
বাগেরহাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের রহিমাবাদ গ্রামে কাজী মারজান (১৬) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মাদকের সহজলভ্যতা নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা চললেও তা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।
মারজান রহিমাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। পরিবারের সদস্যদের দাবি, সে দুই থেকে তিন বছর ধরে মাদকাসক্ত ছিল। মাদক কেনার টাকা না পেয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল সে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে বিষপান করে মারজান। পরে তাকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
মারজানের মৃত্যুর পর স্থানীয় বাসিন্দারা মাদকবিরোধী অবস্থান নেন। তাঁদের অভিযোগ, রহিমাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আশপাশসহ গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় মাদক কেনাবেচা চলছে। মাদক বিক্রির অভিযোগ ওঠা একটি বাড়িতে গিয়ে তাঁরা ঘর সরানোর উদ্যোগ নেন বলেও জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা শেখ হাসানুল বান্না, সোহেল খান, মিলন ও বেগ মোকাররম হোসেন এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের দাবি, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রচ্ছায়ায় মাদক কেনাবেচা চলছে। তবে অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া সম্ভব হয়নি।
বেগ মোকাররম হোসেন জানান, মাদক কেনাবেচার বিষয়ে তাঁরা বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। স্থানীয়রা রহিমাবাদকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, বিষপানের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই কিশোরের মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্ত-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।
মারজানের মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে মাদকের বিস্তার রোধ, তরুণদের সুরক্ষা এবং মাদক কেনাবেচার অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।