পেঁয়াজের রাজধানী খ্যাত ফরিদপুরের ৮ টি উপজেলা। এখানে মৌসুমে মোট আবাদি জমির প্রায় ৯০/৯৫ ভাগ জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। এখানে উৎপাদিত পেঁয়াজ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
মৌসুমে সারের কৃত্রিম সংকট ও দাম বৃদ্ধি, শ্রম ও বীজের দাম চড়া হওয়ায় মন প্রতি উৎপাদন খরচ হয়েছে ১৫ শত থেকে ২ হাজার টাকা। তবে এই বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১২৫০ টাকা পর্যন্ত। চাষিরা ঘরে মজুদ করে পরে বিক্রি করবে সেটাও হচ্ছে না। মাচায় পচে যাচ্ছে ৪০/৫০ ভাগ পেয়াজ। অনেক কৃষকের পুরো মাচার পেঁয়াজ পচে গেছে। চাষিদের এই নিরব কান্না দেখার কেউ নেই।
সব মিলিয়ে এই মৌসুমে জেলায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হলেও বর্তমানে দাম নিয়ে কৃষকদের মাঝে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

জেলার ৮ টি উপজেলায় জেলার মধুখালি, বোয়আলমারী, আলফাডাঙ্গা, সালতা, নগরকান্দা, ভাঙ্গা, চরভদ্রাসনের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায় পেঁয়াজের দাম মন প্রতি ৮০০ থেকে ১৩০০ টাকা পর্যন্ত। কোথাও কোথাও পেঁয়াজের ন্যায্য দাম না পেয়ে পানিতে ফেলে দিচ্ছেন কৃষক। অনেকেই মৌসুমের শুরুতে পেঁয়াজ বিক্রি না করে তা মজুদ করে রেখে দেয় মৌসুমের শেষে বিক্রি করতে। তবে এবছর আর তা সম্ভব হয়নি, প্রায় ৪০/৫০ ভাগ পেঁয়াজ নষ্ট হচ্ছে মাচায়।
এমতাবস্থায় পেঁয়াজ চাষে কৃষি প্রনদনা বাড়ানোর পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে পেয়াজের দাম বড়ানোর কথা বলেন সবাই। অনেকেই আবার পেয়াজ আমদানি না করার কথা বলেন।

সালথা সদর বাজারের পেঁয়াজের ব্যাপারী মো. মাসুম সরদার জানান, বাজারে পেঁয়াজের আমদানি বেশি এবং মোকামে চাহিদা কম থাকায় আজকে পেঁয়াজের বাজার নিচের দিকে। আজ ৭০০ টাকা থেকে ১২৫০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হয়েছে। চিকন বা ছোট পেয়াজ ১৬০০ থেকে শুরু করে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছে। হয়তো আগামী মাসের প্রথম দিকে দাম বাড়তে পারে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আহসানুল হাবিব আল আজাদ জনি জানান, এবছর কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৮০০ জন কৃষকের মাঝে বিনা মূল্যে পেঁয়াজ বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে।
পেঁয়াজের দাম নিয়ে চাষিদের মাঝে কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে। আশা করছি কৃষক পেঁয়াজের ন্যায্য মূল্য পাবে। প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি পেঁয়াজ সংরক্ষনাগারের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষেকে জানানো হবে।