প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ১০:০৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ১:৫৫ পি.এম

বাংলাদেশের প্যাকেজিং ও অ্যাক্সেসরিজ শিল্পের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপির সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বাংলাদেশ প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএএমইএ)-এর প্রেসিডেন্টসহ বোর্ডের নেতৃবৃন্দ।
রবিবার দুপুরে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে এ সাক্ষাৎ ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দেশের অর্থনীতিতে প্যাকেজিং ও অ্যাক্সেসরিজ শিল্পের ভূমিকা, এ খাতের বিদ্যমান সমস্যা, সম্ভাবনা এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তৈরি পোশাকশিল্পসহ দেশের বিভিন্ন রপ্তানিমুখী শিল্পের সঙ্গে প্যাকেজিং ও অ্যাক্সেসরিজ খাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এবং রপ্তানি বাড়াতে এ খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি শিল্পসংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে এ খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন। জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার যে ভূমিকা রয়েছে, সেই দায়িত্বের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্টদের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
বিপিএএমইএর প্রেসিডেন্ট মো. শাহরিয়ার বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা তাদের কাছ থেকে এ খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে তিনি অ্যাসোসিয়েশনের বোর্ড সদস্য ও অন্যান্য প্রতিনিধিদের বক্তব্যও শোনেন। আমরা আমাদের সেক্টরের সমস্যাগুলো তুলে ধরেছি। একই সঙ্গে এ খাতের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছি। বিরোধীদলীয় নেতা অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে আমাদের কথা শুনেছেন এবং সমস্যাগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কথা বলা ও জাতীয় সংসদে বিষয়গুলো তুলে ধরার আশ্বাস দিয়েছেন।
শাহরিয়ার আরও বলেন, মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি এ খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে একটি লিখিত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অ্যাসোসিয়েশন নেতাদের অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংসদসহ সংশ্লিষ্ট জায়গায় বিষয়গুলো তুলে ধরা যায়।
বিপিএএমইএর প্রেসিডেন্ট বলেন, প্যাকেজিং শুধু তৈরি পোশাকশিল্পের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; টেরিটাওয়েল, ওষুধ, চামড়াসহ বিভিন্ন শিল্পের পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির সঙ্গে এ খাত সরাসরি সম্পৃক্ত। বৈশ্বিক বাজারে শুধু পেপার প্যাকেজিংয়ের বাজার প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলারের উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এ বাজারে খুবই সামান্য অংশ দখল করতে পেরেছে। প্যাকেজিং, অ্যাক্সেসরিজ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পণ্যের বিশাল বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বিরোধীদলীয় নেতাকে তাদের আয়োজিত আন্তর্জাতিক ট্রেড ফেয়ারে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আগামী ৬ থেকে ৯ জানুয়ারি রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটিতে এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া দেশের বিশ্বমানের প্যাকেজিং ও অ্যাক্সেসরিজ কারখানা পরিদর্শনের জন্যও তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা সময়-সুযোগ অনুযায়ী এসব কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
বৈঠকে শিল্প খাতের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। এ সংকটের কারণে শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তা দ্রুত সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিপিএএমইএর প্রেসিডেন্ট শাহরিয়ার আরও বলেন, মাত্র ছয় মাস হলো সরকার গঠিত হয়েছে। বর্তমান সরকারকে আমরা সময় দিতে চাই, সর্বোচ্চ সহযোগিতাও করতে চাই। বিরোধী দলও বলেছে, তারা সরকারকে সহযোগিতা করছে।
ছিনতাই, চাঁদাবাজি, রাহাজানিসহ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ব্যবসায়ের জন্য হুমকি উল্লেখ করে মো. শাহরিয়ার বলেন, ‘আমরা শুধু ব্যবসা নিয়ে থাকতে চাই, দেশের অর্থনীতি নিয়ে থাকতে চাই, কর্মসংস্থান নিয়ে থাকতে চাই। রাজনীতির যে ব্যাপার আছে, রাজনীতিবিদ যাঁরা আছেন, তাঁদেরই রাজনীতিটা করা উচিত।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিংয়ে উদ্বেগ প্রকাশ মিয়া গোলাম পরওয়ারের ব্রিফিংয়ে দেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি সম্প্রতি মিরপুরের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুর এবং রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে হামলা, গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুরের ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, এসব ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দেয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত থাকলে শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ কোনো খাতই নিরাপদ থাকবে না। সরকারের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে মব সৃষ্টি, পেশিশক্তির ব্যবহার এবং সহিংসতার মাধ্যমে পুরোনো পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার যেকোনো অপচেষ্টা জনগণ প্রতিহত করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায়ও নিন্দা জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, দেশের পরিবর্তনের সঙ্গে জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়া সবাই কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত। তাদের ওপর হামলা ও অপমানজনক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মতবিনিময় সভায় বিপিএএমইএ’র পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কনভিন্স জিপার অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক; বিপিএএমইএর সাবেক প্রেসিডেন্ট ও খান অ্যাক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল কাদের খান; বিপিএএমইএর উপদেষ্টা ও প্রিমিয়ার অ্যাক্সেসরিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার লতিফুর রহমান আজিম; বিপিএএমইএর ভাইস-প্রেসিডেন্ট (ফাইন্যান্স) ও এশিয়ান প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোজাহারুল হক শহীদ; বিপিএএমইএর ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও একেএইচ প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ লিমিটেডের পরিচালক মোহাম্মদ ফিরোজ উদ্দিন; বিপিএএমইএর ভাইস-প্রেসিডেন্ট (ফাইন্যান্স) ও বাদশা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম সবুজ; বিপিএএমইএর ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও পাওয়ার প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির উদ্দিন মো. বাবুর; বিপিএএমইএর ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও কাজী প্রিন্টিং অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ফাহাদ; বিপিএএমইএর পরিচালক ও ইন্টারলেবেল রোবাস্ট বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেডের পরিচালক কাজী আশরাফুল হক জুয়েল; বিপিএএমইএর পরিচালক ও ডায়নামিক প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রি (প্রা.) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মুনির হোসেন; বিপিএএমইএর পরিচালক ও আন-নূর ট্রিমস ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন; বিপিএএমইএর পরিচালক ও ব্লু প্যাক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. বেলাল উদ্দিন; বিপিএএমইএর পরিচালক ও সিয়াম কম্পিউটারাইজড ইলাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম; বিপিএএমইএর পরিচালক ও নোভা অ্যাক্সেসরিজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পরিচালক ফুয়াদ হোসাইন চৌধুরী; বিপিএএমইএর পরিচালক ও নাইমা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুন্সী এ. কে. আজাদ; বিপিএএমইএর পরিচালক ও ট্রিম জোনের স্বত্বাধিকারী মো. কামাল উদ্দিন; বিপিএএমইএর পরিচালক ও কেজিএস প্রিন্টিং অ্যান্ড ডিজাইনসের স্বত্বাধিকারী মো. আবুল কাশেম; বিপিএএমইএর পরিচালক ও লেবেল ফ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা অংশীদার মো. নজরুল ইসলাম; বিপিএএমইএর পরিচালক ও সালমান ট্রিমস অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজের স্বত্বাধিকারী মো. শাকিল হোসেন; মাইক্রো কালার প্রিন্টার্সের স্বত্বাধিকারী মো. নাঈম হায়দার; বিপিএএমইএর অফিস সেক্রেটারি ও বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব (অব.) এস. এম. মাসুদুর রহমান; বিপিএএমইএর জয়েন্ট অফিস সেক্রেটারি মোহাম্মদ জিলকাদ চৌধুরী।
বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম ও মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, অধ্যক্ষ মো. সাহাবুদ্দিন, এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মো. রেজাউল করিম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি লস্কর মো. তসলিম, জামায়াতে ইসলামীর শিল্প ও বাণিজ্য বিভাগীয় কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও সেক্রেটারি ডা. আনোয়ারুল আজিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।