বরিশাল মুলাদী উপজেলাধীন নাজিরপুর ইউনিয়নের মেয়ারচর গ্রামে অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিধবা পেয়ারা বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সহমর্মিতা প্রকাশ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগরী আমীর মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর।
জানা যায়, গত ২২ আগস্ট মেয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা বিধবা পেয়ারা বেগমের বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়লে ঘরটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। এতে ঘরের আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অসহায় পেয়ারা বেগম ও তার পরিবার চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েন।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পেয়ারা বেগমের বাড়িতে যান মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং সান্ত্বনা প্রদান করেন। এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে পেয়ারা বেগমের হাতে উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

এ সময় মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলেন, অগ্নিকাণ্ডে একটি পরিবারের বসতঘর পুড়ে যাওয়া অত্যন্ত কষ্টদায়ক। বিশেষ করে একজন বিধবা নারী যখন এমন দুর্যোগের শিকার হন, তখন তার পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। বিপদে-আপদে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের কষ্ট লাঘবে সহযোগিতা করা জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম অঙ্গীকার। আমরা সামর্থ্য অনুযায়ী পেয়ারা বেগমের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরও এ অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই। এ সময় তিনি পেয়ারা বেগম ও তার পরিবারের জন্য মহান আল্লাহর কাছে ধৈর্য ও উত্তম প্রতিদানের জন্য দোয়া করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুলাদী উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল মালেক, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদ, নাজিরপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা বায়জিদ হোসাইন, সরিকল ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম মাতুব্বরসহ স্থানীয় জামায়াতের নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জানান, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি বর্তমানে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। তাই তাদের পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।