পটিয়ায় সনাক-টিআইবির মানববন্ধনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিশুশ্রমকে লালকার্ড; বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ সব ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুশ্রম বন্ধের জোর দাবি করা হয়।
চট্টগ্রামের পটিয়ায় “বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ১৫ জুন সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), পটিয়ার উদ্যোগে পটিয়া থানা সেন্টার প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মানববন্ধনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ সব ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুশ্রম বন্ধের দাবি জানানো হয় এবং প্রতীকীভাবে “বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিশুশ্রমকে লালকার্ড” প্রদর্শন করা হয়।
বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে শিশুশ্রম এখনো গভীর ও জটিল চ্যালেঞ্জ। বাজারের চা-দোকান থেকে শুরু করে মিল-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও গৃহস্থালি কাজসহ সর্বত্র শিশুশ্রম ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিশুশ্রম উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এতে শিশুরা নানা ঝুঁকিতে পড়ছে; মাদক, নেশাদ্রব্য ও কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। পাশাপাশি তারা নানাবিধ রোগ-ব্যাধির শিকার হলেও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ পর্যাপ্ত নয় এমন অভিযোগও তোলেন বক্তারা।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সনাক পটিয়ার সভাপতি অ্যাডভোকেট কবিশেখর নাথ পিন্টু। বক্তব্য দেন পশ্চিম পটিয়া এ. জে. চৌধুরী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন, সনাক সহ-সভাপতি শীলা দাশ, আবদুর রাজ্জাকসহ অনেকে। উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক অজিত কুমার মিত্র, পটিয়া আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তানজিনা জাহান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট দেবেশ গুপ্ত, সনাক সদস্য নিত্যময় চৌধুরী, সাংস্কৃতিক কর্মী গৌতম চৌধুরী, পারফেক্ট চাইল্ড কেয়ারের প্রধান শিক্ষক নাছিমা আকতার, নারীনেত্রী নিলুফার জাহান কুমু, অ্যাডভোকেট রাহুল মজুমদার, সূর্যের হাসি ক্লিনিকের ম্যানেজার রূপস মুৎসুদ্দী, পটিয়া খলিলুর রহমান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. নিয়াজুর রহমান, বাংলাদেশ ইয়ুথ ক্যাডেট ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি আরিফুর রহমানসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণ।
সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট কবিশেখর নাথ পিন্টু বলেন, পরিবারিক অভাবকে পুঁজি করে শিশুদের শ্রমে ঠেলে দেওয়া সম্পূর্ণ অনৈতিক। শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়ায় তারা শিক্ষার সুযোগ হারাচ্ছে এবং নানা অপরাধপ্রবণতার দিকে ঝুঁকছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে শিশুদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা ও বিদ্যালয়মুখী করার দাবি জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, “আমরা শিশুশ্রমকে লালকার্ড দেখিয়ে স্পষ্টভাবে না বলছি- সরকারের কাছে উপযুক্ত ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা প্রত্যাশা করছি।”
দিবসের ধারণাপত্র পাঠ করেন ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) দলনেতা নিলয় বড়ুয়া। মানববন্ধন থেকে শিশুশ্রম বন্ধে টিআইবির প্রণীত সুপারিশমালা সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করা হয়।