বাগেরহাটে বিদেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে বিশেষ পকিল্পনার জন্য
প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চান আবুল কালাম
বিদেশে কর্মসংস্থান, দক্ষ শ্রমিক তৈরি, স্বল্প ব্যয়ে বিদেশগমন, প্রবাসী শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষাসহ নানা বিষয়ে বিশদ পরিকল্পনা তৈরি করেছেন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেচলার চরবানিয়ারী গ্রামের আবুল কালাম মো. ইসহাক।বিদেশে কর্মসংস্থান বিষয়ে তার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশে বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হবে। সেই সাথে দেশ বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে। শনিবার দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাত প্রার্থনা করেন নিজেকে গবেষক দাবি করা আবুল কালাম মো. ইসহাক।
তিনি বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দালাল ও অতিরিক্ত খরচের কারণে অনেক শ্রমিক সর্বস্ব হারাচ্ছেন। সহজ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দক্ষ-অদক্ষ শ্রমিকদের বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা গেলে একদিকে বেকারত্ব কমবে, অন্যদিকে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়বে।
এসব কাজ সঠিকভাবে করার জন্য তিনি “বৈদেশিক কর্মসংস্থান তদারকী সমিতি” নামের একটি প্রতিষ্ঠান করার প্রস্তাব করেন। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, এই সমিতির কেন্দ্রীয়, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি থাকবে। এই কমিটি বিদেশে যাওয়ার জন্য জনবল যাচাই-বাছাই, প্রশিক্ষন প্রদান করবেন। পরবর্তীতে দক্ষ শ্রমিকদের বিদেশে যাওয়ার জন্য ব্যয়ও বহন করবেন। সমিতির পক্ষ থেকে বিভিন্ন দেশে কি ধরণের শ্রমিক-কর্মচারী-কর্মকর্তার চাহিদা রয়েছে তা নিরুপন করবে। বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য নিবন্ধন ও তারা যাদে সঠিকভাবে কাজ করে তা তদারকির করবে এই সমিতির দায়িত্বপ্রাপ্তরা। এর পাশাপাশি যেসব জনশক্তি এই সমিতির মাধ্যমে বিদেশে যাবে, তাদের আয়ের একটি অংশ সমিতির কোষাগারে জমা করতে হবে। যাতে পরবর্তীতে দরিদ্র, হতদরিদ্র ও অসহায়দের সমিতির পক্ষ থেকে বিনা খরচে বিদেশে পাঠানো যায়। বিনা খরচে বিদেশে যাওয়া শ্রমিকরাও তাদের আয়ের একটা অংশ পরবর্তীদের বিদেশগমনেচ্ছুকদের জন্য এই কোষাগারে জমা দিবেন। এভাবে কয়েক বছর চললে বিদেশে কর্মসংস্থানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। দেশও উন্নত হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বিদেশে যাওয়ার খরচ কমানো গেলে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক দক্ষ শ্রমিকের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। মূলত দেশের জন্য কাজ করবে বিদেশগামী শ্রমিকরা। এসব করতে পারলে তাদের ভাগ্যের উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন হবে।
দেশে বিদ্যমান সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য যারা কাজ করছে তাদের বিষয়ে আবুল কালাম মো. ইসহাক বলেন, তাদের কাজের পরিমান আসলে খুবই সীমিত। তারা বিদেশে লোক পাঠাচ্ছে তবে আমাদের দেশের জনবল ও শক্তির তুলনায় খুবই অপ্রতুল। তাই “বৈদেশিক কর্মসংস্থান তদারকী সমিতি” গঠন করা জরুরী। আর এই সমিতির কার্যকারিতা, দেশের জন্য প্রয়োজনীয় এবং গঠন প্রক্রিয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বোঝাতে হবে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ চান নিজেকে গবেষক দাবি করা আবুল কালাম আজাদ।