নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাটাবো এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ব্যক্তিগত অর্থায়নে মেরামত করে জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করেছেন কাঞ্চন পৌর ৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সবুজ মিয়া।
রবিবার সকালে শাহজাহান কোম্পানির বাড়ি থেকে আব্দুর রহমান মার্কেট পর্যন্ত সড়কের নয়ন কোম্পানি টেক্সটাইল মোড় সংলগ্ন ক্ষতিগ্রস্ত অংশ আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে পাকাকরণ করা হয়। এতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা,শিক্ষার্থী,ব্যবসায়ী ও পথচারীরা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন,স্থানীয় নজরুল ইসলাম,বাবু মিয়া,কামাল মিয়া, নবী হোসেন,নয়ন মিয়া, আনোয়ার হোসেন,বাদশা মিয়া প্রমুখ।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের অভাবে খানাখন্দে ভরে গিয়েছিল। প্রতিদিন শত শত মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করলেও কোনো ধরনের সংস্কার কাজ না হওয়ায় চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি জমে কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় পথচারী এবং যানবাহন চালকদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যেত।
হাটাবো এলাকার বাসিন্দা রাসেল বলেন, অনেক বছর ধরে রাস্তার এই অংশটি ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে ছিল। জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সবুজ মিয়া নিজ অর্থায়নে রাস্তা মেরামত করায় আমরা খুবই খুশি।
স্থানীয় প্রবীণ কবির হোসেন বলেন,রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে আমাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমও ব্যাহত হতো। মালামাল পরিবহনে সমস্যা হতো এবং অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটেছে। এখন রাস্তা ঠিক হওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।

শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার বলেন, স্কুল ও কোচিংয়ে যেতে আমাদের অনেক কষ্ট হতো। বৃষ্টির সময় রাস্তা দিয়ে হাঁটা প্রায় অসম্ভব হয়ে যেত। এখন সহজে যাতায়াত করতে পারছি।
রিকশাচালক মো. সোহেল বলেন,রাস্তার গর্তের কারণে প্রায়ই রিকশা উল্টে যেত বা ক্ষতিগ্রস্ত হতো। এখন রাস্তা ভালো হওয়ায় নিরাপদে চলাচল করা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে সবুজ মিয়া বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের কষ্টের কথা বিবেচনা করে নিজ উদ্যোগে সড়কটি সংস্কারের ব্যবস্থা করেছি। জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘব করাই আমার মূল উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতেও এলাকার উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা করব।
তিনি আরও বলেন, সমাজের বিত্তবান ও সচেতন ব্যক্তিরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এলে এলাকার অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব। আমি সবসময় মানুষের পাশে থাকতে চাই।
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ শুধু মানুষের ভোগান্তি কমাবে না, বরং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।