নাম 'ডলার'। শুনলেই যেন সচ্ছলতা আর আভিজাত্যের ছবি ভেসে ওঠে। শখ করে বাবা-মা রেখেছিলেন এই নাম।
কিন্তু জীবনের কঠিন বাস্তবতায় নামের সেই গৌরবের সাথে মিল খুঁজে পাওয়া দায় ৪০ বছর বয়সী শেখ ডলারের।
জীবনের দুই দশক পার করেছেন পত্রিকা বিলি করে। এখনো বিয়ের পিঁড়িতে বসা হয়নি, তবুও জীবনসংগ্রামের কাছে হার মানেননি তিনি।
বাগেরহাটের কচুয়ায় অলিগলিতে কিংবা বিভিন্ন অফিসপাড়ায় ভোরে যার পদচারণা নিয়মিত, তিনিই শেখ ডলার। বাবা আব্দুর রহমান ও মা নুরজাহার বেগমের সন্তান তিনি।
গত ২০ বছর ধরে পত্রিকা বিলি করেই তার সংসার চলে। একসময় বাবা-মা বেঁচে থাকলেও আজ হয়তো সেই টানাপোড়েনের সংসার আরও বেশি একা হয়ে পড়েছে তার কাঁধে।
অর্থনৈতিক যাতাকলে পিষ্ট ডলারের আক্ষেপ নেই বললেই চলে। অভাবের সংসারে বড় কোনো ব্যবসায় বিনিয়োগ করার মতো পুঁজি তার কোনোদিনই ছিল না। তবে তার সংগ্রামী জীবনের সবচাইতে হৃদয়বিদারক দিকটি হলো—এত বছর ধরে পত্রিকা বিলি করলেও একটি সাইকেল কেনার সামর্থ্যও হয়নি তার।
প্রতিদিন ভোরে হাজারো মানুষের হাতে দেশ-বিদেশের খবর পৌঁছে দিতে তিনি মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দেন হেঁটেই।
অনেকেই হয়তো নাম শুনে অবাক হন, আবার কেউ কেউ কৌতূহল নিয়ে তাকান। ডলার তাতে বিচলিত হন না। তার কাছে জীবন মানেই প্রতিদিন ভোরে পত্রিকা কাঁধে নিয়ে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাওয়া।
মানুষের খবরের কাগজে দিন শুরু হয়, আর ডলারের দিন কাটে সেই কাগজ বিলি করেই।
যান্ত্রিক এই শহরে অভাবের তাড়নায় মানুষ যখন দিশেহারা, শেখ ডলার সেখানে এক অদম্য মানসিকতার নাম।
সাইকেল নেই, সম্বল বলতে কেবল একজোড়া হাঁটা আর পত্রিকা বিলির দীর্ঘ ২০ বছরের অভ্যাস। তবু তার এই নিরন্তর সংগ্রাম থামেনি, থামবেও না হয়তো।
এভাবেই তিনি প্রতিদিন বিলিয়ে চলেন খবরের কাগজের পাতায় থাকা অগণিত মানুষের সাফল্যের গল্প, যদিও তার নিজের জীবনের গল্পটা থেকে যায় অভাবের ধূসর পাতায়।