অর্থের অভাবে যেন কোনো দরিদ্র মানুষ চক্ষু চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্য নিয়ে বাগেরহাটে বিনামূল্যে চক্ষু শিবিরের আয়োজন করেছে সামাজিক সংগঠন ইনসাফ। শিবিরে প্রায় ৫০০ মানুষ বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সেবা পেয়েছেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে বাগেরহাটের খানজাহান আলী দরগাহ মাঠে এ চক্ষু শিবির অনুষ্ঠিত হয়।
শিবিরে আদ্-দ্বীনের অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীদের চোখ পরীক্ষা করেন এবং বিভিন্ন চক্ষু সমস্যার বিষয়ে পরামর্শ, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র ও কাউন্সেলিং প্রদান করেন। পাশাপাশি ছানি রোগীদের শনাক্ত করে তাঁদের বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ছানি অপারেশনের জন্য রোগীদের খুলনায় নেওয়া, থাকা-খাওয়াসহ যাবতীয় ব্যয় বহন করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য ও ইনসাফ, বাগেরহাটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বেলাল হোসেন অপু।
দাশানি থেকে শিবিরে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা ৭৬ বছর বয়সী শেখ আব্দুল মাজেদ বলেন,আজ এখানে চোখের ডাক্তার দেখিয়েছি, কোনো টাকা লাগেনি। আমার চোখের ছানি অপারেশনও বিনামূল্যে করে দেওয়া হবে। এতে আমি খুব উপকৃত হব।
কাড়াপাড়া থেকে চিকিৎসা নিতে আসা হাজেরা বেগম বলেন,অনেক দিন ধরে চোখের সমস্যা। সবকিছু ঠিকমতো দেখতে পাই না। আজ চোখ পরীক্ষা করে চিকিৎসক চশমা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। বিনামূল্যে চিকিৎসা পেয়ে আমি খুশি।
ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য ও ইনসাফের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বেলাল হোসেন অপু বলেন, বাগেরহাটে চক্ষু চিকিৎসার সুযোগ প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত। বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের জন্য ছানি অপারেশনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অনেক সময় ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। অর্থের অভাবে অনেকেই চিকিৎসা করাতে পারেন না। আমরা চাই, টাকার অভাবে কোনো মানুষ যেন দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে না থাকেন। সেই মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই ইনসাফের এ উদ্যোগ।
তিনি আরও বলেন,আমরা প্রতি মাসে বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় একটি করে বিনামূল্যে চক্ষু শিবির আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েছি। এসব শিবিরে বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ ও ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার পাশাপাশি যাঁদের ছানি অপারেশন প্রয়োজন, তাঁদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অপারেশনের জন্য খুলনায় যাতায়াত, থাকা-খাওয়াসহ যাবতীয় ব্যয়ও বহন করা হবে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।