খুলনার কয়রা উপজেলায় সরকারি ঘর ও অনুদানের টাকা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ১১টি পরিবারের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোেগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে।
উপজেলার জায়গীরমহল গ্রামের বাসিন্দা মোছাঃ বেবি খাতুনসহ ভুক্তভোগী পরিবারগুলো প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাতঃ
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১ নম্বর বিবাদী নাজমুল সানা পেশায় একজন ট্রাক চালক। তিনি জায়গীরমহল গ্রামের নেছার গাজীর বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করার সুবাদে স্থানীয়দের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন।
এই পরিচয়ের সূত্র ধরে নাজমুল নিজেকে প্রভাবশালী দাবি করে বেবি খাতুন ও তার ১০ প্রতিবেশীসহ মোট ১১টি পরিবারকে সরকারি ঘর এবং ঘর প্রতি ৩ লাখ টাকা করে অনুদান পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
যেভাবে চলতো প্রতারণাঃ
ভুক্তভোগী বেবি খাতুন জানান, নাজমুলের কথায় সরল বিশ্বাসে তার বাবা সোবাহান সানা ও স্ত্রী রাবেয়া সুলতানা টুম্পার উপস্থিতিতে কয়েক দফায় মোট ৭ লাখ টাকা তুলে দেন তারা। প্রায় তিন মাস আগে এই টাকা লেনদেন হলেও ঘর বা অনুদানের কোনো হদিস মেলেনি।
বেবি খাতুন বলেন, "আমরা গরিব মানুষ। সরকারি ঘরের আশায় ধার-দেনা করে টাকা দিয়েছিলাম। এখন টাকা ফেরত চাইলে তারা নানা টালবাহানা করছে। পরে জানতে পেরেছি, তাদের ঘর দেওয়ার কোনো ক্ষমতাই নেই, তারা মূলত প্রতারক।"

স্বর্ণালঙ্কারও হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগঃ
টাকা আত্মসাতের পরও ক্ষান্ত হয়নি চক্রটি। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে আরও টাকা দাবি করলে ভুক্তভোগীরা তা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। তখন বিবাদী রাবেয়া সুলতানা টুম্পা কৌশলে বেবি খাতুন ও তার দুই প্রতিবেশীর কান থেকে ৩ জোড়া স্বর্ণের দুল 'বন্ধক রেখে টাকা জোগাড় করার' নাম করে নিয়ে নেন। সেই অলঙ্কারও আর ফেরত দেওয়া হয়নি।
স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থঃ
ভুক্তভোগীরা জানান, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশ-বৈঠকের চেষ্টা করা হলেও বিবাদীরা কর্ণপাত করেনি। নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো গত ৪ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। এই ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রশাসনের বক্তব্যঃ
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারি ঘর বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অর্থ লেনদেন অবৈধ। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এমন প্রতারক চক্রের কারণে সরকারের জনহিতকর প্রকল্পগুলো প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। দ্রুত এই চক্রকে আইনের আওতায় এনে ভুক্তভোগীদের টাকা ও স্বর্ণকার উদ্ধার জরুরি।
ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত নাজমুল সানা বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।