পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক ও মানবিক সংগঠন ‘গ্রিন ফোরাম, পবিপ্রবি’-এর উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের টি.এস.সি. সেমিনার হলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টি.এস.সি. সেমিনার হলে উৎসবমুখর ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে ‘শিক্ষা ও শিখনে রাসূল সা. এর অনুসৃত মূলনীতি’ শীর্ষক এক বর্ণাঢ্য সিরাত সেমিনার সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে পুরো সেমিনার হল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।
সেমিনারে মূল বিষয়বস্তু—মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা দেওয়ার কৌশল, শিক্ষকতা ও জ্ঞানার্জনের মুলনীতিগুলোর ওপর আলোকপাত করা হয়। বক্তারা বলেন, আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি যদি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মানবিক ও নৈতিক শিক্ষার মডেল অনুসরণ করা যায়, তবেই সমাজে প্রকৃত মেধা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানগর্ভ বক্তব্য প্রদান করেন প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ, তাফসিরবিদ ও কুরআন গবেষক শায়খ মুহাম্মাদ জামাল উদ্দিন। তিনি বর্তমানে ‘জামালী তালিমুল কুরআন ফাউন্ডেশন’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রধান আলোচক তাঁর দীর্ঘ আলোচনায় বলেন, “রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন মানবজাতির শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। তিনি শুধু জ্ঞান বিতরণ করেননি, বরং মমত্ববোধ, ধৈর্য ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হৃদয় জয় করেছিলেন। আজ শিক্ষাঙ্গনে নৈতিক অবক্ষয় রোধ করতে হলে এবং শিক্ষার্থীদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে হলে রাসুল (সা.)-এর শিক্ষাদান পদ্ধতির দিকে ফিরে যেতে হবে।”
আলোচনার সমর্থনে সেমিনারে কুরআনুল কারীমের সূরা আয-যুমার-এর ৯ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি উপস্থাপন করা হয়, যেখানে বলা হয়েছে—‘বল: যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান? বোধশক্তি সম্পন্ন লোকেরাই শুধু উপদেশ গ্রহণ করে’।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা প্রধান আলোচকের কাছে ধর্মীয় ও জীবনের বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক প্রশ্ন করেন। আয়োজক সংগঠন ‘গ্রিন ফোরাম, পবিপ্রবি’-এর পক্ষ থেকে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে এবং এ ধরনের ইতিবাচক ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ ভবিষ্যতে অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ করা হয়।