জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের উপকূলীয় অঞ্চল। ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা ও তাপদাহের কারণে উপকূলীয় জনগোষ্ঠী প্রতিনিয়ত জীবন, জীবিকা ও সম্পদের ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে। এ অবস্থায় জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকি অর্থায়ন ও বীমা ব্যবস্থা কার্যকর জরুরি।
জলবায়ূ পরিবর্তনে দায়ী রাষ্ট্রগুলোর কাছ ন্যায্য ক্ষতিপূরণ আদায় ও ক্ষতিগ্রস্তদের বিতরণ করতে হবে। যা উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষদের দুর্যোগ মোকাবেলা ও অভিযোজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সভায় এ অভিমত ব্যক্ত করা হয়।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে বেসরকারি সংস্থা অ্যাওসেড খুলনার একটি অভিজাত হোটেল মিলনায়তনে বিভাগীয় পর্যায়ে ম্যাপ কনসালটেশন এন্ড শেয়ারিং মতবিনিময় সভায় আয়োজন করে।

কেয়ার বাংলাদেশের সহযোগিতায় অ্যাওসেড মাল্টি অ্যাক্টর পাটনারশিপ- ম্যাপ জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকি অর্থায়ন ও বীমা সম্পর্কিত প্রকল্পটি তিন বছর যাবত বাস্তবায়ন করছে।
ম্যাপ - ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরামের খুলনা বিভাগীয় সভাপতি ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক ড. মো: মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় সভার উদ্দেশ্য কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা করেন অ্যাওসেডের উপ-নির্বাহী পরিচালক ও সিডিআরএফআই প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার হেলেনা খাতুন।
বক্তব্য দেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. তুষার কান্তি রায়, কৃষিবিদ ড. এস এম ফেরদৌস, অধ্যক্ষ রাজীব কুমার বাছাড়, সাংবাদিক মোস্তফা জামাল পপলু, কৌশিক দে, জুলফিকার রায়হান, রেখা মারিয়া বৈরাগী, ইসরাত জাহান, সৈয়দ শওকত হোসেন, আব্দুল হালিম, শিরিন বেগম, নার্গিস আক্তার লুনা, এস এম ইমরান হোসেন, ইফফাত সানিয়া ন্যান্সি প্রমুখ।
আয়োজকরা জানান, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, সামাজিক সুরক্ষা ও জলবায়ু অভিযোজন বিষয়ক তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পটিতে সরকারের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার, একাডেমিয়া, সিভিল সোসাইটি, বেসরকারি খাত, সাংবাদিক, কমিউনিটি প্রতিনিধি, যুব ও শিক্ষার্থীসহ ১ হাজার ৫১৩ জন অংশগ্রহণ নেন।
অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে ওয়ার্ড- জাতীয় স্তরে ৬৬টি অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হয়েছে। তাদের সুপারিশ ও মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ভর্তুকিভিত্তিক বীমা কাঠামো প্রস্তাব সরকারের কাছে তুলে ধরা হবে।