প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ৩, ২০২৬, ৩:২৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ২, ২০২৬, ৬:৫৩ পি.এম
সমুদ্র ও নৌপথকে শক্তিশালী করা গেলে আমাদের সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী হবে: নাহিদ ইসলাম

চট্টগ্রাম বন্দর, সমুদ্র ও নৌপথকে শক্তিশালী করা গেলে আমাদের সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী হবে: নাহিদ ইসলাম
রবিবার (০২ আগস্ট) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে চবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: প্রতিরোধ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, এখনও আমাদের সংস্কার ও বিচারের দাবিতে কথা বলতে হচ্ছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে, যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, তাদের পরিণতি স্বৈরতান্ত্রিক হবে। রাষ্ট্রপতি কে হবেন তার ভার ন্যস্ত করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর হাতে। এতদিন যে ক্ষমতার ভারসাম্যের আলোচনা হয়েছে সরকার তার উল্টোদিকে হাঁটছে। সব প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ করা হয়েছে। মেরিট এর ভিত্তিতে কোথাও কোনো নিয়োগ হচ্ছে না। তো প্রতিরোধের জন্য আমরা প্রস্তুত। পাঁচ মাসের মধ্যে জনগণ কথা বলতে শুরু করেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিপ্লবী আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক চেতনা বাস্তবায়নে তরুণদের সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আসতে হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আমরা একটি অসমাপ্ত কাজ করেছি। কেন আমরা পারিনি সেজন্য আমাদের দায়ী করতে পারেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, সেসময় আমরা কারও সমর্থন পাইনি। এখন যারা গণঅভ্যুত্থানের কর্তৃত্ব দাবি করছে, তাঁরা সবার আগে ক্যান্টনমেন্ট চলে গেছেন। তারা প্রথমেই ক্যান্টনমেন্টকে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র বানিয়েছেন। এর ফলে অনেককিছু আমাদের হাতছাড়া হয়ে যায়। আমরা সেসময় একবারও ক্যান্টনমেন্টে যাইনি। রাজনৈতিক দলগুলোর সেমময়কার ভূমিকা বিশ্লেষণ করা উচিত। শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়বেন, এটি অনেকের প্রত্যাশা ছিল। তবে ক্ষমতার কাঠামোর পরিবর্তন কিংবা তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবেন, এমনটি অনেকের প্রত্যাশায় ছিল না। বরং আওয়ামী লীগকে বিরোধী দলে রেখে পরবর্তীতে আবার ক্ষমতায় আনার একটি পরিকল্পনা ছিল।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বটা হচ্ছে পুরা চট্টগ্রাম বিভাগকে নেতৃত্ব দেওয়া। এই চট্টগ্রাম বিভাগকে নিয়ে আমাদের কী পরিকল্পনা আছে? চট্টগ্রাম বিভাগকে অর্থনীতির কেন্দ্রে আমরা কীভাবে প্রতিষ্ঠিত করবো, সেটার দায়িত্ব তো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ন্যস্ত হওয়া উচিত। আমরা জানি ঢাকার পরে সবচেয়ে বেশি আন্দোলন হয়েছে, আন্দোলনের দুর্গ হিসেবে গড়ে উঠেছিল চট্টগ্রাম শহর; যেটা সূত্রপাত ঘটেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তো এটা আমরা জানি যে আগামীতেও যদি কোনো ধরনের এরকম পরিস্থিতি তৈরি হয়, জনগণের পক্ষে কোনো আন্দোলন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অবশ্যই অংশগ্রহণ করবে।
সমুদ্র ও বন্দর নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনার জায়গাটা হচ্ছে সমুদ্র। আমরা তিন দিক থেকে ল্যান্ডলকড। তিন দিকে আমাদের ভারত। আমাদের একমাত্র উন্মুক্ত স্থান হচ্ছে সমুদ্র যার মধ্য দিয়ে আমরা বিশ্বের সাথে যোগাযোগ করতে পারি। ফলে বাংলাদেশে এজন্য কখনোই আমরা ভারতের দিল্লির ওপর নির্ভরশীল হইনি। আমরা স্বনির্ভর হতে পারছি, কারণ আমাদের সমুদ্র বন্দর। আমাদের সমুদ্র-নৌপথকে আমরা যদি পরিকল্পনা মাফিক সাজাতে পারি, শক্তিশালী করতে পারি, তাহলে আমাদের সার্বভৌমত্বকে আমরা শক্তিশালী করতে পারব। এবং এটার নেতৃত্ব হতে হবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই।
সভায় আরো বক্তব্য দেন চবির দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোজাম্মেল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ সোহাইব, এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারোয়ার তুষার ও আলী আহসান জুনায়েদ, জাতীয় ছাত্র শক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদারসহ নেতৃবৃন্দ।
Copyright © 2026 খুলনা টাইমস ২৪. All rights reserved.