রাজবাড়ীতে জেলার প্রধান ডাকঘরে মেয়াদি সঞ্চয় হিসাবের নামে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে জড়িতদের বিচারের দাবি ও আমানতের টাকা ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে|
শনিবার (২৬ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সামনের প্রধান সড়কে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের উদ্যোগে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়|
ভুক্তভোগী মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রাজবাড়ী জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ক্রিস্টিনা মারিও রেখা, ভুক্তভোগী শরিফ, নাসরিন, মো. সেলিম, জাহানারা, রাবেয়া, সুলতানা, ডলি রানী সাহা, আইয়ুব সরদার, সেলিম হোসেন প্রমুখ| এসময় ঘটনার আরও অন্তত অর্ধশতাধিক ভুক্তভোগীরা উপস্থিত ছিলেন|

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের লেটার রাইটার মেয়াদি সঞ্চয় হিসাব খোলার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে সাদা স্লিপের মাধ্যমে অর্ধশতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা গ্রহণ করেন, কিন্তু সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন| ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন| তার বাড়িতে খোঁজ নিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি| এ ঘটনায় তৎকালীন পোস্টমাস্টারও সংশ্লিষ্ট রয়েছেন|
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার করে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ফেরত দেওয়া হোক| পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক|
পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রাজবাড়ী জেলা শহরের পান্না চত্ত্বর এলাকায় অবস্থিত প্রধান ডাকঘরের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা|
উল্লেখ্য, রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের লেটার রাইটার পোস্ট অফিসে আগত গ্রাহকদের সঞ্চয় হিসাব খোলার নামে বিভিন্ন সময়ে সাদা স্লিপের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ডাকঘরের সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে| পলাতক লেটার রাইটার রাজবাড়ী সদর উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের রশোড়া বাঘিয়া গ্রামের ছেলে|

বিষয়টি জানাজানি হলে গত ১২ জুলাই কুষ্টিয়া বিভাগীয় ডাক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা তদন্তে এসে লেটার রাইটারকে ডাকঘরে পেলেও তাকে পুলিশে সোপর্দ না করে ছেড়ে দেন| এরপর থেকেই তিনি পলাতক| তার বাড়িতে খোঁজ নিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি| বর্তমানে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা ডাকঘরে এসে তাদের অর্থ ফেরতের দাবি জানাচ্ছেন|
গত ১৬ জুলাই খুলনা দক্ষিণাঞ্চলের পোস্টমাস্টার জেনারেল (চলতি দায়িত্ব) কবির আহমেদের ¯^াক্ষরিত এক পত্রে ঘটনাটি তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন| তদন্ত কমিটিতে খুলনা দক্ষিণাঞ্চলের অতিরিক্ত পোস্ট মাস্টার জেনারেলকে সভাপতি, খুলনা সার্কেল অফিসের সুপারিন্টেন্ডেন্টকে (তদন্ত) সদস্য সচিব, ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেল (তদন্ত), দক্ষিণাঞ্চল, খুলনা ও কুষ্টিয়া বিভাগের ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেলকে সদস্য করা হয়েছে|