নির্বাচন করেছি দল থেকে, কিন্তু ভোট দিয়েছে জনগণ। তাই উন্নয়ন হবে সকলের জন্য, নির্দিষ্ট কোনো দলের জন্য নয়। - এমন মন্তব্য করেছেন সাতক্ষীরা-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মোঃ ইজ্জতুল্লাহ।
বুধবার (৩ মার্চ ) দুপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কলারোয়া উপজেলা শাখার আয়োজনে দলীয় কার্যালয় হলরুমে ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আমির মাওলানা মোঃ কামারুজ্জামান। সঞ্চালনায় ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও শিক্ষক মাওলানা আসাদুজ্জামান ফারুকী। প্রেসক্লাব, কলারোয়া রিপোর্টার্স ক্লাবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিকরা এতে অংশ নেন।

মতবিনিময় সভার শুরুতেই সাংবাদিকরা কলারোয়া উপজেলার নানা সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। রমজান মাসের অর্ধেক পার হলেও বাজার মনিটরিং না হওয়া, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নাজুক চিকিৎসা ব্যবস্থা, গ্রামীণ কাঁচা রাস্তায় চরম দুর্ভোগ, ভবনসংকটে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আসন্ন কালবৈশাখী ঝড়ের ঝুঁকি—এসব বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানান তারা। এ ছাড়া দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, আয়রন ও পানিদূষণ, যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা, নিয়মবহির্ভূতভাবে ইটভাটায় ড্রাম ট্রাকটারে মাটি বহন এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক ও চোরাচালান রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান সাংবাদিকরা। তারা বলেন, এসব বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে যেন কোনো সাংবাদিক হয়রানি বা হুমকির শিকার না হন, সে বিষয়ে নিশ্চয়তা প্রয়োজন।
সাংবাদিকরা আরও উল্লেখ করেন, সাতক্ষীরা-১ আসন দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নবঞ্চিত। কলারোয়ার দুটি প্রেসক্লাবের অবকাঠামো ঝুঁকিপূর্ণ; সামান্য ঝড়ো হাওয়ায়ও তা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। উন্নয়নের স্বার্থে জাতীয় পর্যায়ে বিষয়গুলো জোরালোভাবে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তারা। কলারোয়া উপজেলার সাংবাদিকরা নির্দিষ্ট কোন দলের নয় বরং এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ।
সাংবাদিকদের এমন প্রশ্ন ও প্রত্যাশা প্রতিশ্রুতি দিয়ে অধ্যক্ষ মোঃ ইজ্জতুল্লাহ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামাতে ইসলাম থেকে আমাকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক দিয়ে মনোনয়ন দিয়েছিল ঠিকই কিন্তু এই এক আসনে সকল মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছে এখন আমি শুধু একটি দলের প্রতিনিধি নই; এই আসনের প্রতিটি মানুষ আমার কাছে আমানত। পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলে শিক্ষা, চিকিৎসা, যাতায়াত, জলাবদ্ধতা নিরসন, মাদক ও চোরাচালান দমন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করব।
তিনি আরও বলেন, কেউ চাঁদাবাজি, অনিয়ম বা অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত থাকলে - সে যে-ই হোক - তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নির্ভয়ে লিখবেন। যদি আমিও উন্নয়নবিরোধী কোনো কাজে জড়াই, সেটিও লিখবেন। আপনাদের তথ্যের ভিত্তিতেই আমি কাজ করতে চাই।
সভা শেষে উপস্থিত সাংবাদিকরা আশা প্রকাশ করেন, উত্থাপিত সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং তালা-কলারোয়া অঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়নবঞ্চনা কাটিয়ে একটি সমন্বিত উন্নয়নের পথরেখা বাস্তবায়িত হবে।
সভায় বিশেষ অতিথি ও বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলারোয়া উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর প্রভাষক হাফিজুর রহমান, দৈনিক নতুন সকালের বার্তা’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এম. আইউব, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ বিশ্বাস, দৈনিক কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি মোশাররফ হোসেন, দৈনিক ইত্তেফাকের আরিফ মাহমুদ, কলারোয়া প্রেসক্লাবের আহবায়ক তাওফীকুর রহমান সঞ্জু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুলফিকারুজ্জামান জিল্লু, যুগ্ম আহবায়ক রাশেদুল হাসান কামরুল ও এমএ সাজেদ, এনটিভির কেএম আনিছুর রহমান।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কলারোয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সহ-সভাপতি শামসুর রহমান লালটু, সাধারণ সম্পাদক এম এ আজিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফারুকী, সুপ্রভাত ঢাকা'র বিশেষ প্রতিনিধি ফারুক হোসেন রাজ, দৈনিক সংগ্রামের খোরশেদ আলম, দৈনিক জবাবদিহি'র প্রভাষক আব্দুল আলিম, দৈনিক জনকণ্ঠের মীর রোকনুজ্জামান, দৈনিক সংবাদ সংযোগের জাহিদুর রহমান, সাংবাদিক জাকির হোসেনসহ আরও অনেকে।