প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ৩:৩৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ৩:২৪ পি.এম

জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ সরকারের দ্বিমুখী আচরণের প্রতিবাদ করতেই আমাদের এই লংমার্চ: মিয়া গোলাম পরওয়ার
বিরোধী দলের লংমার্চকে পিকনিকের সাথে তুলনা করে সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বশীলের মন্তব্যকে কাণ্ডজ্ঞানহীন উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের বলেন, জাতি ভেবেছিল অভ্যুত্থান পরবর্তী সরকার জন-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিবে। কিন্তু জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার তোয়াক্কা না করে ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে গঠিত সরকার সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের ঘোষণা দিয়ে জাতির সাথে প্রতারণা করেছে। দেশের একটি দায়িত্বশীল এবং কল্যাণকর রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তার নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট সরকারের এই দ্বিমুখী আচরণের প্রতিবাদ করে জাতিকে আশান্বিত করার লক্ষ্যে এই লংমার্চের ঘোষণা করেন। আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট প্রায় ৭০% জনগণ গণভোটে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে তাদের মতামত জানিয়েছেন। সুতরাং কালবিলম্ব না করে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচার করতে হবে অন্যথায় জাতি আপনাদের ক্ষমা করবে না।
১৮ অক্টোবর (রোববার) সকাল ১১টায় খুলনা জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আগামী ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য সাত দফা দাবি আদায়ে ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখে লংমার্চ ও ফুলতলা বাসস্ট্যান্ড চত্বরের পথসভা বাস্তবায়নে ফুলতলা উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মুন্সী মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি এবং জেলা আমীর মাওলানা এমরান হোসাইন।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মঈনুল ইসলাম, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, অধ্যক্ষ গাওসুল আযম হাদি, মুহা. আমিনুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা আল মুজাহিদ, এড. আবু ইউসুফ মোল্লা, মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, অধ্যাপক মহিউল ইসলাম, জেলা শিবির সভাপতি মুহা. মমিনুর রহমান, অধ্যাপক আব্দুল আলিম, সৈয়দ হাসান মাহমুদ টিটো, মাওলানা আবুল হাসান, গাজী সাইফুল্লাহ, গাজী মোর্শেদ মামুন, মাওলানা সাইফুল হাসান, আব্দুর রশিদ বিশ্বাস, আফজাল হোসেন, মাওলানা মুশফিকুর রহমান, শেখ আলাউদ্দিন প্রমুখ।
খুলনাসহ সারাদেশের আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় বিভিন্ন সময়ে জাতিকে সংবিধানের সবক দেন। অথচ তার মন্ত্রণালয়ের দ্বায়িত্ব হলো দেশের আভ্যন্তরীণ শান্তি শৃঙ্খলা ঠিক রাখা। কিন্তু আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলে, পত্রিকার পাতা উল্টাতে নিত্যদিন ই হত্যা, খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, চাঁদাবাজির সংবাদ দেখি। সাধারণ জনগণ বর্তমানে সবসময় আতঙ্কে থাকে না জানি কখন কি ঘটে। খুলনার পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। গত কয়েকদিন প্রায় প্রতিদিনই হত্যা, গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা হয়েছে, ব্যবসায়ীদের উপর চাঁদাবাজির ঘটনা তো আছেই। কোনো ক্ষেত্রেই উন্নতি নেই। আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব বিষয়ে কোন কাজ না করে উনি থাকেন শুধু সংবিধান নিয়ে। এ সময় সেক্রেটারি জেনারেল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগের আহ্বান জানান।
আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষাই হলো আমাদের সাত দফা। জনগণ সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কার চায়। এছাড়া জুলাই গণহত্যার বিচার, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নাগালের মধ্যে, গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল ও সার সংকটের নিরসন চায়। সুতরাং ১১ দলীয় জোট উত্থাপিত সাত দফা দাবি অবিলম্বে মেনে নিন। এ সময় তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব যাতে তারা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপন করতে পারে সেদিকে জামায়াত নেতা-কর্মীদের সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি বলেন, আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা -খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ বাস্তবায়ন করার পাশাপাশি আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বিজয়ী হয়ে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জন-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সকলকে কাজ করতে হবে।