সাভারের সবুজ ঘেরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে বরাবরের মতোই রমজান আসে এক ভিন্ন আমেজ নিয়ে। তবে এবারের রমজানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘সম্প্রীতির ইফতার’ নজর কেড়েছে সবার। কোনো বিশেষ রাজনৈতিক বা আঞ্চলিক পরিচয় নয়, বরং সাধারণ শিক্ষার্থীর পরিচয়ই এখানে মূখ্য হয়ে উঠেছে।
বিকেল গড়াতেই দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও হলের শিক্ষার্থীরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে গোল হয়ে বসেছেন। কেউ বাসা থেকে রান্না করে আনা খাবার ভাগ করে নিচ্ছেন, কেউবা হল থেকে আনা মুড়ি-ছোলা মাখানোতে ব্যস্ত। এই আয়োজনে যোগ দিয়েছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা এমনকি ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাও।
এই সম্প্রীতির ইফতার নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের ভাষ্যমতে, এই আয়োজন কেবল ক্ষুধা নিবারণের জন্য নয়, বরং পারস্পরিক দূরত্ব ঘুচিয়ে দেওয়ার একটি মাধ্যম।
নাহিদ হাসান বলেন, "বাসায় ফেরার টান তো থাকেই, কিন্তু ক্যাম্পাসের এই ইফতার সেই অভাব ভুলিয়ে দেয়। আমরা যখন সবাই মিলে এক থালায় ইফতার করি, তখন মনে হয় আমরা সত্যিই একটা বড় পরিবার। এখানে কেউ বড় নয়, কেউ ছোট নয়।
সাদিয়া আফরিন বলেন, "শহরের যান্ত্রিকতায় যখন মানুষে মানুষে দূরত্ব বাড়ছে, তখন জাবির এই মাঠ আমাদের সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়। আমাদের এই আয়োজনে সিনিয়র-জুনিয়র কোনো ভেদাভেদ নেই। এটাই জাবির সৌন্দর্য।আসিফ মাহমুদ, "সম্প্রীতির ইফতার মানেই হচ্ছে বিভেদ ভুলে যাওয়া। আমরা চাই এই সম্প্রীতি সারা বছর আমাদের মনে টিকে থাকুক।"
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমান সময়ে সামাজিক সংহতি বজায় রাখা খুবই জরুরি। ইফতারের এই মাহফিল সেই সংহতিকেই আরও সুদৃঢ় করছে। শুধু মুসলিম শিক্ষার্থী নয়, হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী বন্ধুরাও এই আয়োজনে শামিল হয়ে ভ্রাতৃত্বের অনন্য নজির স্থাপন করছেন।