩৩৮ জন এবং খ-ক্যাটেগরিতে (১০ম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি) ১৯৫ জনসহ সর্বমোট ৫৩৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। পরীক্ষা শেষে প্রশ্নোত্তর, উন্মুক্ত আলোচনা, মূল্যায়ন, ফলাফল ঘোষণা এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এই পর্বটি পরিচালনা করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি জনাব আবুল কালাম।
বিশ্বের সকল মাতৃভাষার সংরক্ষণ, পরিবর্ধন ও বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের মাঝে মাতৃভাষা চর্চা, প্রচার ও প্রসার ঘটাতে ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াডের আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি। তারই ধারাবাহিকতায় এ বছর চতুর্থবারের মতো দেশব্যাপী এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীরা অ্যান্ড্রয়েড ফোনের গুগল প্লে-স্টোর (Google Play Store) থেকে ‘লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড আমাই’ অ্যাপ ইনস্টল করে অথবা কিউআর কোড (QR Code) স্ক্যান করে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে। এ বছর ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা—এই ১০টি অঞ্চলে প্রতিযোগিতার ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিটি অঞ্চল থেকে ক-ক্যাটেগরিতে ১০ জন এবং খ-ক্যাটেগরিতে ১০ জন করে মোট ২০০ জন শিক্ষার্থী চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। আগামী জানুয়ারি মাসে সুবিধামতো সময়ে ঢাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এই চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
ফাইনাল রাউন্ডে দুই ক্যাটেগরি থেকে শীর্ষ ৩ জন করে মোট ৬ জন বিজয়ী একুশের অনুষ্ঠানমালায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে পুরস্কার গ্রহণ করবেন। এছাড়া ক ও খ ক্যাটেগরি থেকে শীর্ষ ২ জন করে শিক্ষার্থী এ বছর অনুষ্ঠিতব্য ‘আন্তর্জাতিক লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড’-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার গৌরব অর্জন করবে।