বাগেরহাটে চলতি মৌসুমে ভেন্ডির বাম্পার ফলনে কৃষকদের স্বপ্ন ছিল ভালো লাভের। মাঠজুড়ে সবুজ ভেন্ডির সমারোহ আর ফলনেও মিলেছে আশার চেয়ে বেশি সাফল্য। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিদিন টেকেনি। বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এখন লোকসানের শঙ্কায় দিন কাটছে চাষিদের। কৃষি বিভাগ বলছে, লবণসহিষ্ণু হওয়ায় এ অঞ্চলে ভেন্ডির উৎপাদন তুলনামূলক বেশি হয়। তাই আগাম মৌসুমে চাষ এবং সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে কৃষকরা আরও ভালো দাম পেতে পারেন।
উর্বর মাটি, অনুকূল আবহাওয়া এবং লবণসহিষ্ণু বৈশিষ্ট্যের কারণে এবার বাগেরহাটে ভেন্ডির বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় প্রায় ৪৫০ হেক্টর জমিতে ভেন্ডির আবাদ হয়েছে। জেলার সদর, ফকিরহাট, মোল্লাহাট, চিতলমারী, কচুয়া, রামপাল, মোংলা, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলাসহ বিভিন্ন উপজেলার মাঠজুড়ে এখন সবুজ ভেন্ডির সমারোহ। ফলন ভালো হওয়ায় শুরুতে লাভের আশা করেছিলেন কৃষকরা। কিন্তু বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় সেই আশা এখন অনেকটাই ম্লান।

ভেন্ডি চাষি শিশির কুমার বলেন,এবার ফলন খুবই ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে যে দাম পাওয়া যাচ্ছে, তাতে উৎপাদন খরচই উঠছে না। বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি সবকিছুর খরচ বেড়েছে। অথচ ভেন্ডি বিক্রি করতে হচ্ছে কম দামে।
কৃষক হরিপদ বলেন,ভোরে মাঠ থেকে ভেন্ডি তুলে বাজারে নিয়ে আসছি। কিন্তু পাইকাররা যে দাম বলছেন, তাতে লাভ তো দূরের কথা, খরচই উঠছে না।
স্থানীয় নিলয় চাষি বলেন, এভাবে দাম কম থাকলে আগামী মৌসুমে অনেক কৃষক ভেন্ডি চাষ থেকে সরে যেতে বাধ্য হবেন।

কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন বেড়ে গেলেও বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমে গেছে। এতে শ্রমিকের মজুরি, বীজ, সার, সেচ ও পরিচর্যার ব্যয় মিটিয়ে অনেকেই লাভ করতে পারছেন না। কেউ কেউ উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ মোতাহার হোসেন বলেন,ভেন্ডি একটি লবণসহিষ্ণু ফসল। বাগেরহাটের উপকূলীয় পরিবেশে এটি খুব ভালো উৎপাদন হয়। এ বছরও ফলন অত্যন্ত সন্তোষজনক হয়েছে। আগাম মৌসুমে ভেন্ডি চাষ করলে বাজারে সরবরাহ কম থাকায় কৃষকরা তুলনামূলক ভালো দাম পেতে পারেন। এজন্য সময়মতো বীজ বপন, উন্নত জাত নির্বাচন এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণের পাশাপাশি আগাম চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।
বাম্পার ফলনের সুখবর থাকলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে বাগেরহাটের ভেন্ডি চাষিরা। তাদের দাবি, উৎপাদনের পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, সংরক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হলে কৃষকরা বাম্পার ফলনের প্রকৃত সুফল ঘরে তুলতে পারবেন।