সাতক্ষীরার তালা উপজেলার গোপালপুরে একটি নিরীহ পরিবারকে দীর্ঘ ছয় মাস ধরে পরিকল্পিত ভাবে আর্থিক ক্ষতি, প্রাণনাশের হুমকি প্রদান ও সামাজিকসহ নানাভাবে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কৃষ্ণ পদ দাস এ ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
তালা রিপোর্টার্স ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মৃত রমেশ চন্দ্র দাসের পুত্র কৃষ্ণপদ দাস বলেন, তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বী হলেও ছাত্র জীবন থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় ভাবে যুক্ত রয়েছেন। তিনি নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম এবং ভ্যাট ও ট্যাক্সের ওপর ডিগ্রি নিয়েছেন এবং একসময় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আশিফা আশরাফী পাপিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন। সেসময়ে এক বিতর্কীত বিচারপতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করলে আমরা কঠোর প্রতিবাদ করি। এই প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে তাকে ব্যপক হয়রানির শিকার হতে হয়। পরবর্তীতে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে ফিরে বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসতবাড়ির আঙিনায় মুরগির খামার ও মানুষকে আইনী সেবা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
কৃষ্ণপদ দাস বলেন, নিরাপত্তার জন্য তিনি নিজের পৈতৃক জমির সীমানায় বাঁশের বেড়া দেন এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে একটি পোলট্রি খামার গড়ে তোলেন। এতেকরে অভিযুক্ত হিংসাত্মক হয়ে ওঠে এবং নানান ষড়যন্ত্র শুরু করে। যার ধারাবাহিকতায় অভিযুক্তরা তাঁর খামারে বিষ প্রয়োগ করে মুরগি মেরে ফেলা, রাতে নেট কেটে মুরগি চুরি, তাঁর মা ও স্ত্রীকে জড়িয়ে অশ্লীল এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করে। আর এসবের উদ্দেশ্য হচ্ছে তাঁদের ভিটেবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে জমি দখল করা।
এসব ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষ্ণপদ দাস শুক্রবার তালা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি- পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা এবং ভাংচুর ও হুমকির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে তালা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মহাসিন বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।