একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দেড় মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন সাবিনা (২৮) নামের এক তিন সন্তানের মা। তার ছোট্ট শিশুটিরনবয়স নয় মাস। মা কারাগারে থাকায় হতদরিদ্র পরিবারটির জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। মায়ের স্নেহ-ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়ে দেড় মাস ধরে মায়ের অপেক্ষায় দিন কাটছে তিন শিশুর। নয় মাসের শিশুটি মায়ের বুকের দুধ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তার পরিচর্যা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন স্বজনরা।
অসহায় এই পরিবারটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরশহরের খড়মপুর বাইপাস এলাকায় একটি টিনের চালা ঘরে ভাড়া থাকে। সাবিনার স্বামী সফিক মিয়া ভাঙারি কুড়িয়ে বিক্রি করে সংসার চালান। স্ত্রী জেলে থাকায় তিন সন্তানকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি। সাদিন কাজ করার পাশাপাশি সন্তানদের রান্না করে খাওয়ানো, গোসল করানো ও দেখাশোনার দায়িত্ব এখন তার কাঁধে। পাশাপাশি স্ত্রীর জামিনের জন্য আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন তিনি।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুন একটি ছোট্ট বাচ্চাসহ তার স্ত্রীকে আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের গাজীর বাজার এলাকায় দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ বাচ্চাসহ তাকে থানায় নিয়ে আসে। খবর পেয়ে বাচ্চার অভিভাবক থানায় এসে বাচ্চাটি নিয়ে যায় এবং তার নামে বাচ্চা চুরির মামলা দেয়। পুলিশ সাবিনাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
সফিক মিয়া বলেন, আমার স্ত্রী মানসিক অসুস্থ। সে বাচ্চা চুরি করেনি। সে নির্দোষ। ছোট ছোট তিনটি সন্তান নিয়ে আমি খুব কষ্টে আছি। আমি গরীব মানুষ। আমার স্ত্রীকে মুক্তি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করছি।
তিনি আরও বলেন, ছোট বাচ্চাটা মায়ের দুধ পাচ্ছে না। সারাক্ষণ কান্নাকাটি করে। সাবিনার বড় ছেলে ইব্রাহিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, অনেক দিন মাকে দেখি না। আমার মাকে এনে দাও।
সাবিনার মা মরিয়ম বেগম বলেন, আমার মেয়ের মাথায় সমস্যা আছে। তাকে মুক্ত করে দিন। তিনটা নাতিন নিয়ে খুব সমস্যায় আছি।
এ ব্যাপারে আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাবেদ উল ইসলাম বলেন, একটি শিশু বাচ্চাসহ সাবিনা আটক হয়। পরে বাচ্চার অভিভাবক চুরির অভিযোগে মামলা দেওয়ায় তাকে আদালতে প্রেরণ করি।