দুই কিডনি বিকল, ডায়ালাইসিসের টাকাও নেই—বাঁচার আকুতি শ্যামল মুখার্জীর
একটি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটি আজ মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। মাত্র ছয় মাস আগেও যিনি বুঝতে পারেননি, বিদ্যুতের গতিতে তার জীবনের সময় যেন ফুরিয়ে আসছে—সেই মানুষটিই আজ দুই কিডনি বিকল হয়ে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
বাঁচার আশায় নিজের একচিলতে সম্বলটুকু জমি বিক্রি করে চিকিৎসা শুরু করেছিলেন তিনি। ঢাকায় চিকিৎসা নিতে নিতে সেই শেষ সম্বলও ফুরিয়ে গেছে। এখন প্রতি সপ্তাহে দুইবার ডায়ালাইসিস করাতে প্রয়োজন প্রায় ৫ হাজার টাকা। কিন্তু আগামী সপ্তাহের ডায়ালাইসিসের টাকাও এখনো জোগাড় হয়নি।
বলছিলাম বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার নলধা ইউনিয়নের ডহর মৌভোগ গ্রামের ৪৫ বছর বয়সী শ্যামল মুখার্জীর কথা।
সুঠামদেহী শ্যামল একসময় ছিলেন পরিবারের একমাত্র ভরসা। আজ অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারিয়ে তিনি শয্যাশায়ী। দুই কিডনি বিকল হয়ে যাওয়ায় নিয়মিত চিকিৎসা ও ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভর করেই তাকে বেঁচে থাকতে হচ্ছে।
পরিবারের উপার্জনক্ষম মানুষটির এমন অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন আশি বছরের বৃদ্ধা বিধবা মা। অনেক আগেই মারা গেছেন শ্যামলের বাবা ভূপাল মুখার্জী। পরিবারের একমাত্র ভাইটিও গত বছর হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দুই ছোট সন্তান রেখে মারা যান। ফলে শোক আর অভাবের ভারে জর্জরিত এই বৃদ্ধা মা আজ বুঝে উঠতে পারছেন না—কী খাবেন, আর কীভাবে এই ছোট ছোট শিশুদের মানুষ করবেন।
অসহায় পরিবারের হাল ধরতে বাধ্য হয়ে শ্যামলের স্ত্রী বাড়ির সামনে পাড়ার মোড়ে একটি ছোট টং ঘরে চায়ের দোকান দিয়েছেন। সেই সামান্য আয় দিয়েই স্বামী, শাশুড়ি ও সন্তানদের নিয়ে টিকে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে।
শ্যামল মুখার্জীর ছেলে সার্থক পড়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে। মেয়ে সুমা এবার এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। অথচ জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়ে দুই সন্তানের চোখে এখন অনিশ্চয়তার ছাপ। অসুস্থ বাবার মুখের দিকে তারা নির্বাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। তাদের ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে—সেই প্রশ্নের উত্তর নেই কারও কাছে।
এলাকার অসচ্ছল ও সহৃদয় মানুষের সহযোগিতায় এতদিন কোনোমতে শ্যামল মুখার্জীর ন্যূনতম চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি এই চিকিৎসার ব্যয় বহন করা এখন পরিবারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একদিকে ডায়ালাইসিসের টাকা, অন্যদিকে সংসারের খরচ ও সন্তানদের পড়াশোনা—সব মিলিয়ে পরিবারটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
মানবিক সহায়তার আশায় এখন সমাজের বিত্তবান, হৃদয়বান ও সহৃদয় মানুষের দিকে তাকিয়ে আছে শ্যামল মুখার্জীর পরিবার। কারও সামান্য সহযোগিতাও হয়তো এই অসহায় মানুষটির চিকিৎসার পথ কিছুটা সহজ করে দিতে পারে এবং দুটি শিশুর মুখে ভবিষ্যতের আশার আলো ফিরিয়ে আনতে পারে।
সহায়তা পাঠানোর ঠিকানা:
শ্যামল মুখার্জী (৪৫)
পিতা: প্রয়াত ভূপাল মুখার্জী
গ্রাম: ডহর মৌভোগ, নলধা
উপজেলা: ফকিরহাট
জেলা: বাগেরহাট
বিকাশ নম্বর: ০১৮৭১২৯৩০২৮
একটি অসহায় পরিবার আজ সমাজের মানুষের মানবিক সহযোগিতার অপেক্ষায়। আপনার সামান্য সহায়তাও হতে পারে একটি পরিবারের বেঁচে থাকার নতুন আশা।