রাজনীতি যখন কেবল ক্ষমতার দাপট নয়, বরং দেশ ও দশের জন্য আত্মবিসর্জনের নাম হয়ে দাঁড়ায়, তখন হাবিবুর রহমান সেলিম রেজার মতো নামগুলো ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। ৯০-এর এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে চব্বিশের ছাত্র-জনতার মহাবিপ্লব—প্রতিটি সংগ্রামেই তিনি ছিলেন সম্মুখসারির এক যোদ্ধা। বর্তমানে নিউইয়র্ক মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে থাকলেও তার হৃদস্পন্দন সর্বদা মিশে থাকে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের প্রতিটি ধূলিকণায়।
সেলিম রেজার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে ট্র্যাজিক ও হৃদয়বিদারক অধ্যায় হলো তার দীর্ঘ ১২ বছরের নির্বাসিত জীবন। প্রবাসে থেকেও ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে আপসহীন ভূমিকা রাখায় তাকে দেশে ফিরতে দেয়নি তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকার। এমনকি তার পরম জননী যখন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, তখন মায়ের মুখটি একবার দেখার জন্য ছটফট করলেও ফ্যাসিস্টদের রক্তচক্ষু তাকে জানাজায় অংশ নিতে দেয়নি। এই ব্যক্তিগত শোক তাকে দমানোর পরিবর্তে জনগণের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে আরও ইস্পাতকঠিন করেছে।

এরশাদ বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অগ্নিগর্ভ থেকে উঠে আসা সেলিম রেজা ১/১১-এর দুঃসময়েও ছিলেন অবিচল। তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত তার গ্রহণযোগ্যতা আকাশচুম্বী।
১ মে ২০২৩, ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের সামনে শেখ হাসিনার সফরের প্রতিবাদে তিনি যে অকুতোভয় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তা ছিল তৎকালীন সরকারের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার মতো। এর প্রতিশোধ নিতে তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের ওপর নেমে আসে ডিবি পুলিশের অমানুষিক নির্যাতন ও গুম করার হুমকি।
৫ই জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তার সুদূরপ্রসারী ভূমিকা ও জনমত গঠন স্বৈরাচারের পতনকে ত্বরান্বিত করেছিল।
বর্তমানে রাজাপুর ও কাঁঠালিয়ার প্রতিটি গ্রামে-গঞ্জে চষে বেড়াচ্ছেন এই গণমানুষের নেতা। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা লিফলেট হাতে তিনি যখন মানুষের দুয়ারে যান, তখন তৃণমূলের মানুষ খুঁজে পায় তাদের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত অভিভাবককে।
”আমরা এমন একজন নেতা চেয়েছিলাম যিনি আমাদের দুঃখ বোঝেন, যিনি আমাদের জন্য জেল-জুলুম সহ্য করেছেন। সেলিম রেজা আমাদের সেই আস্থার ঠিকানা।”
সম্প্রতি এক আবেগঘন বক্তব্যে সেলিম রেজা বলেন, “জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। জোর করে ক্ষমতায় থাকা যায় না, তার প্রমাণ ইতিহাস দিয়েছে। আমাদের এখনকার লক্ষ্য হলো ঐক্যবদ্ধভাবে তারেক রহমানের নির্দেশনায় জনগণের মন জয় করা এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাবিবুর রহমান সেলিম রেজার মতো ত্যাগী, অভিজ্ঞ এবং কর্মীদের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ নেতা ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির রাজনৈতিক সাহস, মানবিক কর্মকাণ্ড এবং নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম তাকে কেবল একজন নেতাই নয়, বরং গণতন্ত্রের এক অতন্দ্র প্রহরীতে পরিণত করেছে।
ঝালকাঠি-১ আসনের গণমানুষ এখন এক নতুন ভোরের অপেক্ষায়, যার নেতৃত্বে রয়েছেন রাজপথের পরীক্ষিত সৈনিক হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা।