দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) না থাকায় বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় তীব্র প্রশাসনিক অভিভাবকশূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
নিয়ন্ত্রণহীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। চুরি-ডাকাতি, মাদকের অবাধ বিস্তার এবং বন্ধ ঘর থেকে একই পরিবারের তিন সদস্যের গলিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো উপজেলাজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে ক্রমেই আইন- শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি দিকে যাচ্ছে।
সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গত ১২ আগষ্ট রাতেও উপজেলার আন্ধারমানিক এলাকার অমল নামে এক স্থানীয় বাসিন্দার বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিনিয়ত এমন ঘটনা ঘটতে থাকায় রাতে শান্তিতে ঘুমাতেও ভয় পাচ্ছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েক মাস ধরে কচুয়া থানায় স্থায়ী কোনো ওসি না থাকায় টহল ও নিয়মিত পুলিশি তদারকি ঢিলেঢালা হয়ে পড়েছে। এই সুযোগে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অপরাধী চক্র।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে প্রতিদিন বাসা-বাড়ি কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরি ও ডাকাতি ঘটছে। সন্ধ্যার পর গ্রাম কিংবা হাট-বাজারে বসছে মাদকের আখড়া; অবাধে বিক্রি ও সেবন করা হচ্ছে ইয়াবা ও গাঁজাসহ নানা ক্ষতিকর মাদকদ্রব্য। এতে যুবসমাজ চরম অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হলেও দৃশ্যমান কোনো প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেই বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র সামনে আসে সম্প্রতি উপজেলার রাড়িপাড়া ইউনিয়নের চান্দেরকোলা গ্রামে।

সেখান থেকে একটি বন্ধ ঘর থেকে একই পরিবারের তিনজনের অর্ধগলিত ও বিকৃত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া লাশের দুর্গন্ধ ও নৃশংসতায় স্তম্ভিত।
এখনো পর্যন্ত অপরাধীদের সনাক্ত করে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় নিয়মিত পুলিশি নজরদারি থাকলে এমন নৃশংস অপরাধ এত দেরিতে সামনে আসত না।
এলাকাবাসীর মতে, প্রশাসনিক তদারকির অভাবেই কচুয়া অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে। নিরাপত্তা রক্ষায় স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সাধারণ জনগণ দ্রুত কচুয়া থানায় একজন দক্ষ ও দায়িত্বশীল ওসি নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে অনতিবিলম্বে মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, নিয়মিত টহল বৃদ্ধি এবং ৩ জনের চাঞ্চল্যকর মৃত্যুর সঠিক রহস্য উদঘাটন করে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।