ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ডিবি পরিচয়ে রাতে অপহরণ হওয়ার পরে সকালে ভিকটিম নিজেই ফিরে এসে থানায় হাজির হয়েছে ।
জানা যায়,গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) রাতে উপজেলার চান্দড়া গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান মিহিন (৩২) গোপালপুর বাজার হতে বাড়িতে যাওয়ার পথে চান্দড়া তালিমুল কোরআন মাদ্রাসার সামনে পৌছাঁনো মাত্র অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জন তার গতিরোধ করে মোটর সাইকেলটি ছিনিয়ে নিয়ে জোর পূর্বক মাইক্রোতে ( হায়েজ) তুলে নিয়ে যায়। এসময় মিহিনের শোর চিৎকারে আশ-পাশের লোকজন ছুটে আসলে অপহরণকারীরা নিজের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিলে তারা চলে যায়।
অভিযোগ পেয়ে পুলিশ রাতভর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কোনো প্রকার সন্ধান পায়নি। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় হঠাৎ মিহিন তার মোটরসাইকেল চালিয়ে নিজেই থানায় এসে হাজির হয়। মিহিন জানায়, অপহরণকারীরা গাড়িতে তুলে নিয়ে কাপড় দিয়ে তার চোখ বেধেঁ অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে রাতভর আটকে রাখে। ভোরে মাগুরা - ঢাকা হাইওয়ে রাস্তার কানাইপুর এলাকায় তাকে ছেড়ে দেয়। তখন সে রাস্তার পাশে তার মোটরসাইকেলটিও দেখতে পায়। পরে সেখান থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় এসে হাজির হয়।
ফরিদপুরের জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, তার কোনো সদস্য এ ঘটনার সাথে জড়িত নন।
এ বিষয়ে বুধবার দুপুরে আলফাডাঙ্গা থানায় প্রেস ব্রিফিং এ ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম জানান, মিহিনের চাচাতো ভাই মোঃ আলম সরদারের থানায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ নজরুল ইসলামের দিক-নির্দেশনায় সহকারী পুলিশ সুপার মধুখালী সার্কেল এর সহায়তায় আলফাডাঙ্গ পুলিশের একটি চৌকস দল তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।
গুপ্তচর নিয়োগ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা উদ্ধার ও আসামী গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করেন। পুলিশ এর জোর তৎপরতায় অপহরণকারীরা বুঝতে পেরে ভিকটিমকে ছেড়ে দেয়। এঘটনায় জড়িত সন্দেহ ২জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ কার্যক্রম চলমান আছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।