বাগেরহাটের মোল্লাহাটে ৭ বছরের শিশুকে গলা কেটে হত্যা, আটক ৩,অভিযুক্তের বাড়িঘরে আগুন
বাগেরহাটের মোল্লাহাটে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ৭ বছরের এক শিশু কন্যাকে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত শিশুর নাম মুসলিমা (৭)। সে উপজেলার কচুড়িয়া দক্ষিণ পাড়া এলাকার ইসলাম শেখের মেয়ে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তের বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত প্রধান অভিযুক্তসহ তিনজনকে আটক করেছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) আনুমানিক বিকেল ৪টার দিকে মুসলিমা বাড়ির পাশে খেলাধুলার উদ্দেশ্যে বের হয়। দীর্ঘ সময় পার হলেও সে বাড়ি ফিরে না আসায় স্বজনরা তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ৭টা ৩০ টার দিকে একই এলাকার মোসলেম শেখের ছেলে জাহাঙ্গীর শেখের (৬০) পানের বরজের উত্তর পাশে একটি সুপারি বাগানে খোজাখুজির এক পর্যায়ে সেখানে একটি সাদা রঙের প্লাস্টিকের বস্তা পাওয়া যায়। বস্তার ভেতর থেকে অর্ধ-গলাকাটা অবস্থায় শিশু মুসলিমার নিথর দেহ উদ্ধার করে স্হানীয়রা।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে নিহত শিশুর পিতা ইসলাম শেখ অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর শেখ দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদার টাকা না দিলে বড় ধরনের ক্ষতি করা হবে বলে তাকে একাধিকবার হুমকিও দেওয়া হয়। দাবি করা চাঁদা না পেয়েই জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগীরা ক্ষোভে তার অবুঝ শিশু কন্যাকে গলা কেটে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দী করে বাড়ির পাশে পান বরজে ফেলে রেখে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিকাল থেকেই নিখোঁজ থাকার পর বেলা ৪টায় শিশুটির বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, স্বজনদের কান্নাকাটি ও চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং নৃশংস এই ঘটনার দৃশ্য দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর শেখের বসতবাড়িতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে। এতে অভিযুক্তের বসতঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।
সংবাদ পেয়ে মোল্লাহাট থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণের ব্যবস্থা করেন।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে মোল্লাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহাদাত হোসেন জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত শেখ জাহাঙ্গীর (৫৫) এবং তার দুই ছেলে রমজান শেখ (২৩) ও আব্দুর রহমান শেখকে (১৯) আটক করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে, পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়া রয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে এ্যাডশনাল ডিআইজি খুলনা, পুলিশ সুপার বাগেরহাট, সার্কেল এসপি এবং পিবিআই ওসি সরজমিন পরিদর্শনে আসেন।