পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শ্রমজীবি হাজার হাজার মানুষ দীর্ঘ এক সপ্তাহ অলস সময় কাটিয়ে শনিবার সকাল থেকে কাজে ফিরতে শুরু করেছে।
রবিবার (১২ জুলাই) ভোরে মুসলধারে বৃষ্টি হওয়ার পর মেঘাচ্ছন্ন আকাশে কিছুটা রোদের দেখা মেলায় শ্রমজীবি মানুষরা কাজে ফিরতে শুরু করেছে।
গত এক সপ্তাহ যাবৎ বিরামহীন ভারী বর্ষন এবং সমুদ্রে পানির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় কলাপাড়া সহ উপকূলীয় এলাকার মাঠ-ঘাট ডুবে একাকার হয়ে গেছে। এতে পানি বন্ধী হয়ে পড়েছে শতশত পরিবার। এসব পরিবারের সদস্যরা ডিঙ্গি নৌকা কেউ কেউ কলাগাছের ভেলায় যাতায়াত করে প্রয়োজনীয় কাজ সেড়েছেন। এ সময় সাগর কিছুটা উত্তাল থাকায় শতশত মাছ ধরা ট্রলারের জেলেরা মাছ শিকার বন্ধ করে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছিল। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পর্যটক সমাগম ছিল খুবই কম। পৌরশহর সহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ভাড়াটিয়া মোটরসাইকেল, রিক্সা, অটোরিকশা, ভ্যান,ইঞ্জিন চালিত যাত্রীবাহি ট্রলারের শতশত শ্রমিক কাজে যেতে পারেনি।

এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী উপস্থিতি ছিল কম। কোন কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি ছিল শূন্যর কোঠায়। এছাড়া পৌরশহর সহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের দোকান পাটে তেমন কোন বেচা-বিক্রি ছিল না। অতি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হয়নি। এক কথায় জন-জীবনে স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল।
এ ব্যাপারে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের অধিবাসী অটোরিকশা চালক মো.হাসান আলী জানান, এক সপ্তাহের বৃষ্টিতে ঘর থেকে বের হতে পারিনি। বলতে গেলে এ সময়টা পুজিঁ ভেঙ্গে খেতে হয়েছে।
মো.আলম নামে এক ভাড়াটিয়া মোটর সাইকেল চালক জানান, বৃষ্টিতে কেউ মোটরসাইকেল উঠতে চায় না, ফলে এ পেশার মানুষদের বিরামহীন বৃষ্টিতে উপার্জনের কোন উপায় থাকে না।
মহিপুরের জেলে মো.নাসির, সজীব, সলেমান জানান, সাগর উত্তালের কারনে মাছ ধরা বন্ধ করে মহিপুর আড়ৎঘাটে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছি। তবে এসময় অন্যকোন কাজ না থাকায় প্রতিদিন লোকসান গুনতে হয়েছে।