পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার চণ্ডীপুর ইউনিয়নের গাজীরহাট কেল্লার পাশের সরকারি খাস জলাশয়ে মাছ ধরা নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
শনিবার দুপুরে বাইজিদ গ্রুপ ও জুয়েল গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষে জড়িত অধিকাংশই স্থানীয় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
আহতরা হলেন— জুয়েল (৪০), আসলাম (২৫), বাইজিদ (৩৫) ও আরিফ (২২)। আহতদের উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চণ্ডীপুর বাজারকেন্দ্রিক কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বাইজিদের নেতৃত্বে একটি পক্ষ গাজীরহাট কেল্লার পাশের সরকারি খাস জলাশয়ে মাছ ধরতে যায়। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন তাদের বাধা দেন। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসীর উদ্যোগে ওই জলাশয়ে ঝাউল ও বাঁধ দিয়ে মাছ সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ে সবাই মিলে মাছ আহরণ করে থাকেন।

এ সময় স্থানীয়রা বাইজিদদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা গ্রামবাসী মিলে মাছ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। আপনারা অন্য এলাকা থেকে এসে এখানে কেন মাছ ধরতে এসেছেন?” এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত বাইজিদ বলেন, “আমাকে ভূমি অফিস থেকে পাঠানো হয়েছে।” কে পাঠিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ভূমি অফিসের পেশকার জাহিদ ভাই পাঠিয়েছেন। এছাড়া মাছ ধরার পর মাছ নিতে ইউএনও অফিসের মামুন ভাই ও রাব্বি ভাই আসার কথা ছিল।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ভূমি অফিসের পেশকার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি কাউকে মাছ ধরার অনুমতি দেইনি। বিষয়টি দেখার জন্য বলেছিলাম মাত্র।”
এ বিষয়ে ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. ফাইজুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “আমি মারামারি ও চিৎকার-চেঁচামেচির খবর শুনে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে বাইজিদের কাছে জানতে চাইলে সে বলে, ‘আমাকে ভূমি অফিসের জাহিদ ভাই পাঠিয়েছেন।’ পরে আমি জাহিদ ভাইকে ফোন দিলে তিনি প্রথমে বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে পরে আবার বিষয়টি অস্বীকার করেন।”

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ফরিদ হোসেন বলেন, “ঘটনার পর উভয় পক্ষই আমার কাছে এসেছিল। আমি সবাইকে বলেছি, এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে এবং সবাই মিলেমিশে থাকেন।”
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “কেউ আমাদের নাম ব্যবহার করে থাকতে পারে। মাছ ধরার জন্য আমরা কাউকে পাঠাইনি। তবে দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলার বিষয়টি শুনেছি। স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বলা হয়েছে।”
এ বিষয়ে ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত আলী খান বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”