পরকীয়ার জেরধরে স্বামীকে হত্যা করে পলাতক দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমা বেগমকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার দিবাগত রাতে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে
বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার ওসি (তদন্ত) সুমন কুমার আইচ জানিয়েছেন রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নাসিমা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাতেই তাকে নিয়ে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়া হয়েছে।
ওসি (তদ্ন্ত) আরও জানিয়েছেন, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তিনি সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে বরিশাল আদালতের আইনজীবী সহকারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান হাওলাদার (মুহুরি) হত্যা মামলার একমাত্র প্রধান আসামি নাসিমা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছেন।
উল্লেখ্য, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের পর থেকেই আসামি নাসিমা বেগম আত্মগোপনে ছিলেন। পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান নিশ্চিত করে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছেন।
সূত্রমত্রে, স্বামীর পরকীয়া প্রেমের বিরোধের জেরধরে গত ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে স্ত্রী নাসিমা বেগমের হাতে খুন হয়েছেন স্বামী নুরুজ্জামান হাওলাদার (৫৫)। খবর পেয়ে মঙ্গলবার ভোরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। পরে ওইদিন সকালে নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়।

বরিশাল মহানগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডস্থ ইছাকাঠি কলোনির আহসান হাবিবের ভাড়াটিয়া বাড়িতে নিহত নুরুজ্জামান হাওলাদার (৫৫) পেশায় বরিশাল আদালতের এক আইনজীবীর সহকারি (মুহুরি) ও বরিশাল আইনজীবী সহকারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন থেকে নুরুজ্জামানের সাথে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তার দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমা বেগমের দাম্পত্য কলহ চলে আসছিলো।
পুলিশ ও স্থানীয়রা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য কলহের কারণে গত ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে স্ত্রী নাসিমা বেগম তার স্বামী নুরুজ্জামানকে আঘাতের পর শ্বাসরুদ্ধকরে হত্যা করেছে। পরবর্তীতে বাসার বাহির থেকে তালাবদ্ধ করে নাসিমা বেগম আত্মগোপন করেন।
নিহত নুরুজ্জামান হাওলাদার মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের পূর্ব তয়কা গ্রামের মৃত সাত্তার হাওলাদারের ছেলে। কর্মের সুবাধে সে তার দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমা বেগমকে নিয়ে ইছাকাঠী এলাকার ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন।