
২০২৪ সালে বাংলাদেশের গণ অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলেও সম্প্রতি দলটির পক্ষে নানা কার্যক্রম সামনে আসছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও গত কয়েকদিনে ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি জায়গায় নানা তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।
সেখানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা দলটির নেতাকর্মীদের মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি সর্বশেষ গত শুক্রবার একটি দলটির কিছু নেতাকর্মীদের একটি শপথ গ্রহণ করতেও দেখা যায়।
লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগরের একটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের এই কর্মসূচি পালনের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নানা আলোচনা চলছে।
যেখানে জুলাই গণ অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে শপথ নিতে দেখা গেছে দলটির নেতাকর্মীদের।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপি সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখলেও দলীয় নেতাকর্মীরা নানা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে গত সপ্তাহে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ও সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন কক্সবাজারের প্রায় পৌনে দুইশো আইনজীবী। তারা সেখানে, দ্রুতই দলটির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারেও দাবি জানিয়েছেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। অংশ নিতে পারেনি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে।
গত ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপির জয় নিশ্চিত হওয়ার পরদিন সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় দলীয় কার্যালয় চালুসহ দলটির নেতাকর্মীদের নানা তৎপরতা দেখা যায়।
কিন্তু চলতি মাসে জাতীয় সংসদে দলটির নিষেধাজ্ঞা বহালের সুযোগ রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ আইন আকারে পাশ হওয়ার পর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরা নিয়ে যে গুঞ্জন ছিল সেটি নিয়ে ধোঁয়াশা দেখা দেয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পুরনো রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের রাজনীতিতে ফেরার প্রচেষ্টা চালানোর বিষয়টি অস্বাভাবিক নয়। তবে সেটি কতখানি সফল হবে তা নির্ভর করছে সরকারের ওপর।