পার্বত্য জেলার বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতি আবারও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, গত পাঁচদিনে বন্যা পরিস্থিতি মোটামুটি উন্নতির দিকে থাকলেও শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলা শহরের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে বান্দরবান- কেরানীহাট সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কের গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজঘাট সেতু মারাত্মক পাহাড়ি ঢলে ভেঙে পড়েছে। ফলে শনিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে এ দুই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। গত কয়েক দিনের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জেলায় পাহাড়ধসে ৫ জন এবং পানিতে ভেসে গিয়ে এক শিশুসহ মোট ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সারারাতের অব্যাহত বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বান্দরবান-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ তলিয়ে যাওয়ায় সারা দেশের সঙ্গে জেলাটির সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া পাহাড়ধসের কারণে মাটি ও গাছ উপড়ে পড়ে রুমা, থানচি, আলীকদম, লামা ও নাইক্ষ্যংছড়িসহ অভ্যন্তরীণ উপজেলাগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।

বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা বিঘ্নিত হওয়ায় জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে। প্লাবিত এলাকার বাসিন্দারা বিশুদ্ধ পানি, জরুরি ওষুধ ও খাদ্যসংকটে ভুগছেন। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহণেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠে নেমেছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
জেলা প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে কাজ করছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক ও এনজিও।
বান্দরবানে সংসদ সদস্য সাচিংপ্রু জেরী এম পি প্রতিবেদক'কে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি বলে জানান তিনি।