ইসলামে মুনাফিক এর বিশ্লেষণ:
লেখক: শাহ্ মো. জালিস মাহমুদ জৌনপুরী
মুনাফিক (আরবি: منافق) বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায়, যে বাইরে থেকে ইসলাম গ্রহণের দাবি করত কিন্তু অন্তরে ঈমান আনত না।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো:
সাধারণভাবে "সাহাবি" বলতে সেই ব্যক্তিকে বোঝানো হয়, যিনি ঈমানের সঙ্গে মুহাম্মদ (সাঃ) এর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং ঈমানের ওপর মৃত্যুবরণ করেছেন।
এই সংজ্ঞা অনুযায়ী, মুনাফিকদের সাহাবি হিসেবে গণ্য করা হয় না।
আল কুরআনে মুনাফিকদের সম্পর্কে বহু আয়াত রয়েছে, বিশেষ করে সূরা আল-মুনাফিকুন এবং সূরা আত-তাওবা-এ।
ইসলামী ঐতিহাসিক সূত্রে আবদুল্লাহ ইবন উবাই ইবন সালুল-কে মদিনার মুনাফিকদের নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে মুনাফিকদের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য হল-
* কথা বললে মিথ্যা বলে।
* ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে।
* আমানতের খিয়ানত করে।
* ঝগড়া-বিবাদে সীমা লঙ্ঘন করে ও অশালীন আচরণ করে।
* নামাজে অলসতা করে এবং লোক দেখানোর জন্য ইবাদত করে।
* আল্লাহকে খুব কম স্মরণ করে।
* মুমিনদের নিয়ে উপহাস বা বিদ্রূপ করে।
* সৎকাজে বাধা দেয় এবং অসৎকাজে উৎসাহিত করে।
* আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি আন্তরিক আনুগত্য থাকে না।
* বিনা কারণে বারবার মিথ্যা শপথ করে।
* বিপদের সময় মুসলমানদের ছেড়ে যায়, কিন্তু সুবিধা হলে তাদের সঙ্গে থাকার ভান করে।
* অন্তরে কুফর লুকিয়ে বাইরে ইসলাম প্রকাশ করে।
বিখ্যাত হাদিস গ্রন্থ সহিহ আল-বুখারি ও সহিহ মুসলিম-এ মুহাম্মদ(সাঃ) বলেছেন:
"মুনাফিকের নিদর্শন তিনটি:
* যখন কথা বলে মিথ্যা বলে,
* যখন প্রতিশ্রুতি দেয় তা ভঙ্গ করে,
* আর যখন তার কাছে আমানত রাখা হয় তখন তা খিয়ানত করে।"

আরেক বর্ণনায় চতুর্থ বৈশিষ্ট্যও এসেছে:
"যখন ঝগড়া করে, তখন সীমালঙ্ঘন করে।"
তবে মনে রাখা জরুরি, কোনো মুসলমানের মধ্যে এসব বৈশিষ্ট্যের কোনোটি বা এক বা দুই একটি থাকলে তাকে সরাসরি "মুনাফিক" বলা যায় না। হাদিসে বোঝানো হয়েছে, এগুলো নিফাকের (মুনাফিকসুলভ) বৈশিষ্ট্য।
একজন মানুষ তওবা করে নিজেকে সংশোধন করতে পারে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে আন্তরিক ঈমান ও সুন্দর চরিত্রের অধিকারী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমীন।